প্রজনন হলো জীবনের সবচেয়ে মৌলিক বৈশিষ্ট্য। এই বিষয়টি না বুঝলে পুরো অধ্যায়ই অস্পষ্ট থাকবে।
১প্রজনন কাকে বলে?
📌 সংজ্ঞা:
যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার বংশধর সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন (Reproduction) বলে।
প্রজনন প্রধানত দুই প্রকার:
i. অযৌন প্রজনন (Asexual Reproduction) — জনন কোষ ছাড়া
ii. যৌন প্রজনন (Sexual Reproduction) — জনন কোষের মিলনের মাধ্যমে
২জবাকে সহবাসী উদ্ভিদ বলা হয় কেন?
উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গ হলো ফুল। একই ফুলে বা একই দেহে যখন দুই ধরনের জনন কোষ (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপন্ন হয় তখন তাকে সহবাসী উদ্ভিদ (Monoecious) বলে।
💡 উদাহরণ:
জবা গাছের ফুলে একই সাথে পুংকেশর ও স্ত্রীকেশর থাকে। তাই জবা সহবাসী উদ্ভিদ।
🧠 মনে রাখো:
সহবাসী = এক দেহে দুই লিঙ্গ (জবা, ধুতুরা) | ভিন্নবাসী = আলাদা দেহে (শিমুল, পেঁপে)
🌸 ২. উদ্ভিদের প্রজনন ও ফুল (Concept 11.2.1)
ফুল হলো উদ্ভিদের প্রজননের মূল অঙ্গ। ফুলের প্রতিটি অংশ বোঝা মানে প্রজনন প্রক্রিয়া বোঝা।
চিত্র: একটি সম্পূর্ণ ফুলের বিভিন্ন অংশ (আদর্শ ফুল)
১ভিন্নবাসী উদ্ভিদ কাকে বলে?
কোনো উদ্ভিদ প্রজাতিতে যদি পুং ও স্ত্রী জনন কোষ আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তবে তাকে ভিন্নবাসী উদ্ভিদ (Dioecious) বলে।
উদাহরণ: শিমুল, পেঁপে — এসব গাছে পুরুষ ফুল ও স্ত্রী ফুল আলাদা গাছে থাকে।
২ফুল কাকে বলে?
উদ্ভিদের প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ ধরনের বিটপই হলো ফুল (Flower)।
৩পুষ্পাক্ষ কী?
পুষ্প বৃন্তের শীর্ষভাগে যে গোলাকার প্রসারিত অংশে ফুলের বৃতি, দল, পুংস্তবক এবং স্ত্রীস্তবক সাজানো থাকে তাকে পুষ্পাক্ষ (Thalamus/Receptacle) বলে।
৪উভলিঙ্গ ফুল কী?
যখন কোনো ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে, তখন তাকে উভলিঙ্গ ফুল (Bisexual Flower) বলে।
উদাহরণ: জবা, ধুতুরা
৫একলিঙ্গ ফুল কী?
পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলে তাকে একলিঙ্গ ফুল (Unisexual Flower) বলে।
উদাহরণ: লাউ
৬ক্রীব ফুল কাকে বলে?
যে ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই অনুপস্থিত থাকে, তাকে ক্রীব ফুল (Neuter Flower) বলে।
৭বৃতি কী?
ফুলের বাহিরের স্তবককে বৃতি (Calyx) বলে। বৃতির প্রতিটি খণ্ডকে বৃত্যাংশ বলে।
এটি ফুলের ভিতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি এবং পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করে।
৮অবৃক্ক ফুল কী?
বৃতিহীন ফুলকে অবৃক্ক ফুল বলে।
উদাহরণ: হাতীতড়ু
৯সিনজেনেসিয়াস বা যুক্তধানী কাকে বলে?
যখন পরাগধানী একত্রে থাকে, তখন তাকে যুক্তধানী (Syngenesious) বলে।
১০যোজনী কী?
পরাগধানী এবং পুংদণ্ড সংযোগকারী অংশকে যোজনী (Connective) বলে।
১১পুষ্পমঞ্জরি কী?
গাছের ছোট একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সাজানো থাকে, ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি (Inflorescence) বলে।
অনুধাবনমূলক — ফুল সংক্রান্ত
Aফুলকে রূপান্তরিত বিটপ বলা হয় কেন?
ফুলকে একটি পরিবর্তিত বা রূপান্তরিত বিটপ বলা হয়। উৎপত্তি, অঙ্গসংস্থানিক বৈশিষ্ট্য ও অন্তর্গঠনের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে প্রমাণ করা যায় যে, ফুল ও বিটপের গঠন একই প্রকার:
(i) পুষ্পাক্ষের প্রকৃতি কাণ্ডের অনুরূপ
(ii) পুষ্প পত্রের প্রকৃতি পত্রের অনুরূপ
(iii) বৃত্যাংশ ও পাপড়িতে পাতার মতো শিরাবিন্যাস ও পত্রহরিৎ থাকে
(iv) পুষ্প মুকুলের অঙ্কুর মুকুলে রূপান্তর
উপরিউক্ত এসব কারণে বলা যায় যে, ফুল একটি রূপান্তরিত বিটপ।
Bধুতুরা ফুলকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয় কেন?
যে ফুলের মধ্যে পাঁচটি স্তবকের সবগুলোই উপস্থিত থাকে, তাকে সম্পূর্ণ ফুল (Complete Flower) বলে।
একটি আদর্শ ফুলের মধ্যে পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দুটি স্তবক (পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক) প্রজননের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধুতুরা ফুলে এই পাঁচটি স্তবকই উপস্থিত থাকে। তাই ধুতুরাকে সম্পূর্ণ ফুল বলা হয়।
Cধুতুরা ফুলকে কোন লিঙ্গের ফুল বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
ধুতুরা ফুলকে উভলিঙ্গ ফুল বলা হয়। যেসব ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক দুটোই উপস্থিত থাকে তাদের উভলিঙ্গ ফুল বলে। ধুতুরা ফুলে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক উভয়ই উপস্থিত থাকার কারণে ধুতুরাকে উভলিঙ্গ ফুল বলা হয়।
Dলাউ এর ফুল কী ধরনের ফুল? ব্যাখ্যা করো।
লাউ এর ফুল একটি অসম্পূর্ণ ও একলিঙ্গ ফুল। আদর্শ ফুলে সাধারণত পাঁচ ধরনের স্তবক বা অংশ থাকে। যেমন— জবা, ধুতুরা। কোনো ফুলে পাঁচটি অংশের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকলেই তাকে অসম্পূর্ণ ফুল বলে। যেমন— লাউ, কুমড়া। এছাড়াও লাউ এর ফুলে পুংস্তবক বা স্ত্রীস্তবকের যেকোনো একটি অনুপস্থিত থাকে বলে এটি একলিঙ্গ ফুলও বলা হয়।
Eউদ্ভিদের অত্যাবশ্যকীয় স্তবক কী বোঝায়?
উদ্ভিদের প্রজনন অঙ্গে ফুলের পাঁচটি অংশ থাকতে পারে। যথা— পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক। এর মধ্যে পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক সরাসরি প্রজননে অংশ নেয়। তাই এই স্তবকদ্বয়কে ফুলের অত্যাবশ্যকীয় স্তবক (Essential Whorls) বলে।
Fঅসম্পূর্ণ ফুল বলতে কী বোঝায়?
বিভিন্ন ফুলের সাধারণত পাঁচ ধরনের স্তবক বা অংশ থাকে। যথা— পুষ্পাক্ষ, বৃতি, দলমণ্ডল, পুংস্তবক ও স্ত্রীস্তবক। তবে সব ধরনের ফুলে এই পাঁচটি অংশ উপস্থিত নাও থাকতে পারে। কোনো ফুলে এই পাঁচটি অংশের কমপক্ষে একটি অংশ অনুপস্থিত থাকলে তাকে অসম্পূর্ণ ফুল (Incomplete Flower) বলে।
Gবৃতির কাজ ব্যাখ্যা করো।
ফুলের বাহিরের স্তবককে বৃতি বলে। সবুজ বৃতি খাদ্য প্রস্তুত কাজে অংশ নেয়। এদের প্রধান কাজ ফুলের ভিতরের অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি ও পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।
তবে যখন বৃতি রং বেরঙের হয় তখন তারা পরাগায়নে সাহায্য করে, অর্থাৎ পরাগায়নের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এমন পোকামাকড়, পতঙ্গপাখি ইত্যাদিকে আকর্ষণ করে।
Hদলমণ্ডল কীভাবে প্রজননে সহায়তা করে?
দলমণ্ডল ফুলের বাহিরের দিক থেকে দ্বিতীয় স্তবক। প্রতিটি খণ্ডকে দল বা পাপড়ি বলে। এরা ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। পাপড়ি সাধারণত রঙিন হয়। উজ্জ্বল রঙের দলমণ্ডল পোকামাকড় ও পতঙ্গপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সাহায্য করে।
Iউদ্ভিদের জন্য ফুল প্রয়োজন কেন?
ফুলের মাধ্যমে উদ্ভিদের যৌন জনন ঘটে। এরা রঙিন ফুলের প্রতি পতঙ্গরা আকৃষ্ট হয়ে পরাগায়ন ঘটায়। নিষেকের পর ডিষক বীজে পরিণত হয়, ফলে উদ্ভিদের বংশধারা অক্ষুণ্ন থাকে।
Jপুংস্তবককে অত্যাবশ্যকীয় স্তবক কেন? / ফুলের তৃতীয় স্তবকের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
পুংস্তবক ফুলের তৃতীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশে পুংকেশর থাকে। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশে পরাগধানী বা পরাগ থলি থাকে।
পরাগধানীর মধ্যে উৎপন্ন হয় পরাগ বা পরাগরেণু। এই পরাগরেণু অঙ্কুরিত হলে পরাগনালি উৎপন্ন হয়। এই পোলেন টিউবে পুংজনন কোষ উৎপন্ন হয়। পুংস্তবক না থাকলে পরাগরেণু উৎপন্ন হবে না এবং পরাগরেণু না থাকলে উদ্ভিদের প্রজনন বন্ধ হয়ে যাবে। তাই পুংস্তবক ফুলের একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
Kফুলের স্ত্রীস্তবক অত্যাবশ্যকীয় স্তবক — ব্যাখ্যা করো।
স্ত্রীস্তবক বা গর্ভকেশর ফুলের কেন্দ্রে অবস্থান করে। এটি ফুলের একটি অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। স্ত্রীস্তবক এক বা একাধিক গর্ভপত্র নিয়ে গঠিত হতে পারে। একটি গর্ভপত্রের তিনটি অংশ যথা; গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড এবং গর্ভমুণ্ড। যখন কতগুলো গর্ভপত্র নিয়ে একটি স্ত্রীস্তবক গঠিত হয় এবং এরা সম্পূর্ণভাবে পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে, তখন তাকে যুক্তকার্পেলি আর আলাদা থাকলে বিযুক্তকার্পেলি বলে। তাই ফুলের স্ত্রীস্তবক অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
Lপুষ্পমঞ্জরি কাকে বলে? ব্যাখ্যা করো।
অনেক গাছের ছোট একটি শাখায় ফুলগুলো বিশেষ একটি নিয়মে সাজানো থাকে। ফুলসহ এই শাখাকে পুষ্পমঞ্জরি বলে। যে শাখায় ফুলগুলো সজ্জিত থাকে তাকে মঞ্জরিদণ্ড বলে। এ শাখার বৃদ্ধি অসীম হলে অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি ও পুষ্প উৎপাদনের ফলে বৃদ্ধি থেমে গেলে তাকে নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি বলে। পরাগায়নের জন্য পুষ্পমঞ্জরির গুরুত্ব খুব বেশি।
Mনিয়ত ও অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরির মধ্যে পার্থক্য করো।
বৈশিষ্ট্য
নিয়ত পুষ্পমঞ্জরি
অনিয়ত পুষ্পমঞ্জরি
বৃদ্ধি
নিয়ত বর্ধনশীল (অর্থাৎ শীর্ষমুকুলে বৃদ্ধি রহিত হয়ে যায়) মঞ্জরীদণ্ডযুক্ত পুষ্পমঞ্জরি
উপরের দিকে ক্রমশ কনিষ্ঠ ফুল উৎপন্ন হয়। যেমন: সরিষা।
🌼 ৩. পরাগায়ন (Concept 11.2.2)
ফুল সম্পর্কে জানার পর এবার পরাগায়ন — অর্থাৎ প্রজননের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপটি বুঝবো।
চিত্র: স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়নের পার্থক্য
১পরাগায়ন কী?
পরাগধানী হতে পরাগরেণু স্থানান্তরিত হয়ে ফুলের গর্ভমুণ্ডে পতিত হওয়াকে পরাগায়ন (Pollination) বলে।
২স্বপরাগায়ন কী?
একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে, তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন (Self Pollination) বলে।
৩পর-পরাগায়ন কাকে বলে?
একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন (Cross Pollination) বলে। যেমন: শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি উদ্ভিদে পরপরাগায়ন দেখা যায়।
৪পরাগায়নের মাধ্যম কাকে বলে?
যে মাধ্যম পরাগ বহন করে গর্ভমুণ্ড পর্যন্ত নিয়ে যায়, তাকে পরাগায়নের মাধ্যম (Agent of Pollination) বলে।
৫ফুলের পরাগরেণু কোথায় থাকে?
ফুলের পরাগরেণু পরাগধানীতে থাকে যা কিনা পুংকেশরের শীর্ষে অবস্থিত।
৬পরাগায়নের বাহকগুলোর নাম লিখ।
পরাগায়নের বাহকগুলো হলো— পতঙ্গ, বায়ু, প্রাণী ও পানি।
প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটার সম্ভাবনা থাকে স্ব-পরাগায়নে।
✅ স্ব-পরাগায়নের দুটি সুবিধা:
পরাগায়ন অনেকটা নিশ্চিত।
পরাগরেণুর অপচয় খুব কম।
Bস্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়নের মধ্যে পার্থক্য করো।
পার্থক্যকারী বিষয়
স্ব-পরাগায়ন
পর-পরাগায়ন
কোথায় ঘটে
একই ফুলের মধ্যে বা একই উদ্ভিদের দুটি ফুলের মধ্যে সংঘটিত হয়।
একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে সংঘটিত হয়।
পরাগায়নের সময়
ফুল ফোটার আগেই পরাগায়ন ঘটে।
ফুল ফোটার পর পরাগায়ন ঘটে।
পরাগ বাহক
বাহকের উপর কম নির্ভরশীল।
বাহকের উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল।
প্রজাতির বিশুদ্ধতা
প্রজাতির বিশুদ্ধতা সংরক্ষিত হয়।
প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়।
নতুন প্রকরণ
নতুন প্রকরণ সৃষ্টি হয় না।
নতুন প্রকরণ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
উদাহরণ
সরিষা, কুমড়া, ধুতুরা।
শিমুল, পেঁপে।
Cপতঙ্গপরাগী ফুল কাকে বলে?
যেসব ফুলের পরাগায়ন পতঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে তাদেরকে পতঙ্গপরাগী ফুল (Entomophilous Flower) বলে।
এসব ফুল বড়, রঙিন, সুগন্ধযুক্ত ও মধুগ্রন্থি এবং পরাগরেণু ও গর্ভমুণ্ড আঠালো হয়। যেমন: জবা, কুমড়া, সরিষা ইত্যাদি।
Dপতজ পরাগী ফুলের বৈশিষ্ট্য লিখ।
ফুল উজ্জ্বল বর্ণের হয়।
অধিকাংশ ফুলে সুগন্ধ থাকে।
ফুলের গোড়ায় মধু থাকে।
পরাগরেণু আঠালো হয়।
গর্ভমুণ্ড আঠালো হয়।
Eধানকে বায়ুপরাগী ফুল বলা হয় কেন?
বায়ুপরাগী ফুল হালকা এবং মধুগ্রন্থিহীন। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। এরা সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। এদের গর্ভমুণ্ড আঠালো এবং শাখাবিশিষ্ট, কখনো পালকের মতো। ফলে বাতাস থেকে পরাগরেণু সহজেই সংগ্রহ করে নিতে পারে। বায়ুপরাগী ফুলের সকল বৈশিষ্ট্য ধানের মধ্যে বিদ্যমান থাকায় ধানকে বায়ুপরাগী ফুল বলা হয়।
Fপানি-পরাগী ফুলের অভিযোজনিক বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
পানিপরাগী ফুল আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা।
এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে।
এসব ফুলে সুগন্ধ নেই।
স্ত্রীপুষ্পের বৃন্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে এবং স্ত্রী পুষ্পের কাছে পৌঁছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে।
Gপাতাশেওলায় পরাগায়ন হয় কীভাবে?
পাতাশেওলা পানি পরাগী ফুল। এরা আকারে ক্ষুদ্র এবং হালকা। এরা সহজেই পানিতে ভাসতে পারে। এসব ফুলে সুগন্ধ নেই। স্ত্রীপুষ্পের বৃন্ত থেকে খুলে পানিতে ভাসতে থাকে এবং স্ত্রী পুষ্পের কাছে পৌঁছালে সেখানেই পরাগায়ন ঘটে। এভাবে পানির মাধ্যমে পাতাশেওলার পরাগায়ন হয়।
Hপরপরাগায়নে পরাগরেণুর অপচয় বেশি কেন?
একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। পর-পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়। বাহক নির্ভর হওয়ায় পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না এবং প্রচুর পরাগরেণু অপচয় হয়। ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
Iপেঁপেতে কোন ধরনের পরাগায়ন ঘটে? ব্যাখ্যা করো।
পেঁপেতে পরপরাগায়ন হয়ে থাকে কেননা পেঁপের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটে। পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়। বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। একারণে পেঁপে গাছে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
Jপরপরাগায়নে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয় কেন? / পরপরাগায়নে প্রজাতির বিশুদ্ধতাকে দুর্বল করে কেন?
পরপরাগায়নে দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে। ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয় এবং বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। একারণে এসব গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়। পরপরাগায়নের ফলে প্রজাতির বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
Kসহবাসী উদ্ভিদ ভিন্নবাসী উদ্ভিদ থেকে আলাদা কেন?
উচ্চ শ্রেণির অধিকাংশ উদ্ভিদে দুটি বিপরীতধর্মী জননকোষ পরস্পরের সাথে মিলিত হয়। এদের একটি পুংজনন কোষ অন্যটিকে স্ত্রীজনন কোষ বলে। উদ্ভিদে এই জননকোষ একই দেহে বা আলাদা দেহে সৃষ্টি হয়। যখন দুধরনের জননকোষ আলাদা দেহে সৃষ্টি হয় তখন সেই উদ্ভিদকে ভিন্নবাসী (dioecious) উদ্ভিদ বলে।
🔬 ৪. নিষেক (Concept 11.2.3)
পরাগায়নের পর নিষেক হলো পরবর্তী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যা থেকে বীজ ও ফল তৈরি হয়।
১সস্য কাকে বলে?
সস্য হলো বীজের একটি অংশ। উদ্ভিদের নিষেকের সময় যে দুটি পুংজনন কোষ ক্ষণথলিতে মুক্ত হয় তার একটি পুংজনন কোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোটটি গঠন করলেও অপরটি গৌণ কেন্দ্রিকার সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্য কোষ সৃষ্টি করে। ক্রমায়মে গৌণ কেন্দ্রিকার সাথে মিলিত হয়ে সস্যকলা উৎপন্ন হয় এবং বীজের একটি অংশে পরিণত হয়।
২দ্বি-নিষেক কী?
উদ্ভিদের নিষেকের সময় প্রায় একই সময়ে দুটি পুংজনন কোষের একটি ডিম্বাণু ও অপরটি গৌণ কেন্দ্রিকার সাথে মিলিত হয়। এ ঘটনাকে দ্বি-নিষেক (Double Fertilization) বলা হয়।
৩কীভাবে শস্যকলার উৎপত্তি ঘটে? / দ্বিনিষেকের ফলে কীভাবে 3n কোষের সৃষ্টি হয়?
পরাগায়নের ফলে পরিণত পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে (Style) পতিত হয়। এরপর পরাগনালিকা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে গর্ভদণ্ড ভেদ করে এবং কিছু তরল পদার্থ শোষণ করে স্ফীত হয়ে ওঠে। স্ফীত অগ্রভাগটি ফোটে পুংজনন কোষ দুটি ক্ষণথলিতে মুক্ত হয়।
⚙️ দ্বি-নিষেক প্রক্রিয়া:
এর একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট (2n) তৈরি করে।
অপর পুংজনন কোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে এন্ডোস্পার্ম (Endosperm cells) সৃষ্টি করে → ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্য কোষ।
প্রায় একই সময়ে দুটি পুংজনন কোষের একটি ডিম্বাণু এবং অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হওয়ার এই ঘটনাকে দ্বিনিষেক বলা হয়।
৪নিষেকের ফলে ডিম্বাশয়ের কোন অংশ থেকে ফলের কোন অংশ উৎপন্ন হয় তা লেখ।
ডিম্বাশয় থেকে ফলের উৎপত্তি:
i. ডিম্বাশয় (গর্ভাশয়) → ফল
ii. ডিম্বাশয় তৃক → ফল তৃক
৫আপেলকে অপ্রকৃত ফল বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
গর্ভাশয়সহ ফুলের অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে যখন ফলে পরিণত হয় তখন তাকে অপ্রকৃত ফল বলে। আপেলের ফুলের গর্ভাশয়সহ অন্যান্য অংশ পুষ্ট হয়ে ফলে পরিণত হয় তাই তাকে অপ্রকৃত ফল (False Fruit) বলে।
৬নিষেকের তাৎপর্য লিখ।
নিষেকের ফলে স্ত্রী তবকের ডিষক্কোষগুলো বীজে রূপান্তরিত হয়।
নিষিক্ত বীজ উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি করে।
উদ্ভিদের নিষেক দ্বারা স্রষ্টা ফল ও বীজ তৈরি করে প্রাণিকুল ও মানবজাতিকে বাঁচিয়ে এসেছে।
নিষেকের ফলে গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।
📝 ৫. জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর — সম্পূর্ণ তালিকা
ℹ️ নোট:
উপরের সকল সেকশনে জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর সংযুক্ত রয়েছে। নিচে কিছু অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো।
১ফুলের পাপড়ি কীভাবে পরাগায়নে অংশগ্রহণ করে?
দলমণ্ডলের প্রতিটি খণ্ডকে দল বা পাপড়ি বলে। পাপড়ি সাধারণত রঙিন হয়। এরা ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। উজ্জ্বল রঙের দলমণ্ডল পোকামাকড় ও পতঙ্গপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
২ফুলের পরাগরেণু কোথায় তৈরি হয়?
ফুলের পরাগরেণু পরাগধানীতে তৈরি হয় যা কিনা পুংকেশরের শীর্ষে অবস্থিত।
💡 ৬. অনুধাবনমূলক — অতিরিক্ত গুরুত্বপূর্ণ
Aপেঁপে গাছে কোন ধরনের পরাগায়ন ঘটে? ব্যাখ্যা করো। / পেঁপে গাছে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
পেঁপেতে পরপরাগায়ন হয়ে থাকে কেননা পেঁপের ক্ষেত্রে দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটে। পর-পরাগায়নের ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়।
বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়। একারণে পেঁপে গাছে বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়।
Bপরপরাগায়নে নতুন ভ্যারাইটি সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে কেন?
পরপরাগায়নে একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটে। ফলে দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে বলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। একারণে পরপরাগায়নে নতুন ভ্যারাইটি বা প্রকরণ সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে।
🏆 ৭. Comprehensive Question — প্রশ্ন নং ১ (ফুল, নিষেক)
চিত্র-Z: Q = পুষ্পাক্ষ, D = দলমণ্ডল (পাপড়ি/দল), P = পরাগধানী (পুংকেশর), S = গর্ভাশয় (স্ত্রীস্তবক)
📋 প্রশ্ন নং-১ | প্রজনন অঙ্গ: ফুল, নিষেক
(i) চিত্র-Z এর Q, D, P, S ব্যবহার করে একটি উদ্ভিদ অংশের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
প্রয়োগমূলক | ৩ নম্বর
✅ উত্তর (i):
উদ্দীপকের উল্লিখিত চিত্র-Z-এর Q, D, P, S হলো যথাক্রমে পুষ্পাক্ষ (Q), দলমণ্ডল (D), পরাগধানী/পুংকেশর (P), এবং গর্ভাশয়/স্ত্রীস্তবক (S)। এ অংশগুলো একটি সম্পূর্ণ ফুলে বিদ্যমান। চিত্রটি উপরে অঙ্কিত হয়েছে। পুষ্পাক্ষে বিভিন্ন স্তবক সজ্জিত থাকে।
(ii) চিত্র-Z এর D কীভাবে পরাগায়নে সাহায্য করে? ব্যাখ্যা করো।
প্রয়োগমূলক | ২ নম্বর
✅ উত্তর (ii):
উদ্দীপকের চিত্র-Z-এর D চিহ্নিত অংশটি হলো দলমণ্ডল। ফুলের পাঁচটি স্তবকের মধ্যে দলমণ্ডল হলো বাইরের থেকে দ্বিতীয় স্তবক। প্রতিটি খণ্ডকে দল বা পাপড়ি বলে।
এরা ফুলের অত্যাবশ্যকীয় অংশগুলোকে রোদ, বৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।
উজ্জ্বল রঙের দলমণ্ডল পোকামাকড় ও পতঙ্গপাখি আকর্ষণ করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
অনেক সময় কোনো পোকামাকড় ফুলের পাপড়িতে বসে মধু আহরণ করে এবং অজান্তে পরাগায়নে অংশ নেয়।
(iii) চিত্র-Z এর S অংশে নিষিক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো।
প্রয়োগমূলক | ২ নম্বর
✅ উত্তর (iii):
উদ্দীপকের চিত্র-Z-এর S হলো গর্ভাশয় (Ovary)। গর্ভাশয়ের ভিতরে এক বা একাধিক ডিষক বিশেষ নিয়মে সজ্জিত থাকে। এসব ডিষকের মধ্যে স্ত্রী প্রজনন কোষ বা ডিম্বাণু সৃষ্টি হয়। এই ডিম্বাণুগুলো সরাসরি জনন কাজে অংশগ্রহণ করে।
নিষেক প্রক্রিয়া:
পরাগায়নের ফলে পরিণত পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পতিত হয় → পরাগনালিকা বৃদ্ধি → গর্ভদণ্ড ভেদ করে → স্ফীত হয় → ফোটে দুটি পুংজনন কোষ মুক্ত হয় → একটি ডিম্বাণুর সাথে মিলে জাইগোট (2n) → অপরটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলে সস্য (3n) → দ্বি-নিষেক (Double Fertilization)
(iv) চিত্র-Z এর P চিহ্নিত অংশটি যে স্তবকে অবস্থিত তার ব্যাখ্যা করো।
প্রয়োগমূলক | ২ নম্বর
✅ উত্তর (iv):
চিত্র-Z-এর P হলো পরাগধানী যা পুংকেশরে অবস্থিত। পুংস্তবক (Androecium) ফুলের তৃতীয় এবং অত্যাবশ্যকীয় স্তবক। এর প্রতিটি অংশে পুংকেশর থাকে। একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশে পরাগধানী বা পরাগ থলি থাকে। পরাগধানীর মধ্যে উৎপন্ন হয় পরাগ বা পরাগরেণু।
(v) 'P' ও 'S' এর সংযোগের পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক | ৪ নম্বর
✅ উত্তর (v):
একটি পুংস্তবকে এক বা একাধিক পুংকেশর থাকতে পারে। পুংকেশরের দণ্ডের মতো অংশে পুংদণ্ড এবং শীর্ষের থলির মতো অংশে পরাগধানী বা পরাগ থলি থাকে।
অন্যদিকে স্ত্রীস্তবকের গর্ভপত্র, গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড ও গর্ভমুণ্ড নিয়ে গঠিত হয়।
উপরিউক্ত দুইটি স্তবক উৎপন্ন পুংজনন কোষ ও স্ত্রীজনন কোষের মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয় এবং অবশেষে একটি পূর্ণাঙ্গ জায়গায় পরিণত হয় (এই জায়গায় বীজপত্র, ভ্রূণকাণ্ড ও ভ্রূণমূল থাকে)। পরবর্তীতে ভ্রূণসহ ডিষকটি বীজে পরিণত হয় এবং গর্ভাশয়টি ফলে পরিণত হয়।
P ও S এর সংযোগের পরিণতি:
১. নিষেক: পুংজনন কোষ ও স্ত্রীজনন কোষের মিলনে জাইগোট (2n) গঠন
২. বীজ সৃষ্টি: জাইগোট থেকে ভ্রূণ → ভ্রূণ বীজে পরিণত
৩. ফল সৃষ্টি: নিষেকের পর গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়
৪. বীজের বিস্তার: বিভিন্ন উপায়ে (পাখি, প্রাণী, হাওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে) বীজ ছড়িয়ে পড়ে
৫. নতুন উদ্ভিদ: উপযুক্ত পরিবেশে বীজ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়
(vi) উদ্ভিদের বংশবিস্তারে P ও S এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক | ৪ নম্বর
✅ উত্তর (vi):
উদ্দীপকে P হলো পরাগধানী (পুংকেশর) এবং S হলো স্ত্রী গ্যামেটোফাইট। নিচে উদ্ভিদের বংশবিস্তারে পুং গ্যামেট ও স্ত্রী গ্যামেটের ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হলো—
একটি পুংজনন কোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট তৈরি করে এবং অপর পুংজনন কোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড (3n) সস্য কোষের সৃষ্টি করে।
জাইগোটটি হচ্ছে স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষের সৃষ্টি হয়। জাইগোটের বিভাজন অনুপ্রস্থে ঘটে। ডিষকর্ষের দিকের কোষটিকে ভিত্তি কোষ এবং ভ্রূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। একই সাথে এ কোষ দুটির বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি জড়ে পরিণত হয়। ক্রমশ বীজপত্র, ভ্রূণমূল ও ভ্রূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমাশয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি ট্রিপ্লয়েড সস্যটিস্যু উৎপন্ন করে। পরিণত অবস্থায় ডিষকটি সস্য ও ভ্রূণসহ বীজে রূপান্তরিত হয়।
উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে উদ্দীপকের P তথা পুংগ্যামিট এবং S তথা স্ত্রীগ্যামিটের সংযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
(vii) জীবজগতের অস্তিত্ব রক্ষায় 'S' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক | ৪ নম্বর
✅ উত্তর (vii):
উদ্দীপকে S হলো— ফুলের গর্ভাশয় যা উদ্ভিদের অন্যতম প্রধান স্ত্রী প্রজনন অঙ্গ, যেখানে বীজ তৈরি হয়। গর্ভাশয় জীব জগতের অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
১. বীজ সৃষ্টি: নিষেকের স্থান: গর্ভাশয় হল সেই স্থান যেখানে পুংজনন কোষ (পরাগরেণু) এবং স্ত্রীজনন কোষ (ডিম্বাণু) মিলিত হয়ে নিষেক ঘটে। ভ্রূণ বিকাশ: নিষেকের ফলে যে জাইগোট সৃষ্টি হয়, তা গর্ভাশয়েই ভ্রূণে পরিণত হয়। এই ভ্রূণ পরবর্তীতে বীজে পরিণত হয়।
২. বীজের সুরক্ষা: বাহ্যিক আবরণ: গর্ভাশয় বীজকে একটি শক্ত বাহ্যিক আবরণ দিয়ে সুরক্ষিত করে। এই আবরণ বীজকে শারীরিক ক্ষতি, রোগবালাই এবং প্রতিকূল পরিবেশ থেকে রক্ষা করে। পুষ্টি সরবরাহ: গর্ভাশয় বীজকে বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে।
৩. বীজের বিস্তার: ফল সৃষ্টি: পরিপক্ক গর্ভাশয় একটি ফলে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্রকার ফলের বিস্তারের ব্যবস্থা থাকে।
৪. নতুন প্রজাতির উদ্ভব: জিনগত বৈচিত্র্য: নিষেকের সময় বিভিন্ন উদ্ভিদের জিন মিশ্রিত হয়।
পরিশেষে বলা যায় যে, ফুলের গর্ভাশয় উদ্ভিদের প্রজননের কেন্দ্রবিন্দু। এটি বীজ সৃষ্টি, বীজের সুরক্ষা, বীজের বিস্তার এবং নতুন প্রজাতির উত্থবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে গর্ভাশয় জীব জগতের অস্তিত্ব রক্ষায় এক অপরিহার্য অঙ্গ।
(viii) চিত্র-Z এর Q, D, P, S এর সমন্বিত কার্যক্রম নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টিতে সহায়তা করে— বিশ্লেষণ করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক | ৪ নম্বর
✅ উত্তর (viii):
উদ্দীপকের উল্লিখিত চিত্র-Z-এর Q, D, P, S হলো যথাক্রমে বৃতি, দলমণ্ডল, পরাগধানী (পুংকেশর) ও গর্ভাশয় (স্ত্রীস্তবক)। এদের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো:
বৃতি ও দলমণ্ডল: রক্ষা: ফুলের মুকুল অবস্থায় বৃতি ফুলের অন্যান্য অংশকে রক্ষা করে। আকর্ষণ: দলমণ্ডলের উজ্জ্বল রং ও সুগন্ধ পতঙ্গ, পাখি বা অন্যান্য প্রাণীকে আকৃষ্ট করে এবং পরাগায়নে সহায়তা করে।
পুংকেশর: পরাগরেণু উৎপাদন: পুংকেশরের পরাগধানীতে পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। এই পরাগরেণুগুলোই পুরুষ জনন কোষ বহন করে।
গর্ভাশয়: ডিম্বাণু উৎপাদন: গর্ভাশয়ে ডিম্বক থাকে যেখানে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় এবং নিষেকের স্থান হিসেবে কাজ করে।
নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া:
নিষেক: পুংজনন কোষ ও স্ত্রী জনন কোষের মিলনকে নিষেক বলে। নিষেকের ফলে একটি জাইগোট সৃষ্টি হয়।
বীজ সৃষ্টি: জাইগোট ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ভ্রূণে পরিণত হয় এবং ডিষকটি বীজে পরিণত হয়।
ফল সৃষ্টি: নিষেকের পর গর্ভাশয় ফলে পরিণত হয়।
বীজের বিস্তার: বিভিন্ন উপায়ে (পাখি, প্রাণী, হাওয়া ইত্যাদির মাধ্যমে) বীজ ছড়িয়ে পড়ে।
নতুন উদ্ভিদ: উপযুক্ত পরিবেশে পড়ে বীজ থেকে নতুন উদ্ভিদ জন্মায়।
সুতরাং, ফুলের বিভিন্ন অংশের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে পরাগায়ন ও নিষেক ঘটে এবং নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। বৃতি ও দলমণ্ডল পরাগায়নে সহায়তা করে, পুংকেশর পুরুষ জনন কোষ উৎপন্ন করে এবং গর্ভাশয় স্ত্রী জনন কোষ উৎপন্ন করে এবং নিষেকের স্থান হিসেবে কাজ করে। এই প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের বংশবিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
🏆 ৮. Comprehensive Question — প্রশ্ন নং ২ (পরাগায়ন)
(i) C থেকে কীভাবে গ্যামেট সৃষ্টি হয়? বর্ণনা করো।
প্রয়োগমূলক | ৩ নম্বর
✅ উত্তর (i):
উদ্দীপকের উল্লিখিত C হলো পরাগধানী। পরাগধানীর মধ্যে পরাগ বা পরাগরেণু উৎপন্ন হয়। পরাগরেণু অঙ্কুরিত হলে পরাগনালি উৎপন্ন হয়।
পুং গ্যামেটোফাইট উৎপত্তির বিভিন্ন ধাপ:
পরাগ মাতৃকোষটি (2n) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি অপত্য পরাগ কোষ (n) সৃষ্টি করে → পূর্ণতাপ্রাপ্তির পর পরাগরেণুতে থাকা অবস্থায় পরাগরেণুর নিউক্লিয়াস বা কেন্দ্রিকা মাইটোটিক পদ্ধতিতে বিভাজিত হয় → এ বিভাজনে একটি বড় কোষ এবং একটি ছোট কোষ সৃষ্টি হয় → বড় কোষটিকে নালিকোষ এবং ছোট কোষটিকে জেনারেটিভ কোষ বলে → নালিকোষ বড় হয়ে পরাগনালি এবং জেনারেটিভ কোষটি বিভাজিত হয়ে দুটি পুংজনন কোষ (Male gametes) উৎপন্ন করে → এভাবে পুংস্তবকে পুং গ্যামেটোফাইট উৎপন্ন হয়।
(ii) চিত্র-X কীভাবে উৎপন্ন হয়? বর্ণনা করো।
প্রয়োগমূলক | ৩ নম্বর
✅ উত্তর (ii):
উদ্দীপকের চিত্র-X হলো পুংকেশর। পুংকেশর উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া:
সাধারণত ভ্রূণেপেক্ষ কলায় ডিষক রঞ্জের কাছাকাছি একটি কোষ আকারে সামান্য বড় হয়। এর প্রোটোপ্লাজম ঘন এবং নিউক্লিয়াসটি তুলনামূলকভাবে বড়। এ কোষটি মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ সৃষ্টি করে। সবনিম্ন কোষটি ছাড়া বাকি তিনটি কোষ বিনষ্ট হয়ে যায়। সবনিম্ন এই বড় কোষটি বৃদ্ধি পেয়ে ক্রমশ ভ্রূণথলিতে পরিণত হয়। এ কোষটির নিউক্লিয়াস হ্যাপ্লয়েড (n)। এই নিউক্লিয়াসটি বিভক্ত হয়ে দুটি নিউক্লিয়াসে পরিণত হয়। এ নিউক্লিয়াস দুটি ভ্রূণথলির দুই মেরুতে অবস্থান নেয়। এরপর এ দুটি নিউক্লিয়াসের প্রতিটি পুনরায় দুবার করে বিভক্ত হয়ে চারটি করে নিউক্লিয়াস সৃষ্টি করে।
(iii) চিত্র-R এর 'M' ও 'N' প্রক্রিয়ার মধ্যে একটিতে বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন হলেও অন্যটিতে পরিবর্তন হয় না— বিশ্লেষণ করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক | ৪ নম্বর
✅ উত্তর (iii):
উদ্দীপকের চিত্র-R এর 'M' ও 'N' দ্বারা স্বপরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন প্রক্রিয়াকে বোঝানো হয়েছে।
একই ফুলে বা একই গাছের ভিন্ন দুটি ফুলের মধ্যে যখন পরাগায়ন ঘটে তখন তাকে স্ব-পরাগায়ন বলে। যেমন— সরিষা, ধুতুরা ইত্যাদিতে স্ব-পরাগায়ন ঘটে।
আবার একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে যখন পরাগ সংযোগ ঘটে তখন তাকে পর-পরাগায়ন বলে। শিমুল, পেঁপে ইত্যাদি গাছে ফুলে পর-পরাগায়ন ঘটে।
স্ব-পরাগায়নের ফলে একই প্রজাতির নতুন উদ্ভিদ উৎপন্ন হয়। তাতে বৈশিষ্ট্যের কোন পরিবর্তন আসে না, বলে প্রজাতিক গুণাগুণও অক্ষুণ্ন থাকে। এভাবেই কোনো একটি প্রজাতির বিশুদ্ধতা বজায় থাকে। তবে নতুন সৃষ্ট গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং অতিরেই প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে। কিন্তু পর-পরাগায়নে দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে। তাই এর ফলে যে বীজ উৎপন্ন হয় তা নতুন গুণসম্পন্ন হয়। এ বীজ থেকে যে গাছ জন্মায় তাও নতুন গুণসম্পন্ন হয়। ফলে নতুন চরিত্রের সৃষ্টি হয়, বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায়, বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয় এবং নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হয়।
উপরোক্ত আলোচনা হতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, পরপরাগায়ন জীবের অস্তিত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
(iv) চিত্র-R এর 'M' ও 'N' উভয় প্রক্রিয়ারই সুবিধা ও অসুবিধা রয়েছে— বিশ্লেষণ করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক | ৪ নম্বর
✅ উত্তর (iv):
উদ্দীপকের চিত্র-R এর 'M' ও 'N' হলো যথাক্রমে স্ব-পরাগায়ন ও পর-পরাগায়ন। উভয় প্রক্রিয়াতেই কিছু সুবিধা ও অসুবিধা বিদ্যমান।
ক্রম
বিষয়
স্ব-পরাগায়ন (M)
পর-পরাগায়ন (N)
১.
পরাগায়ন
একই ফুল বা একই গাছের দুটি ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে।
একই জাতের দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে।
২.
নতুন চরিত্র
স্ব-পরাগায়নে সৃষ্ট উদ্ভিদে নতুন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে না।
কিন্তু পর-পরাগায়নে নতুন সৃষ্ট উদ্ভিদে নতুন চরিত্রের আবির্ভাব ঘটে।
৩.
জিনগত বৈচিত্র্য
স্ব-পরাগায়নে জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে।
পক্ষান্তরে পর-পরাগায়নে নতুন বৈচিত্র্যের সৃষ্টি হয়।
৪.
পরাগরেণুর অপচয়
স্ব-পরাগায়নে পরাগরেণুর অপচয় কম হয় এবং পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয় না।
অপরদিকে পর-পরাগায়নে পরাগরেণুর অপচয় বেশি এবং পরাগায়নের জন্য বাহকের উপর নির্ভর করতে হয়।
৫.
প্রজাতির গুণাবলি
স্ব-পরাগায়নে সৃষ্ট প্রজাতির গুণাবলি অক্ষুণ্ন থাকে, ফলে কোনো নতুন উপ-প্রজাতি বা প্রকরণ সৃষ্টি হয় না।
অপরপক্ষে, পর-পরাগায়নে সৃষ্ট উদ্ভিদের প্রজাতিক গুণাবলি পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন উপ-প্রজাতি বা প্রকরণ সৃষ্টি হয়।
৬.
প্রজাতির বিলুপ্তি
স্ব-পরাগায়নে সৃষ্ট নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায় এবং জীবনীশক্তি হ্রাস পায়। ফলে প্রজাতির বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আবার, পর-পরাগায়নে সৃষ্ট নতুন গাছের অভিযোজন ক্ষমতা ও জীবনীশক্তি বৃদ্ধি পায়। তাই প্রজাতির বিলুপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
(v) উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-X এবং চিত্র-Y এর A ও B উদ্ভিদের পরিস্ফুটনে কী ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো।
উচ্চতর দক্ষতামূলক | ৪ নম্বর
✅ উত্তর (v):
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-X এবং চিত্র-Y এর "A" দ্বারা গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে একটি পুং গ্যামেটের মিলন তথা সস্যটিস্যু এবং "B" দ্বারা ডিম্বাণুর সাথে অপর পুং গ্যামেটের মিলন তথা জাইগোটকে বোঝানো হয়েছে। দ্বিনিষেক প্রক্রিয়ায় একই সময়ে দুটি পুং গ্যামেটের একটি গৌণ নিউক্লিয়াস ও অপরটি ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়। উদ্ভিদের পরিস্ফুটনে জাইগোট ও সস্যটিস্যু বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
ভ্রূণথলির অন্তর্ভাগের একটি পুংজনন কোষ ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট সৃষ্টি করে এবং অপর পুংজনন কোষটি গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হয়ে ট্রিপ্লয়েড সস্য কোষের সৃষ্টি করে। জাইগোটটি হচ্ছে স্পোরোফাইটের প্রথম কোষ। এর প্রথম বিভাজনে দুটি কোষের সৃষ্টি হয়। একইসাথে সস্যের পরিস্ফুটনও ঘটতে শুরু করে।
জাইগোটের অনুপ্রস্থ বিভাজন ঘটে। ডিষকর্ষের দিকের কোষকে ভিত্তি কোষ এবং ভ্রূণথলির কেন্দ্রের দিকের কোষটিকে এপিক্যাল কোষ বলা হয়। একই সাথে এ কোষ দুটির বিভাজন চলতে থাকে। ধীরে ধীরে এপিক্যাল কোষটি জড়ে পরিণত হয়। ক্রমশ বীজপত্র, ভ্রূণমূল ও ভ্রূণকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ক্রমাশয়ে গৌণ নিউক্লিয়াসটি ট্রিপ্লয়েড সস্যটিস্যু উৎপন্ন করে। পরিণত অবস্থায় ডিষকটি সস্য ও ভ্রূণসহ বীজে রূপান্তরিত হয়। এ বীজ অঙ্কুরিত হয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ভিদের পরিস্ফুটন ঘটে।
পরিশেষে বলা যায়, জাইগোট ও সস্যটিস্যু উদ্ভিদের পরিস্ফুটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
📖 ৯. শব্দকোষ (Vocabulary)
প্রজনন
Reproduction
যে প্রক্রিয়ায় কোনো জীব তার বংশধর সৃষ্টি করে।
ফুল
Flower
উদ্ভিদের প্রজননের জন্য রূপান্তরিত বিশেষ বিটপ।
পুষ্পাক্ষ
Thalamus / Receptacle
পুষ্পবৃন্তের শীর্ষে গোলাকার প্রসারিত অংশ যেখানে স্তবকগুলো সাজানো।
বৃতি
Calyx
ফুলের বাহিরের স্তবক যা ভেতরের অংশ রক্ষা করে।
দলমণ্ডল
Corolla
পাপড়ি নিয়ে গঠিত বাইরের দ্বিতীয় স্তবক।
পুংস্তবক
Androecium
পুংকেশর নিয়ে গঠিত অত্যাবশ্যকীয় স্তবক।
স্ত্রীস্তবক / গর্ভকেশর
Gynoecium / Pistil
গর্ভাশয়, গর্ভদণ্ড, গর্ভমুণ্ড নিয়ে গঠিত স্ত্রী অঙ্গ।
পরাগায়ন
Pollination
পরাগধানী থেকে পরাগরেণু গর্ভমুণ্ডে পৌঁছানোর প্রক্রিয়া।
স্ব-পরাগায়ন
Self Pollination
একই ফুলে বা একই গাছের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন।
পর-পরাগায়ন
Cross Pollination
ভিন্ন দুটি উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে পরাগায়ন।
দ্বি-নিষেক
Double Fertilization
একই সময়ে দুটি পুংজনন কোষ যথাক্রমে ডিম্বাণু ও গৌণ নিউক্লিয়াসের সাথে মিলিত হওয়া।
সস্য
Endosperm
ট্রিপ্লয়েড (3n) কোষ থেকে গঠিত বীজের পুষ্টিকর অংশ।