বংশগতি হলো জীববিজ্ঞানের সেই অধ্যায় যেখানে আমরা জানব কীভাবে বৈশিষ্ট্য এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয় এবং DNA, জিন, ক্রোমোজোমের ভূমিকা কী।
[দি.বো.'২৩]প্রশ্ন-১। বংশগতিবিদ্যা কাকে বলে?
📖 সংজ্ঞা — বংশগতিবিদ্যা (Genetics)
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের
বংশ ধারা ও বৈশিষ্ট্যের অর্জন বা সন্তান-সন্ততির বৈশিষ্ট্যের মাতা-পিতা থেকে স্থানান্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তাকে
বংশগতিবিদ্যা (Genetics) বলে।
💡 মনে রাখো
বংশগতিবিদ্যাকে Genetics বলা হয়। এটি জীববিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা।
[চ.বো.'২২; কু.বো.'২১; য.বো.'২০; ব.বো.'২৩]প্রশ্ন-২। বংশগতি কাকে বলে? / Heredity কী?
📖 সংজ্ঞা — বংশগতি (Heredity)
পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে সন্তান-সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াই হলো বংশগতি।
🧠 সহজ কথায়
ধান গাছের বীজ থেকে ধান হয়, আমের বীজ থেকে আম হয় — এটাই বংশগতির মূল ধারণা।
[চ.বো.'১৬]প্রশ্ন-৩। DNA-এর পূর্ণরূপ কী?
📖 DNA-এর পূর্ণরূপ
DNA হলো
ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড (Deoxyribо Nucleic Acid)।
[চ.বো.'১৮]প্রশ্ন-৪। DNA অণুর নাইট্রোজেন বেস কি কি?
📖 DNA-এর নাইট্রোজেন বেস (৪টি)
DNA অণুর নাইট্রোজেন বেস হলো:
- 🔵 অ্যাডিনিন (Adenine — A)
- 🟢 গুয়ানিন (Guanine — G)
- 🔴 সাইটোসিন (Cytosine — C)
- 🟡 থাইমিন (Thymine — T)
🧠 মেমোরি ট্রিক
"A G C T" মনে রাখো — "A Good Cat Thinks" — অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন, থাইমিন।
🔗 বেস পেয়ার নিয়ম (Chargaff's Rule)
A ↔ T (দুটি হাইড্রোজেন বন্ধন)
G ≡ C (তিনটি হাইড্রোজেন বন্ধন)
[য.বো.'২২; য.বো.'২১; রা.বো.'১৯]প্রশ্ন-৫। নিউক্লিওটাইড কী? / কাকে বলে?
📖 সংজ্ঞা — নিউক্লিওটাইড (Nucleotide)
৫ কার্বনবিশিষ্ট শর্করা (পেন্টোজ সুগার), নাইট্রোজেন বেস এবং
অজৈব ফসফেট — এই তিনটি উপাদানকে একত্রে
নিউক্লিওটাইড বলে।
পেন্টোজ সুগার
+
নাইট্রোজেন বেস
+
ফসফেট
→
নিউক্লিওটাইড
[চ.বো.'২১]প্রশ্ন-৬। নিউক্লিওসাইড কী?
📖 সংজ্ঞা — নিউক্লিওসাইড (Nucleoside)
এক অণু নাইট্রোজেনঘটিত ক্ষারক ও এক অণু পেন্টোজ সুগারযুক্ত হয়ে গঠিত
গ্লাইকোসাইড যৌগকে নিউক্লিওসাইড বলা হয়।
⚠️ পার্থক্য মনে রাখো
নিউক্লিওসাইড = পেন্টোজ সুগার + নাইট্রোজেন বেস (ফসফেট নেই)
নিউক্লিওটাইড = পেন্টোজ সুগার + নাইট্রোজেন বেস + ফসফেট
[কু. বো.'১৯]প্রশ্ন-৭। পিউরিন কী?
📖 পিউরিন (Purine)
অ্যাডিনিন (A) ও
গুয়ানিন (G) বেস হলো
পিউরিন।
🧠 মনে রাখো
"AG = PURine" — A এবং G — দুটি রিং আছে → পিউরিন
[য.বো.'১৯]প্রশ্ন-৮। পাইরিমিডিন কী?
📖 পাইরিমিডিন (Pyrimidine)
সাইটোসিন (C) ও
থাইমিন (T)-কে
পাইরিমিডিন বলা হয়।
🧠 মনে রাখো
"CT = PYrimidine" — C এবং T — একটি রিং আছে → পাইরিমিডিন
[চ.বো.'২৫; দি.বো.'২৫; ঢা.বো.'২৩, '২১]প্রশ্ন-৯। জিন কী? / জিন কাকে বলে?
📖 সংজ্ঞা — জিন (Gene)
জীবের সব
অদৃশ্য ও দৃশ্যমান লক্ষণ বা বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একককের নাম
জিন।
💡 বিস্তারিত
জিনগুলো সাধারণ নিয়মে ক্রোমোজোমের DNA অণুসূত্রের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত পৃথক ও রৈখিকভাবে পরপর সাজানো থাকে। একটি জিন একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য থাকে। জিনকেই বংশগতির ধারক বলা হয়।
[য.বো.'২৫,'২০; ঢা.বো. '২৩,'২১,'১৯; রা.বো.'২২,'১৫; সি.বো.'২২,'২১; কু.বো.'২০,'১৭]প্রশ্ন-১০। লোকাস কী? / লোকাস কাকে বলে?
📖 সংজ্ঞা — লোকাস (Locus)
ক্রোমোজোমের যে স্থানে জিন অবস্থান করে, তাকে লোকাস বলে।
🧠 সহজ উপমা
লোকাস = জিনের "ঠিকানা" বা "আসন" — যেমন বাড়ির নির্দিষ্ট ঘর।
[চ.বো.'১৫]প্রশ্ন-১১। RNA-এর পূর্ণরূপ কী?
📖 RNA-এর পূর্ণরূপ
RNA-এর পূর্ণরূপ —
Ribonucleic Acid (রাইবোনিউক্লিক এসিড)।
[ঢা.বো.'১৭; দি.বো.'১৬]প্রশ্ন-১২। প্রকট বৈশিষ্ট্য কী?
📖 প্রকট বৈশিষ্ট্য (Dominant Character)
মাতা-পিতা থেকে প্রথম বংশধরের জীবের যে বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়, তাকে প্রকট বৈশিষ্ট্য বলে।
🧠 উদাহরণ
মটরশুঁটিতে লম্বা (T) বৈশিষ্ট্য খাটো (t)-এর উপর প্রকট।
[রা.বো.'১৭]প্রশ্ন-১৩। প্রচ্ছন্ন জিন কাকে বলে?
📖 প্রচ্ছন্ন জিন (Recessive Gene)
যে জিনের বৈশিষ্ট্য প্রথম বংশধরে প্রকাশ পায় না, তবে
দ্বিতীয় বংশধরের এক-চতুর্থাংশ জীবে প্রকাশ পায়, তাকে প্রচ্ছন্ন জিন বলে।
🧠 উদাহরণ
মটরে খাটো (t) বৈশিষ্ট্য — F₁-এ লুকিয়ে থাকে, F₂-এ ১/৪ ভাগে প্রকাশ পায়।
[কু.বো.'২৫]প্রশ্ন-১৪। DNA অনুলিপন কাকে বলে?
📖 DNA অনুলিপন / Replication
যে প্রক্রিয়ায় একটি DNA অণু থেকে আর একটি DNA নতুন অণু তৈরি হয় বা সংশ্লেষিত হয়, তাকে
DNA অনুলিপন (DNA Replication) বলে।
👤 Concept 12.2 — মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ (জ্ঞানমূলক)
[কু. বো.'২২; চ.বো.'২১; ঢা.বো.'১৯]প্রশ্ন-১৫। অটোজোম কী?
📖 অটোজোম (Autosome)
কোষের যে ক্রোমোজোমগুলো
শারীরবৃত্তীয়, জৈব ও দেহ গঠনে অংশগ্রহণ করে, তাদের অটোজোম বলে। মানুষের দেহে ২২ জোড়া অটোজোম থাকে।
🧠 মনে রাখো
মানুষের মোট ক্রোমোজোম = ২৩ জোড়া = ৪৬টি। এর মধ্যে ২২ জোড়া = অটোজোম, ১ জোড়া = সেক্স ক্রোমোজোম।
🧪 Concept 12.3 — জেনেটিক ডিসঅর্ডার (জ্ঞানমূলক)
[রা.বো.'২১; চ.বো.'২১; কু.বো., ব.বো.'২১]প্রশ্ন-১৬। সেক্স-লিংকড ডিসঅর্ডার কী? / সেক্স-লিংকড অসুখ কাকে বলে?
📖 সেক্স-লিংকড ডিসঅর্ডার (Sex-linked Disorder)
কিছু জিনগত অসুখ আছে, যেগুলোতে মিউটেশন হয়
সেক্স-ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনতলোতে। এসব অসুখকে বলে
সেক্স-লিংকড অসুখ।
📌 উদাহরণ
বর্ণান্ধতা (Colour Blindness), হিমোফিলিয়া (Haemophilia) — এগুলো সেক্স-লিংকড অসুখ।
[য.বো.'২৫; ব.বো.'২৩; সি.বো.'১৭]প্রশ্ন-১৭। বর্ণান্ধতা বা কালার ব্লাইন্ড কী?
📖 বর্ণান্ধতা (Colour Blindness)
কালার ব্লাইন্ড বা বর্ণান্ধতা হলো এমন একটি অবস্থা যখন কেউ
কোনো রঙ সঠিকভাবে চিনতে পারে না।
💡 কারণ
চোখের রেটিনায় রঙ শনাক্তকারী পিগমেন্টের অভাব থাকে। এটি X-ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনের মিউটেশনের কারণে হয়।
[সি.বো.'২৫]প্রশ্ন-১৮। রক্তশূন্যতা কী?
📖 রক্তশূন্যতা (Anaemia)
রক্তের
লোহিত রক্তকোষগুলো নষ্ট হয়ে গেলে রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়।
🌿 Concept 12.4 — জৈব বিবর্তন তত্ত্ব (জ্ঞানমূলক)
[ঢা.বো.'১৯; ঢা.বো.'১৬; সি.বো.'১৫]প্রশ্ন-১৯। জৈব বিবর্তন কী? / বিবর্তন কী?
📖 জৈব বিবর্তন (Biological Evolution)
কয়েক হাজার বছরের সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভব ও টিকে থাকার জন্য যে
পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় তাকে
জৈব বিবর্তন বলে।
[সি.বো.'২৩; ম.বো.'২৩, '২১]প্রশ্ন-২০। অ্যালিল কাকে বলে? / অ্যালিল কী?
📖 অ্যালিল (Allele)
সমসংস্থ ক্রোমোজোম জোড়ের নির্দিষ্ট লোকাসে অবস্থানকারী নির্দিষ্ট জিন-জোড়ার একটিকে অপরটির অ্যালিল বলে।
🧠 সহজ উপমা
TT বা Tt বা tt — এখানে T ও t পরস্পরের অ্যালিল। অ্যালিল মানে বিকল্প জিন-রূপ।
[রা.বো.'২১]প্রশ্ন-২১। রাসায়নিক বিবর্তন কী?
📖 রাসায়নিক বিবর্তন (Chemical Evolution)
পৃথিবীর উৎপত্তি এবং তার ধারাবাহিকতায় জীবনের উৎপত্তির ঘটনাপ্রবাহকে বলে
রাসায়নিক বিবর্তন বা অভিব্যক্তি।
[কু.বো.'২৩; মি.বো.'২১ / দা.বো.'২২ / রা.বো.'২৩]প্রশ্ন-২২। প্রকরণ কাকে বলে? / পরিবৃত্তি / মিউটেশন কী?
📖 মিউটেশন / প্রকরণ (Mutation)
পৃথিবীতে দুটি জীব কখনোই অবিকল একই ধরনের হয় না। যত কমই হোক এদের মধ্যে কিছু না কিছু পার্থক্য থাকে। জীব দুটির মধ্যে যে পার্থক্য দেখা যায়, তাকে
প্রকরণ বা পরিবৃত্তি (Mutation) বলে।
📌 কারণ
মিউটেশন হলো জিনের আকস্মিক পরিবর্তন যা বংশপরম্পরায় চলে আসে। বিকিরণ, রাসায়নিক পদার্থ ইত্যাদি কারণে মিউটেশন ঘটে।
[ঢা. বো.'২২]প্রশ্ন-২৩। প্রাকৃতিক নির্বাচন কাকে বলে?
📖 প্রাকৃতিক নির্বাচন (Natural Selection)
জীবন-সংগ্রামে সেই সব প্রাণী সাফল্য লাভ করে যাদের শারীরিক গঠন প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পরিবর্তিত হয় এবং অভিযোজিত গুণগুলো বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়। ফলে, বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতায় এসব জীবেরা বেশি সুযোগ-সুবিধা লাভ করে, একে
প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে।
[দি. বো.'২৩]প্রশ্ন-২৪। অভিযোজন কাকে বলে?
📖 অভিযোজন (Adaptation)
যে দৈহিক বা শারীরবৃত্তিক আচরণগত বৈশিষ্ট্যাবলি কোনো জীবের অস্তিত্ব রক্ষা ও বংশ বিস্তারকে আরও সুরক্ষিত করে তোলে, তাই
অভিযোজন।
📌 উদাহরণ
মরুভূমির ক্যাকটাসের কাঁটাময় পাতা — জলক্ষয় কমানোর জন্য অভিযোজন।
এখন আমরা অনুধাবনমূলক (২ নম্বর) প্রশ্নে যাব। এখানে "কেন?" বা "কীভাবে?" ব্যাখ্যা করতে হয় — শুধু সংজ্ঞা নয়, কারণসহ লিখতে হবে।
🧬 Concept 12.1 — জীবের বংশগতি (অনুধাবনমূলক)
[রা.বো.'২৩; য.বো.'২৩]প্রশ্ন-১। 'বংশগতির ভৌত ভিত্তি' ব্যাখ্যা করো। অথবা, ক্রোমোজোমকে বংশগতির বাহক বলা হয় কেন?
জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণকারী একক হলো জিন। এই জিন অবস্থান করে ক্রোমোজোমে। ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলো বংশগতির গুণাবলি বহন করে এক প্রজন্ম হতে অন্য প্রজন্মে নিয়ে যায়। কোনো একটি জীবে ক্রোমোজোম সংখ্যা ঐ জীবের জন্য নির্দিষ্ট। যেহেতু বংশানুক্রমে জীবের বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বাহিত হয়, তাই ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌত ভিত্তি বলা হয়।
[য.বো.'২২; দি.বো.'২১]প্রশ্ন-২। DNA-কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি বলা হয় কেন?
DNA ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান। DNA-ই জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক এবং বাহক। যা জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সরাসরি বহন করে মাতাপিতা থেকে তাদের বংশধরে নিয়ে যায়। এজন্য DNA-কে বংশগতির রাসায়নিক ভিত্তি (Chemical basis of heredity) বলা হয়।
[চ.বো.'১৬]প্রশ্ন-৩। জিনকে বংশগতির ধারক বলা হয় কেন?
জিনই বংশগতির নিয়ন্ত্রক। জিনগুলো সাধারণ নিয়মে ক্রোমোজোমের DNA অণুসূত্রের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্ত পর্যন্ত পৃথক ও রৈখিকভাবে পরপর সাজানো থাকে। সাধারণত একটি জিন একটি নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য থাকে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একাধিক জিন মিলিত হয়ে একটি বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করে। জিনগুলোই বংশগতির বৈশিষ্ট্যসমূহ নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য জিনকে বংশগতির ধারক বলা হয়।
[কু.বো.'২১]প্রশ্ন-৪। মেন্ডেলকে বংশগতির জনক বলা হয় কেন? অথবা, কাকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয় এবং কেন?
গ্রেগর জোহান মেন্ডেল ১৮৬৬ সালে মটরশুঁটি নিয়ে গবেষণাকালে বংশগতির ধারক ও বাহকরূপে যে ফ্যাক্টরের কথা উল্লেখ করেছিলেন সেটি আজ 'জিন' রূপে পরিচিত হয়েছে। মাতা-পিতার বৈশিষ্ট্য উদ্ভিদের বংশধরদের মধ্যে কীভাবে প্রকাশ পায় তা নিয়ে সে সময়ে মেন্ডেল মটর গাছ নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যবান তথ্য আবিষ্কার করেছিলেন। তাই গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতিবিদ্যার জনক বলা হয়।
[চ.বো., সি.বো.'২১]প্রশ্ন-৫। DNA রেপ্লিকেশনকে অর্ধ রক্ষণশীল বলা হয় কেন?
একটি DNA থেকে নতুন দুই সেট DNA সৃষ্টির প্রক্রিয়াই হলো DNA অনুলিপন। এই প্রক্রিয়ায় DNA অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতিতে অনুলিপিত হয়। এই পদ্ধতিতে DNA সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙে গিয়ে আলাদা হয়। তখন কোষের ভেতরে ভাসমান নিউক্লিওটাইডগুলো থেকে A-এর সাথে T, T আর সাথে A, C-এর সাথে G এবং G-এর সাথে C যুক্ত হয়ে সূত্রদুটি তার পরিপূরক নতুন সূত্র তৈরি করে। পরে একটি পুরাতন সূত্র ও একটি নতুন সূত্র সংযুক্ত হয়ে DNA অণুর সৃষ্টি হয়। একটি পুরাতন মাতৃ সূত্রক এবং একটি নতুন সৃষ্ট সূত্রকের সমন্বয়ে গঠিত বলে একে অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি বলে।
[সি.বো.'২১; দি.বো.'১৫]প্রশ্ন-৬। জীবের বৈশিষ্ট্য কীভাবে বংশ পরম্পরায় বাহিত হয়?
পৃথিবীর সব জীব তার নিজস্ব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যমিত। স্বকীয় বৈশিষ্ট্যগুলি পরবর্তী প্রজন্মে প্রায় অবিকল স্থানান্তর ও পরিস্ফুটিত হয়। পৃথিবীর সব জীবের ক্ষেত্রেই এই প্রাকৃতিক নিয়ম প্রযোজ্য। তাই আমরা ধান গাছের বীজ থেকে ধান, আমের বীজ থেকে আমগাছ, পাটের বীজ থেকে পাটগাছ জন্মাতে দেখি। এভাবেই বংশানুক্রমে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বজায় থাকে। পিতামাতার বৈশিষ্ট্যগুলো বংশানুক্রমে সন্তান-সন্ততির দেহে সঞ্চারিত হওয়ার প্রক্রিয়াই বংশগতি।
[কু.বো.'২০]প্রশ্ন-৭। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং-এর কাজ ব্যাখ্যা করো।
DNA টেস্টে বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহারিক পদ্ধতি হলো DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং। DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে জৈবিক নমুনা প্রয়োজন। ব্যক্তির হাড়, দাঁত, চুল, রক্ত ইত্যাদি হলো জৈবিক নমুনা। অপরাধস্থল কিংবা অপরাধের শিকার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত জৈবিক নমুনায় DNA নকশার সাথে তুলনা করে DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং করা হয়।
📌 DNA টেস্টের ব্যবহার
- i. অপরাধী শনাক্তকরণে
- ii. সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে
- iii. মৃত ব্যক্তি শনাক্তকরণে
- iv. প্রচলিত সাক্ষ্য-প্রমাণের বিকল্প হিসেবে
[য.বো.'২৫; চ.বো.'১৯]প্রশ্ন-৮। DNA টেস্ট করা হয় কেন? অথবা, DNA পরীক্ষার তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
নিম্নে DNA টেস্ট করার কারণগুলো উল্লেখ করা হলো—
- DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং এর মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করা হয়।
- সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ের জন্য DNA পরীক্ষা করা হয়।
- মৃত ব্যক্তি শনাক্তকরণে DNA পরীক্ষা করা হয়।
- প্রচলিত সাক্ষ্য প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিচারব্যবস্থা প্রমাণের জন্য অনেক সময় DNA পরীক্ষা করা হয়।
এসকল ক্ষেত্রে DNA টেস্ট সঠিক ফলাফল প্রদান করে।
[ব.বো.'২৩]প্রশ্ন-৯। কখন DNA টেস্ট করা প্রয়োজন?
বিভিন্ন জৈবিক নমুনা থেকে DNA সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণপূর্বক বিশেষ কোনো কাজে ব্যবহারের বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতিকে বলা হয় DNA টেস্ট। সঠিকভাবে অপরাধী শনাক্তকরণের জন্য DNA টেস্ট করা হয়। এছাড়া বংশগত রোগের চিকিৎসায়, অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ের জন্যও DNA টেস্ট করা হয়।
👤 Concept 12.2 — মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণ (অনুধাবনমূলক)
[রা.বো.'১৯]প্রশ্ন-১০। লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোম কীভাবে ভূমিকা রাখে?
মানবদেহে ক্রোমোজোম সংখ্যা ৪৬ টি বা ২৩ জোড়া। এর মধ্যে ২২ জোড়া বা ৪৪ টি অটোজোম এবং ১ জোড়াকে সেক্স-ক্রোমোজোম বলা হয়। সেক্স ক্রোমোজোম X এবং Y নামে পরিচিত। লিঙ্গ নির্ধারণে এরা মুখ্য ভূমিকা পালন করে। নারীদের ডিপ্লয়েড কোষে দুটি সেক্স ক্রোমোজোমই X ক্রোমোজোম অর্থাৎ XX, কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দুটির মধ্যে একটি X অপরটি Y ক্রোমোজোম অর্থাৎ XY।
🧪 Concept 12.3 — জেনেটিক ডিসঅর্ডার (অনুধাবনমূলক)
[চ.বো.'২৫]প্রশ্ন-১১। বর্ণান্ধতা কী? ব্যাখ্যা করো।
কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতায় রোগীদের চোখে স্লায়ু কোষের রং শনাক্তকারী পিগমেন্টের অভাব থাকে। যদি কারো একটি পিগমেন্ট না থাকে, তখন সে লাল আর সবুজ পার্থক্য করতে পারে না। এটি সর্বজনীন কালার ব্লাইন্ড সমস্যা। একাধিক পিগমেন্ট না থাকার কারণে লাল এবং সবুজ রঙ ছাড়াও রোগী নীল এবং হলুদ রঙ পার্থক্য করতে পারে না।
[সি.বো.'২২ / দা.'২২ / চ.বো.'২১]প্রশ্ন-১২। সেক্স-লিংকড অসুখ ছেলেদের বেশি হয় কেন? অথবা, মেয়েরা সাধারণত সেক্স-লিংকড রোগে আক্রান্ত হয় না কেন?
মেয়েদের যেহেতু দুটি X ক্রোমোজোম থাকে, সেহেতু একটি X ক্রোমোজোমে মিউটেশন থাকলেও আরেকটি X ক্রোমোজোম স্বাভাবিক থাকার কারণে রোগলক্ষণ প্রকাশ পায় না। দুটি X ক্রোমোজোমেই একই সাথে একই অসুখের মিউটেশন থাকার সম্ভাবনা খুব কম বলে মেয়েরা সাধারণত সেক্স-লিংকড রোগে আক্রান্ত হয় না, বরং বড়জার বাহক হিসেবে কাজ করে। পুরুষের যেহেতু X ক্রোমোজোম মাত্র একটি, তাই তারা সেক্স-লিংকড অসুখের বাহক হয় না, সেটিতে রোগ-সুটিকারী মিউটেশন থাকলেই তাদের ভিতরে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়।
[সি.বো.'১৯]প্রশ্ন-১৩। কুলির থ্যালাসেমিয়া বলতে কী বোঝায়?
রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবহ্যজনিত রোগের নাম থ্যালাসেমিয়া। দুধরনের থ্যালাসেমিয়া দেখা যায়। যথা- আলফা (α) থ্যালাসেমিয়া এবং বিটা (β) থ্যালাসেমিয়া। বিটা (β) থ্যালাসেমিয়াকে 'কুলির থ্যালাসেমিয়া' বলা হয়। β-গ্লোবিউলিন প্রোটিন উৎপাদন ব্যাহত হলে এই রোগ হয়ে থাকে।
[দা.'বো.'২২; সি.বো.'২১; ম.বো.'২১ এবং বিভিন্ন বোর্ড]প্রশ্ন-১৪। থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ — কেন? / থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো।
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবহ্যজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। এই রোগ বংশ পরম্পরায় হয়ে থাকে। লোহিত রক্তকোষ দুধরনের প্রোটিন দিয়ে তৈরি, α-গ্লোবিউলিন এবং β-গ্লোবিউলিন। থ্যালাসেমিয়া হয় লোহিত রক্তকোষে এ দুটি প্রোটিনের জিন নষ্ট থাকার কারণে।
⚠️ পরীক্ষার টিপস
থ্যালাসেমিয়া রোগীদের আয়রন ট্যাবলেট খেতে দেওয়া হয় না — কারণ তা শরীরে জমে গিয়ে বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি করে। যকৃৎ নষ্ট হলে জন্ডিস, অগ্ন্যাশয় নষ্ট হলে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
🌿 Concept 12.4 — জৈব বিবর্তন তত্ত্ব (অনুধাবনমূলক)
[রা.বো.'২১; দা.'বো.'২২; য.বো.'১৭; ঢা.বো.'১৫]প্রশ্ন-১৫। প্রজাতির টিকে থাকায় বিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ কেন?
কয়েক হাজার বছরের সময়ের ব্যাপকতায় জীব প্রজাতির পৃথিবীতে আবির্ভব ও টিকে থাকার জন্য যে পরিবর্তন ও অভিযোজন প্রক্রিয়া তাকে জৈব বিবর্তন বলে। পৃথিবীতে বর্তমানে যত জীব এসেছে তারা অনেকেই সময়ের আবর্তে লুপ হয়ে গেছে। যেমন: ডাইনোসোর। আবার কোনো কোনো জীব ধীর পরিবর্তন ঘটিয়ে এখনও টিকে আছে। এই টিকে থাকার জন্য জীবকে সংগ্রাম করতে হয়েছে, শারীরিক গঠন, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য এই যে পরিবর্তন ও অভিযোজন, একেই জৈব বিবর্তন বলে এবং এ কারণে প্রজাতির টিকে থাকায় বিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
[য.বো.'২১]প্রশ্ন-১৬। জীবনের উৎপত্তি যে পানিতে হয়েছিল — এ নিয়ে কোনো দ্বিমত আছে কি? ব্যাখ্যা করো।
জীবনের উৎপত্তি যে প্রথমে সমুদ্রের পানিতে হয়েছিল, এ সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই। এ সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা যে যুক্তি রেখেছেন, সেগুলো এরকম: প্রথমত, অধিকাংশ জীবকোষ এবং দেহরস ও অন্যান্য তরলে নানারকম লবণের উপস্থিতি, যার সঙ্গে সমুদ্রের পানির খনিজ লবণের সাদৃশ্য রয়েছে। দ্বিতীয়ত, সমুদ্রের পানিতে এখনো অনেক সরল এবং এককোষী জীব বসবাস করে।
[ম.বো.'২৩]প্রশ্ন-১৭। "অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম" — ব্যাখ্যা করো।
জীব জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় এবং খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ডারউইন এ ধরনের সংগ্রামকে
'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম' বলে অভিহিত করেন। ডারউইন লক্ষ করেন যে জীবনে তিনটি পর্যায়ে এই সংগ্রাম করে। যেগুলো হলো:
- আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (interspecific struggle)
- অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (intraspecific struggle)
- পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম (Struggle with environment)
[চ.বো.'২৩; দি.বো.'২২]প্রশ্ন-১৮। আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম বলতে কী বোঝায়?
পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী সংগ্রামে লিপ্ত। যেমন সাপ- বেজী, প্রজাপতি- মৌমাছি আন্তঃপ্রজাতিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ব্যাঙ কীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙ্গদের খায়। আবার, ময়ূর সাপ এবং ব্যাঙ দুটোকেই খায় — এভাবে নিতান্ত জৈবিক কারণেই বিভিন্ন প্রজাতির মধ্যে খাদ্য-খাদক সম্পর্কের একটি নিষ্ঠুর জীবনসংগ্রাম গড়ে ওঠে। একে আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম বলে।
[দি.বো.'২৫]প্রশ্ন-১৯। প্রাকৃতিক নির্বাচন কীভাবে প্রজাতির ভারসাম্য রক্ষা করে?
প্রাকৃতিক নির্বাচন একটি বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া যা প্রজাতির মধ্যে অভিযোজন এবং পরিবর্তন ঘটায় যা তাদের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে এবং টিকে থাকতে সাহায্য করে। প্রাকৃতিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবেশের সাথে সবচেয়ে ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নেয়া জীব বেঁচে থাকে এবং তাদের বৈশিষ্ট্যগুলো পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়। এর ফলে একটি প্রজাতির মধ্যে উপযুক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো স্থান পায় এবং ক্ষতিকর ও দুর্বল বৈশিষ্ট্যগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। যা সামগ্রিকভাবে প্রজাতির সুস্থতা এবং পরিবেশের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
[ম.বো.'২১]প্রশ্ন-২০। প্রাকৃতিক নির্বাচন কীভাবে পরিবেশে জীবকুলের টিকে থাকা নিশ্চিত করে? অথবা, প্রাকৃতিক নির্বাচন মতবাদ ব্যাখ্যা করো।
ডারউইনের মতে জীবন-সংগ্রামে কেবল সেই সব প্রাণী সাফল্য লাভ করে যাদের শারীরিক গঠন প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পরিবর্তিত হয়। তারা পরিবর্তনশীলতায় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে অভিযোজিত গুণগুলো বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বেঁচে থাকার বা বিবর্তনের প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়। অন্যদিকে যারা এ ধরনের পরিবর্তনশীলতায় অংশগ্রহণ করতে পারে না তারা প্রকৃতি কর্তৃক মনোনীত হয় না। ফলে তাদের বিলুপ্তি ঘটে। প্রাচীনকালের প্রাণী ডাইনোসার বলিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও পরিবেশের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে অভিযোজিত না হতে পারায় বিলুপ্ত হয়েছে।
[দা.বো.'১৯]প্রশ্ন-২১। পৃথিবী থেকে ডাইনোসোর লোপ পেয়েছে কিন্তু তেলাপোকা টিকে আছে কীভাবে?
বিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভবকালে দেখা যায় অনেক প্রজাতি কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। সময়ের সাথে যে প্রজাতিটির টিকে থাকার ক্ষমতা যত বেশি, সে বিবর্তনের ধারায় তত বেশিদিন টিকে থাকতে পারে। জীবন বিবর্তনের ধারায় জন্মমিত্র পরিবর্তনে যে বেশি খাপ খাওয়াতে পারে সেই প্রজাতিটি টিকে থাকবে। অর্থাৎ পরিবেশ, জীবনপ্রবাহ ও জনমিত্রে বিবর্তনে যে বেশি খাপ খাওয়াতে পারে সেই প্রজাতিটি টিকে থাকে। তেলাপোকার অভিযোজন ক্ষমতা বেশি, তাই ডাইনোসারের মতো প্রাণী লোপ পাওয়া সত্ত্বেও তেলাপোকা টিকে আছে।
[দা.'বো.'১৯]প্রশ্ন-২২। Survival of the fittest কথাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো।
Survival of the fittest বা যোগ্যতমের জয় কথাটি হলো ডারউইনবাদের একটি ধাপ। এর তাৎপর্য হলো— জীবন সংগ্রামে লিপ্ত জীবগোষ্ঠীর মধ্যে যারা পরিস্থিতির উপযুক্ত মোকাবিলা করতে পারে শুধু তারাই বেঁচে থাকে। এসব জীবনে স্বাভাবতই দেখা যায় অনুকূল প্রকরণ যা প্রতিকূল পরিবেশেও জীবকে মানিয়ে নিতে বিশেষভাবে সাহায্য করে। অন্যদিকে, প্রতিকূল প্রকরণ সম্পন্ন জীব পরিবেশের সাথে নিজেদের মানিয়ে নিতে না পেরে বিলুপ্ত হয়ে যায়।
[ম.বো.'২৪]প্রশ্ন-২৩। বিবর্তন তত্ত্বের ভিত্তিতে নতুন প্রজাতির সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
বর্তমানে বংশগতিবিদ, কোষতত্ত্ববিদ এবং শ্রেণিবিদগণ নতুন প্রজাতির উৎপত্তির বিষয়ে বংশগতিবিদ্যা মতবাদ এবং বিবর্তন তত্ত্বের ভিত্তিতে বলেন, তিনটি ভিন্ন উপায়ে নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হতে পারে:
- মূল প্রজাতি থেকে পৃথক হয়ে (isolation) যাওয়ার ফলে
- সংকরায়ণের (hybridization) ফলে এবং
- সংকরায়ণ প্রজাতিতে কোষ বিভাজনের সময় ঘটনাক্রমে কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা বৃদ্ধির (Polyploidy) ফলে। এর ফলে নতুন জীবটির অভিযোজন ঘটবে এবং প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা একটি নতুন প্রজাতির সৃষ্টি হবে।
[দি.বো.'২১]প্রশ্ন-২৪। মধ্য আমেরিকায় কোয়েল পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
বন্যা, খরা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বালিঝড়, ভূমিকম্পন, অগ্ন্যুৎপাত-এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। সুতরাং জীবকে তার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত এসব প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়। যে প্রাণীগুলো এই পরিবেশে টিকে থাকতে পারে, তারা বেঁচে থাকে। অন্যরা বিলুপ্ত হয়ে যায়। উত্তর এবং মধ্য আমেরিকার কোয়েলাপাখি প্রচণ্ড ঠাণ্ডা ও তুষারপাতের ফলে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
[ম.বো.'২৫]প্রশ্ন-২৫। প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে কী বোঝায়?
অনুকূল প্রকরণ সম্বিত জীবেরা অন্যদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেশি সুযোগ-সুবিধা করে এই প্রক্রিয়াকেই প্রাকৃতিক নির্বাচন বলে। ডারউইনের মতে জীবন-সংগ্রামে সেই সব প্রাণী সাফল্য লাভ করে যাদের শারীরিক গঠন প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে পরিবর্তিত হয়। তারা পরিবর্তনশীলতায় দক্ষতার পরিচয় দিয়ে অভিযোজিত গুণগুলো বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হয়ে বেঁচে থাকার বা বিবর্তনের প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়। অন্যদিকে, যারা এ ধরনের পরিবর্তনশীলতায় অংশগ্রহণ করতে পারে না তারা প্রকৃতি কর্তৃক মনোনীত হয় না। ফলে তাদের বিলুপ্তি ঘটে।
এখন আমরা সৃজনশীল (Comprehensive) প্রশ্নে যাব। উদ্দীপক পড়ে চিত্র-ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
প্রশ্ন (i) — উদ্দীপকের 'A' এর গঠন বর্ণনা করো। (প্রয়োগমূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' হলো
DNA। নিচে DNA অণুর গঠন বর্ণনা করা হলো—
ক্রোমোজোমের প্রধান উপাদান DNA-এর পূর্ণরূপ হলো ডিঅক্সিরাইবো নিউক্লিক এসিড। এটি সাধারণত দুই সূত্রবিশিষ্ট পলিনিউক্লিওটাইডের সর্পিলাকার গঠন। একটি সূত্র অন্যটির পরিপূরক। এতে পাঁচ কার্বনযুক্ত শর্করা, নাইট্রোজেনঘটিত বেস বা ক্ষার (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও থাইমিন) এবং অজৈব ফসফেট থাকে। এই তিনটি উপাদানকে একত্রে
নিউক্লিওটাইড বলে। DNA ক্রোমোজোমের স্থায়ী পদার্থ। নাইট্রোজেন বেসগুলো দুধরনের — পিউরিন এবং পাইরিমিডিন। অ্যাডিনিন (A) ও গুয়ানিন (G) বেস হলো পিউরিন এবং সাইটোসিন (C) ও থাইমিন (T) বেস হলো পাইরিমিডিন। একটি সূত্রের অ্যাডিনিন (A) অন্য সূত্রের থাইমিন (T) এর সাথে দুটি হাইড্রোজেন বন্ড (A = T) দিয়ে যুক্ত। সূত্রের গুয়ানিন (G), অন্য সূত্রের সাইটোসিনের (C) সাথে তিনটি হাইড্রোজেন বন্ড (G ≡ C) দিয়ে যুক্ত।
অর্থাৎ এই বন্ধন সর্বদা একটি পিউরিন এবং একটি পাইরিমিডিনের মধ্যে হয়ে থাকে। হেলিক্সের প্রতিটি পূর্ণ ঘূর্ণন ৩৪ Å দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট এবং একটি পূর্ণ ঘূর্ণনের মধ্যে ১০ টি নিউক্লিওটাইড থাকে। সুতরাং পার্শ্ববর্তী দুটি নিউক্লিওটাইডের দূরত্ব (উপর থেকে নিচে) ৩.৪ Å।
DNA-এর দুটি পলিনিউক্লিওটাইড সূত্র বিপরীতভাবে অবস্থান করে। অনেকটা পাঁচানো সিড়ির ধাপের মতো, ফারগুলো শায়িতভাবে প্রধান অক্ষের সাথে লম্বভাবে অবস্থান করে।
প্রশ্ন (ii) — 'A' নির্দেশিত অণুটির অনুলিপন ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে 'A' নির্দেশিত অণুটি হলো DNA। নিচে DNA অনুলিপনের পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো—
এই প্রক্রিয়ায় একটি DNA অণু থেকে আরেকটি নতুন DNA অণু তৈরি হয়। DNA
অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতিতে অনুলিপিত হয়। এই পদ্ধতিতে DNA সূত্র দুটির হাইড্রোজেন বন্ধন ভেঙে গিয়ে আলাদা হয়। তখন কোষের ভেতরে ভাসমান নিউক্লিওটাইডগুলো থেকে A এর সাথে T, T আর সাথে A, C-এর সাথে G এবং G-এর সাথে C যুক্ত হয়ে সূত্রদুটি তার পরিপূরক নতুন সূত্র তৈরি করে। পরে একটি পুরাতন সূত্র ও একটি নতুন সূত্র সংযুক্ত হয়ে DNA অণুর সৃষ্টি হয়। একটি পুরাতন মাতৃ সূত্রক এবং একটি নতুন সৃষ্ট সূত্রকের সমন্বয়ে গঠিত বলে একে
অর্ধ-রক্ষণশীল পদ্ধতি বলে।
১৯৫৬ সালে Watson ও Crick DNA অনুলিপন প্রক্রিয়ার প্রস্তাব করেন।
প্রশ্ন (iii) — উদ্দীপকের চিত্র 'C' এর গঠন ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র 'C' হলো
RNA।
RNA-এর গঠন:
- RNA হলো রাইবোনিউক্লিক এসিড।
- অধিকাংশ RNA তে একটি পলিনিউক্লিওটাইডের সূত্র থাকে।
- এতে পাঁচ কার্বন বিশিষ্ট রাইবোজ শর্করা, অজৈব ফসফেট এবং নাইট্রোজেন বেস (অ্যাডিনিন, গুয়ানিন, সাইটোসিন ও ইউরাসিল) থাকে।
- RNA ভাইরাসের ক্রোমোজোমে স্থায়ী উপাদান হিসেবে RNA পাওয়া যায়।
- কিছু ভাইরাস যেমন-TMV (Tobacco Mosaic Virus) এ বংশগতির বস্তু হিসেবে RNA কাজ করে।
প্রশ্ন (iv) — উদ্দীপকের 'A' ও 'C' এর মধ্যে তুলনামূলক গঠনগত বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর — DNA ও RNA-এর তুলনামূলক বিশ্লেষণ:
| # | DNA | RNA |
| ১ | এটি এক ধরনের নিউক্লিক এসিড। | RNA ও এক ধরনের নিউক্লিক এসিড। |
| ২ | DNA-তে দু ধরনের নাইট্রোজেন বেস রয়েছে। | RNA-তেও নাইট্রোজেনের বেস দু ধরনের। |
| ৩ | DNA বংশগতির ভৌত ও রাসায়নিক ভিত্তি। | কিছু জীবে RNA বংশগতির বস্তু হিসেবে কাজ করে। |
অমিল:
| # | DNA | RNA |
| ১ | DNA দ্বিসূত্রক, ঘুরানো সিড়ির মতো। | RNA একসূত্রক, শিকলের ন্যায়। |
| ২ | রাসায়নিকভাবে ডিঅক্সিরাইবোজ শুগার দ্বারা গঠিত। | রাসায়নিকভাবে রাইবোজ শুগার দ্বারা গঠিত। |
| ৩ | DNA-এর পাইরিমিডিনে থাইমিন ও সাইটোসিন বেস থাকে। | RNA-এর পাইরিমিডিনে ইউরাসিল ও সাইটোসিন বেস থাকে। |
| ৪ | অনুলিপনের মাধ্যমে DNA সৃষ্টি হয়। | নতুনভাবে RNA সৃষ্টি হয়। কোনো অনুলিপন হয় না। |
| ৫ | বংশগতির ধারক, বাহক ও নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। | RNA প্রোটিন সংশ্লেষে সাহায্য করে। |
প্রশ্ন (v) — উদ্দীপকে চিত্র-A জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রকৃত ধারক ও বাহক — উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকের চিত্র-A হলো DNA। জীবের বংশগতীয় বৈশিষ্ট্য প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সঞ্চারণের ক্ষেত্রে DNA মুখ্যভূমিকা পালন করে।
DNA-এর কাজ হলো পিতামাতা হতে জিন (যা জীবের বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে) সন্তান সন্ততিতে বহন করে নিয়ে যাওয়া। পৃথিবীর সব জীবের ক্ষেত্রেই এ প্রাকৃতিক নিয়ম প্রযোজ্য। মানুষের চোখের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার গঠন মানবীয় গুণাবলী ইত্যাদি বৈশিষ্ট্য DNA কর্তৃক বাহিত করে বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে।
এছাড়াও DNA জীবের সকল শারীরিক ও জৈবিক কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে এবং জীবের যাবতীয় বৈশিষ্ট্যের প্রকাশে ভূমিকা রাখে। এটি জীবের প্রকরণ (variety) এবং পরিব্যক্তিতে (mutation) মুখ্য ভূমিকা রাখে। DNA তে অসংখ্য জিন থাকে যারা জীবের বিভিন্ন ধরনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য প্রকাশে ভূমিকা রাখে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, DNA জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ধারক ও বাহক।
প্রশ্ন (vi) — মানব শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণে উদ্দীপকের 'B' এর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-B দ্বারা ক্রোমোজোমকে বোঝানো হয়েছে। মানব শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণে ক্রোমোজোমের ভূমিকা অপরিসীম।
মানবদেহে মোট ২৩ জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে ২২ জোড়া ক্রোমোজোম স্ত্রী ও পুরুষদেহে একই রকম। এদেরকে অটোসোম বলে। বাকি ১ জোড়া ক্রোমোজোম স্ত্রী ও পুরুষ দেহে আলাদা। এদেরকে সেক্স ক্রোমোজোম বলা হয়। শিশুদেহে ক্রোমোজোমের আগমন ঘটে পিতা-মাতা থেকে। তাই ক্রোমোজোমকে বংশগতির ধারক ও বাহক বলা হয়।
মায়ের দেহের দুটি সেক্স ক্রোমোজোম একই ধরনের বলে (XX) তা থেকে একটি এসে পিতার X ক্রোমোজোমের সাথে মিলিত হলে XX ধরনের জোড় নির্দেশ করে যা দ্বারা শিশুর লিঙ্গ নির্ধারিত হয় মেয়ে শিশু। আবার মায়ের দেহ থেকে আগত X ক্রোমোজোম পিতার Y ক্রোমোজোমের সাথে মিলিত হয়ে XY জোড় তৈরি করে যা দ্বারা শিশুর লিঙ্গ নির্ধারিত হয় ছেলে শিশু।
তাই বলা যায় মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণে 'B' অর্থাৎ ক্রোমোজোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রশ্ন (vii) — কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য বাবাই দায়ী — যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
মানুষের লিঙ্গ নির্ধারণের কৌশল ভালোভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় কন্যা বা পুরসন্তানের জন্য বাবার আদৌ কোনো ভূমিকা নেই। কারণ মা সব সময় কেবলমাত্র X বহনকারী ডিম্বাণু তৈরি করেন।
অপরদিকে পিতা X এবং Y উভয় ধরনের শুক্রাণু উৎপন্ন করেন। গর্ভধারণকালে কোন ধরনের শুক্রাণু ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করবে তার উপর নির্ভর করে সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ। যদি X বহনকারী শুক্রাণু নিষেক ঘটায় তাহলে জাইগোটটি হবে XX, অর্থাৎ সন্তান হবে কন্যা। আর যদি Y বহনকারী শুক্রাণু নিষেককে অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে জাইগোটটি হবে XY। ফলে শিশু যথারীতি পুত্র সন্তান হবে। অতএব এটা সুস্পষ্ট যে,
কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য মাতা কোনো ভাবেই দায়ী নয়, বরং কন্যা সন্তান হওয়ার জন্য বাবাই দায়ী।
প্রশ্ন (viii) — মানবদেহে 'B' এর মাধ্যমে সঞ্চারিত রোগগুলো বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-B দ্বারা ক্রোমোজোমকে বোঝানো হয়েছে। মানবদেহে ক্রোমোজোমের মাধ্যমে বংশগতীয় বিভিন্ন রোগ সঞ্চারিত হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বর্ণান্ধতা, থ্যালাসেমিয়া ইত্যাদি।
কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা: যখন কেউ কোনো রঙ সঠিকভাবে চিনতে পারে না, সেটি হচ্ছে কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা। রঙ চেনার জন্য আমাদের চোখের স্লায়ু কোষের রঙ শনাক্তকারী পিগমেন্ট থাকে। কালার ব্লাইন্ড অবস্থায় রোগীদের চোখে স্লায়ু কোষের রঙ শনাক্তকারী পিগমেন্টের অভাব থাকে। যদি কারো একটি পিগমেন্ট না থাকে, তখন সে লাল আর সবুজ পার্থক্য করতে পারে না। এটা সর্বজনীন কালার ব্লাইন্ড সমস্যা। একাধিক পিগমেন্ট না থাকার কারণে লাল এবং সবুজ রঙ ছাড়াও রোগী নীল এবং হলুদ রঙ পার্থক্য করতে পারে না। পুরুষদের বেলায় সাধারণত প্রতি ১০ জনে ১ জনকে কালার ব্লাইন্ড হতে দেখা যায়। তবে খুব কম নারীরাই এই অসুখে ভোগেন।
থ্যালাসেমিয়া: থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবহ্যজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে। এই রোগ বংশপরম্পরায় হয়ে থাকে। এটি একটি অটোসোমাল রিসিসিভ ডিজঅর্ডার, অর্থাৎ বাবা ও মা উভয়েই এ রোগের বাহক বা রোগী হলে তবেই তা সন্তানে রোগলক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়।
প্রশ্ন (ix) — অপরাধী শনাক্তকরণে 'A' কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে? বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকের 'A' হলো DNA (ডিএনএ)। অপরাধী শনাক্তকরণে DNA গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোনো অপরাধীকে নির্ভুলভাবে শনাক্তকরণে DNA টেস্ট বর্তমানে সর্বাপেক্ষা নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি। এক্ষেত্রে DNA টেস্ট সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে জৈবিক নমুনার প্রয়োজন হয়। ব্যক্তির হাড়, দাঁত, চুল, রক্ত, লালা, ঘাম ইত্যাদি জৈবিক নমুনা হতে পারে। অপরাধস্থল কিংবা অপরাধের শিকার এমন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রাপ্ত জৈবিক নমুনায় DNA নকশার সাথে তুলনা করে DNA ফিঙ্গার প্রিন্টিং করা হয়।
এই পদ্ধতিতে প্রথমে নমুনা থেকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় DNA আলাদা করে নিতে হয় এবং একাধিক সীমাবদ্ধ এনজাইম দিয়ে DNA গুলো কেটে ছোট ছোট টুকরা করা হয়। তারপর এক বিশেষ পদ্ধতিতে DNA টুকরোগুলো তাদের দৈর্ঘ্য অনুসারে বিভিন্ন ব্যান্ড আকারে আলাদা করা হয়। এরপর এক ধরনের বিশেষ নাইট্রোসেলুলোজ কাগজে রেডিওঅ্যাক্টিভ আইসোটোপ DNA প্রোবের সাথে হাইব্রিডাইজ করে এক্স-রে ফিল্মের উপর রেখে অটোরেডিওগ্রাফ পদ্ধতিতে দৃশ্যমান ব্যান্ডের সারিগুলো নির্ণয় করা হয়।
যদি উভয় নমুনার DNA প্যাটার্ন মিলে যায় তাহলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি অপরাধী প্রমাণিত হয়।
প্রশ্ন (i) — উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' রোগের কারণ ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' রোগটি হলো
কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা। বর্ণান্ধতা একটি সেক্স-লিংকড অসুখ। এটি X ক্রোমোজোমে অবস্থিত জিনগুলোর মিউটেশনের কারণে হয়ে থাকে।
রঙ চেনার জন্য আমাদের চোখের স্লায়ু কোষের রঙ শনাক্তকারী পিগমেন্ট থাকে।
কালার ব্লাইন্ড অবস্থায় রোগীদের চোখে স্লায়ু কোষের রঙ শনাক্তকারী পিগমেন্টের অভাব থাকে। যদি কারো একটি পিগমেন্ট না থাকে, তখন সে লাল আর সবুজ পার্থক্য করতে পারে না। এটা সর্বজনীন কালার ব্লাইন্ড সমস্যা। একাধিক পিগমেন্ট না থাকার কারণে লাল এবং সবুজ রঙ ছাড়াও রোগী নীল এবং হলুদ রঙও পার্থক্য করতে পারে না। এছাড়া বাত জ্বরের রোগের জন্য সেবনকৃত হাইড্রোক্সি ক্লোরোকুইনিন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া স্বরূপ রোগী কালার ব্লাইন্ড (বর্ণান্ধ) হতে পারে।
প্রশ্ন (ii) — 'B' রোগটির কারণ ও প্রতিকার ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকের 'B' রোগটি হলো
থ্যালাসেমিয়া। নিচে থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ ও প্রতিকার ব্যাখ্যা করা হলো—
কারণ: থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবহ্যজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। লোহিত রক্তকোষ দুধরনের প্রোটিন দিয়ে তৈরি, α-গ্লোবিউলিন এবং β-গ্লোবিউলিন। থ্যালাসেমিয়া হয় লোহিত রক্তকোষে এ দুটি প্রোটিনের জিন নষ্ট বা অনুপস্থিত থাকার কারণে।
প্রতিকার: সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পর পর রক্ত প্রদান এবং নির্দিষ্ট ওষুধ খাইয়ে থ্যালাসেমিয়ার চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীদের লৌহ সমৃদ্ধ ফল বা ওষুধ খেতে দেওয়া হয় না, কারণ তা শরীরে জমে গিয়ে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতিসাধন করে।
প্রশ্ন (iii) — 'B' রোগটির ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকের 'B' রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া। নিচে থ্যালাসেমিয়া রোগের ক্ষতিকর প্রভাব ব্যাখ্যা করা হলো—
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবহ্যজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে।
তীব্র থ্যালাসেমিয়ার কারণে জন্মের আগেই মায়ের পেটে শিশুর মৃত্যু হতে পারে। থ্যালাসেমিয়া মেজর আক্রান্ত শিশুরা জন্মের পর প্রথম বছরেই জটিল রক্তশূন্যতা রোগে ভোগে।
এছাড়াও যকৃৎ নষ্ট হলে জন্ডিস, অগ্ন্যাশয় নষ্ট হলে ডায়াবেটিস ইত্যাদি নানা প্রকার রোগ ও রোগলক্ষণ দেখা দিতে পারে। থ্যালাসেমিয়া রোগীর ৩০ বছরের বেশি বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কম, যদি এসব সমস্যা একবার শুরু হয়।
প্রশ্ন (iv) — 'A' এর বৈশিষ্ট্যগুলো কী অনুপাতে F₂ উদ্ভিদে প্রকাশ পাবে? বর্ণনা করো। (প্রয়োগমূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে চিত্র 'A' এ মেন্ডেল তত্ত্বের আলোকে একটি বিতৎস্ব লম্বা ও একটি বিতৎস্ব খাটো বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদের ক্রসিং থেকে বৈশিষ্ট্যগুলো কোন অনুপাতে F₂ উদ্ভিদে প্রকাশ পাবে তা বর্ণনা করা হলো। মনে করি, বিতৎস্ব লম্বা গাছের জিনোটাইপ TT, বিতৎস্ব খাটো গাছের জিনোটাইপ tt।
✅ ফলাফল
উপরের চিত্র A অনুসারে দেখা যায় যে, F₂ বংশধরের সৃষ্ট উদ্ভিদদের মধ্যে
তিন ভাগ লম্বা উদ্ভিদ এবং এক ভাগ খাটো উদ্ভিদ অর্থাৎ
(৩ঃ১)।
প্রশ্ন (v) — 'B' রোগ হওয়ার জন্য মা-বাবাই দায়ী — উক্তিটি বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকের 'B' রোগটি হলো থ্যালাসেমিয়া। থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার জন্য তার মা-বাবাই দায়ী। নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবহ্যজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। এটি একটি অটোসোমাল রিসিসিভ ডিজঅর্ডার,
অর্থাৎ বাবা ও মা উভয়েই এ রোগের বাহক বা রোগী হলে তবেই তা সন্তানে রোগলক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। জিনের প্রাপ্তির উপর নির্ভর করে থ্যালাসেমিয়াকে দুভাবে দেখা যায়, থ্যালাসেমিয়া মেজর এবং থ্যালাসেমিয়া মাইনর।
ধরি, থ্যালাসেমিয়ার জিন = r এবং সুস্থ জিন = R।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায় যে, থ্যালাসেমিয়া রোগ হওয়ার জন্য তার মা-বাবাই দায়ী।
প্রশ্ন (vi) — চিত্র-B এ সুষ্ঠু, অসুষ্ঠু কিংবা বাহক শিশু জন্মগ্রহণের সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপক হতে পাই, থ্যালাসেমিয়া জিন = M; সুস্থ জিন = m।
যেহেতু সুস্থ জিন (m) থ্যালাসেমিয়া জিনের উপর প্রকট, তাই হেটেরোজাইগাস (Mm) অবস্থায় থ্যালাসেমিয়ার কোনো উপসর্গ দেখা যাবে না। তবে, থ্যালাসেমিয়া জিনের বাহক হিসেবে কাজ করবে। নিচে চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলো:
উপরিউক্ত বাহক পিতা-মাতার সন্তানদের মধ্যে
২৫% সুস্থ সন্তান, ৫০% বাহক কিন্তু সুস্থ বিটা থ্যালাসেমিয়া সন্তান এবং ২৫% থ্যালাসেমিয়ার আক্রান্ত সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রশ্ন (vii) — 'C' এর চেয়ে 'B' বেশি ঝুঁকিপূর্ণ — বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকের 'C' অর্থাৎ বর্ণান্ধতার চেয়ে 'B' অর্থাৎ থ্যালাসেমিয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্ণান্ধতা: রোগীর মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকে না। যখন কেউ কোনো রঙ সঠিকভাবে চিনতে পারে না, সেটি হচ্ছে কালার ব্লাইন্ডনেস বা বর্ণান্ধতা। রঙ শনাক্তকারী পিগমেন্টের অভাব থাকে। পুরুষদের বেলায় সাধারণত প্রতি ১০ জনে ১ জনকে কালার ব্লাইন্ড হতে দেখা যায়। উল্লেখ্য যে, একাধিক পিগমেন্ট না থাকার কারণে লাল এবং সবুজ রঙ ছাড়াও রোগী নীল এবং হলুদ রঙও পার্থক্য করতে পারে না।
থ্যালাসেমিয়া: থ্যালাসেমিয়া রক্তের লোহিত রক্ত কণিকার এক অস্বাভাবিক অবহ্যজনিত রোগের নাম। এই রোগে লোহিত রক্ত কণিকাগুলো নষ্ট হয়। ফলে রোগী রক্তশূন্যতায় ভোগে।
দুটি প্রোটিনের জিন নষ্ট থাকার কারণে লোহিত রক্তকোষ উৎপাদিত হয়। থ্যালাসেমিয়ার কারণে জন্মের আগেই মায়ের পেটে শিশুর মৃত্যু হতে পারে।
তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের C অর্থাৎ বর্ণান্ধতার চেয়ে B অর্থাৎ থ্যালাসেমিয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রশ্ন (viii) — প্রজাতি টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয় — 'D' এর আলোকে বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
✅ উত্তর:
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'D' হলো অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম অর্থাৎ টিকে থাকার জন্য লড়াই করা। প্রজাতি টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
জীব জ্যামিতিক ও গাণিতিক হারে সংখ্যাবৃদ্ধি ঘটায় এবং খাদ্য ও বাসস্থান সীমিত থাকায় জীবকে বেঁচে থাকার জন্য কঠিন প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হতে হয়। ডারউইন এ ধরনের সংগ্রামকে 'অস্তিত্বের জন্য সংগ্রাম' বলে অভিহিত করেন। ডারউইন লক্ষ করেন যে জীবনে তিনটি পর্যায়ে এই সংগ্রাম করে। যেগুলো হলো:
- আন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (interspecific struggle): পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণী সংগ্রামে লিপ্ত। যেমন সাপ-বেজী, প্রজাপতি-মৌমাছি আন্তঃপ্রজাতিক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। ব্যাঙ কীটপতঙ্গ খায়, অন্যদিকে সাপ ব্যাঙদের খায়।
- অন্তঃপ্রজাতিক সংগ্রাম (intraspecific struggle): একই প্রজাতির বিভিন্ন সদস্যের খাদ্য এবং বাসস্থান একই রকমের হওয়ায় এদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে তারা নিজেদের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রতিযোগিতা শুরু করে।
- পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম (Struggle with environment): বন্যা, খরা, ঝড়-ঝঞ্ঝা, বালিঝড়, ভূমিকম্পন, অগ্ন্যুৎপাত-এ ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ জীবের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে। সুতরাং জীবকে তার অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য প্রতিনিয়ত এসব প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম করতে হয়।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায় যে, প্রজাতির টিকে থাকতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়।