যে খাদ্য শিকলে প্রথম স্তরের খাদক আকারে সবচেয়ে ছোট থাকে এবং পর্যায়ক্রমে উপরের খাদকেরা নিচের স্তরের খাদকদের শিকার করে খায়, এরূপ শিকলকে বলা হয় শিকারজীবী খাদ্য শিকল।
পরজীবী খাদ্যশিকল সবসময়ই অসম্পূর্ণ থাকে কারণ এ খাদ্যশিকলে কোনো উৎপাদক থাকে না। উৎপাদক না থাকার কারণে পরজীবী খাদ্যশিকল তাদের কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য শিকারজীবী খাদ্য শিকলের প্রথম এক বা একাধিক স্তরের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে পরজীবী খাদ্যশিকলকে অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলা হয়।
গরু→মশা→ডেঙ্গু ভাইরাস — এটি একটি পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল।
| ট্রফিক লেভেল | কে থাকে | উদাহরণ |
|---|---|---|
| ১ম (উৎপাদক) | সবুজ উদ্ভিদ | ঘাস, শেওলা |
| ২য় (১ম স্তরের খাদক) | তৃণভোজী | হরিণ, জুওপ্ল্যাংকটন |
| ৩য় (২য় স্তরের খাদক) | মাংসাশী | ব্যাঙ, ছোট মাছ |
| ৪র্থ (৩য় স্তরের খাদক) | শীর্ষ শিকারি | বাঘ, বাজপাখি |
উদ্ভিদ অজৈব বস্তু গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। উদ্ভিদে যে খাদ্য তৈরি হয় তার কিছু অংশ নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে, অবশিষ্টাংশ উদ্ভিদ দেহেই জমা থাকে। তৃণভোজী প্রাণী এসব উদ্ভিদ খায় এবং পর্যায়ক্রমে মাংসাশী প্রাণী এসব তৃণভোজীদের খায়। এসব উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মৃত্যুর পর রয়োজকগুলো এদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং পরিণামে এসব বর্জ্য বিয়োজিত হয়ে মাটি বা পানির সাথে মিশে যায়। সবুজ উদ্ভিদ এসব বস্তু রুপান্তরিত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। সবুজ উদ্ভিদ এসব অজৈব বস্তু রুপান্তরিত করে পুনরায় খাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহার করতে পারে। পুষ্টিদ্রব্যের এরূপ চক্রাকারে প্রবাহিত হওয়ার প্রক্রিয়াটিকে পুষ্টিপ্রবাহ বলে।
যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাদেরকে বলা হয় তৃণভোজী প্রাণী। তৃণভোজী প্রাণীরা অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকরা সবুজ উদ্ভিদের পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল, বীজ বা মূল থেকে জীবন ধারণ করে। তৃণভোজী খাদক অর্থাৎ প্রথম স্তরের খাদক দ্বিতীয় ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধি। খরগোশ যেহেতু তৃণভোজী প্রাণী, তাই খরগোশ বাস্তুতন্ত্রে দ্বিতীয় ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধিত্ব করে।
মিউচুয়ালিজম হলো একটি ধনাত্মক আন্তঃসম্পর্ক যেখানে সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। এজন্য শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়। কারণ ছত্রাক বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প এবং খনিজ লবণ উভয় ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করে। অপরদিকে শেওলা তার ক্লোরোফিলের মাধ্যমে নিজের জন্য ও ছত্রাকের জন্য শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এ কারণে শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়।
ব্যাকটেরিয়া ও শিমজাতীয় উদ্ভিদের মধ্যকার সম্পর্ক হলো মিউচুয়ালিজম। রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিমজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে অবস্থান করে গুটি (নিডিউল) তৈরি করে এবং বায়বীয় নাইট্রোজেনকে সেখানে সংবদ্ধ করে। ব্যাকটেরিয়া এই নাইট্রোজেন সহযোগী শিম উদ্ভিদকে সরবরাহ করে এবং বিনিময়ে সহযোগী উদ্ভিদ থেকে শর্করাজাতীয় খাদ্য পেয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া ও শিমজাতীয় উদ্ভিদ পারস্পরিক ক্রিয়া উভয়ই উপকৃত হয়।
যে মিথক্রিয়ায় আন্তঃসম্পর্ক গঠনকারী জীবদের মধ্যে মাত্র একজন উপকৃত হয়, অন্য সহযোগী উপকৃত না হলেও কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হয় না, সে মিথক্রিয়াকে কমেনসেলিজম বলে।
বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় উপাদান পৃথিবীকে ঢালের মতো ঢেকে রেখে উত্তপ্ত পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় এবং পৃথিবীপৃষ্ঠ ও এর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে, এসব গ্যাসকে গ্রিন হাউস গ্যাস বলে।
গ্রিন হাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে গ্রিন হাউস এফেক্ট বলে।
উদ্দীপকের 'A' খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খল। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো—
'A' খাদ্যশৃঙ্খলটি একটি শিকারজীবী খাদ্য শিকল। কারণ এ ধরনের খাদ্য শিকলে পর্যায়ক্রমে উপরের খাদকেরা নিচের স্তরের খাদকদের শিকার করে খায়। এআকারে সবচেয়ে ছোট থাকে এবং জুওপ্ল্যাংকটনকে ছোট মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, এছাড়াও জুওপ্ল্যাংকটন উৎপাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বড় মাছ। কিন্তু উল্লিখিত খাদ্যশৃঙ্খলটিতে উৎপাদক উপস্থিত নেই। বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ধাপে সবুজ উদ্ভিদ না থাকায় 'A' খাদ্যশৃঙ্খলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খল।
উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' খাদ্যশিকলটির সাথে আরো তিনটি খাদ্য শিকল নিয়ে একটি খাদ্যজাল নিচে তৈরি করা হলো—
খাদ্য শিকল তিনটি হলো:
উদ্দীপকের 'D' তে উল্লিখিত জীব দুটি হলো শিম উদ্ভিদ ও রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া। এরা ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া প্রদর্শন করে। এ আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবই একটি অন্যটিকে সাহায়তা করে অর্থাৎ মিউচুয়ালিজম আন্তঃক্রিয়া প্রদর্শন করে। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো—
মিউচুয়ালিজমে সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে অবস্থান করে গুটি (নিডিউল) তৈরি করে এবং বায়বীয় নাইট্রোজেনকে সেখানে সংবদ্ধ করে। ব্যাকটেরিয়া এই নাইট্রোজেন সহযোগী শিম উদ্ভিদকে সরবরাহ করে এবং বিনিময়ে সহযোগী উদ্ভিদ থেকে শর্করাজাতীয় খাদ্য পেয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া ও শিমজাতীয় উদ্ভিদ পারস্পরিক ক্রিয়া উভয়ই উপকৃত হয়, তাই এরা মিউচুয়ালিজম আন্তঃক্রিয়া প্রদর্শন করে।
উদ্দীপকের 'C' তে উল্লিখিত উপাদানগুলো হলো: আমগাছ, রোহিণী, স্বর্ণলতা, পতঙ্গ, পাখি এবং লাইকেন। এসব উপাদান নিয়ে গঠিত খাদ্য শিকলটি নিম্নরূপ—
'B' খাদ্য শিকলে শক্তির অপচয় বেশি হবে কারণ যে খাদ্য শিকলে খাদ্যস্তর যতবেশি হবে শক্তির অপচয়ের পরিমাণ তত বেশি হবে। নিচে 'B' খাদ্য শিকলে শক্তির অপচয় বেশি হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো—
যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের কোনো একটি ট্রফিক লেভেলে যতটুকু শক্তি থাকে তার প্রায় ১০% ঠিক পরবর্তী ট্রফিক লেভেলে সঞ্চারিত হতে পারে। বাকি ৯০% তাপ হিসেবে পরিবেশে বিমুক্ত হয় কিংবা আংশিকভাবে অব্যবহৃত থেকে যায়। খাদ্য শিকলে শক্তির ক্রমহ্রাসমান ক্ষয়ের কারণে খাদ্য শিকল যত দীর্ঘ হবে, উর্ধ্বতম ট্রফিক লেভেলে শক্তির পরিমাণ তততই কমতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে এসে আর কোনো শক্তিই অবশিষ্ট থাকবে না। পক্ষান্তরে খাদ্য শিকল ছোট হলে শক্তির পরিমাণ কম ক্ষয় পাবে।
'A' খাদ্য শিকলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্য শিকল। কারণ প্রথম ধাপে সবুজ উদ্ভিদ উপস্থিত নেই। এই খাদ্য শিকলে শক্তির পরিমাণ কম। এ খাদ্য শিকলে একস্তর থেকে অন্যস্তরে শক্তিপ্রবাহের সময় শক্তি ব্যয়ও কম হবে কারণ খাদ্যস্তরের সংখ্যা কম।
'B' খাদ্য শিকলটি একটি সম্পূর্ণ খাদ্য শিকল। এ খাদ্য শিকলে খাদ্যস্তরের সংখ্যা ৫টি অর্থাৎ খাদ্যস্তরের সংখ্যা বেশি। এ খাদ্য শিকলে শেওলা হলো উৎপাদক। শেওলা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পরিবেশীয় উপাদানের সাহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। শেওলাকে খেয়ে বেঁচে থাকে জুওপ্ল্যাংকটন। ক্রমান্বয়ে জুওপ্ল্যাংকটন থেকে ছোট মাছ, ছোট মাছ থেকে বড় মাছ এবং বড় মাছ থেকে বাজপাখিতে শক্তি প্রবাহিত হয়।
'B' খাদ্য শিকলটি বেশি দীর্ঘ হওয়ার কারণে অর্থাৎ খাদ্যস্তর বেশি হওয়ার কারণে এখানে শক্তির অপচয় বেশি হবে।
যদি ছোট মাছের সংখ্যা কমে যায় তাহলে বড় মাছের খাবারের ঘাটতি দেখা দিবে। সেজন্য বড় মাছের সংখ্যাও কমতে থাকবে। আবার ছোট মাছের সংখ্যা কমে গেলে ভাসমান সবুজ উদ্ভিদের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। কারণ উৎপন্ন ভাসমান সবুজ উদ্ভিদের যেথষ্ট পরিমাণ খাদক পুকুরে থাকবে না। যদি উৎপাদকের পরিমাণ বাড়তে থাকে আবার বড় মাছের পরিমাণ কমতে থাকে তাহলে, উক্ত বাস্তুতন্ত্র এক ধরনের জটিলতা দেখা দিবে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তার সাথে বাস্তুতন্ত্রের শক্তি প্রবাহ এবং পুষ্টি প্রবাহেও জটিলতা দেখা দিবে। যা কিনা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
জীবকুল বাস্তুতন্ত্রের সক্রিয় উপাদান। এরাই তাদের কাজের মাধ্যমে পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন আনে। পরিবেশের জীবজ উপাদানগুলো প্রধানত তিন প্রকার, যথা: উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক। সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রধান খাদ্য কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) তৈরি করে। এ সময় উপজাত হিসেবে উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে।
সুতরাং সালোকসংশ্লেষণ হচ্ছে বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া। উৎপাদক হলো সবুজ উদ্ভিদকুল। আবার কোনো প্রাণীই পরিবেশের জড় পদার্থ থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। তারা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। এরা হলো খাদক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি অণুক্ষুদ্র জীব বা অণুজীব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ এবং মৃতদেহ থেকে তাদের খাদ্য গ্রহণ করে। পরিণামে এসব বর্জ্য বিয়োজিত হয়ে মাটি বা পানির সাথে মিশে যায়। এই মিশে যাওয়া উপাদানগুলো তখন উদ্ভিদের পক্ষে আবার খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এই অণুজীবগুলোকে বিয়োজক বা পরিবর্তক বলে।
উক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় 'B' এর উপাদান অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের জীবজ উপাদান ক্রিয়াশীল থাকায় বাস্তুতন্ত্র সচল থাকে।
সমতল ভূমির উপর অবস্থিত যে ত্রিমাত্রিক বস্তুর শীর্ষদেশ ক্রমশ সরু, তাকে পিরামিড বলে। কোনো একটি বাস্তুতন্ত্রে ট্রফিক লেভেলের গঠন একটি পিরামিড আকারে দেখানো যায়। খাদ্যশিকলে যুক্ত প্রতিটি পুষ্টিস্তরের শক্তি সঞ্চয় ও হস্তান্তরের বিন্যাস ছকে শক্তি পিরামিড বলে। পিরামিডের সবচেয়ে নিচে উৎপাদক স্তরের শক্তির পরিমাণ পরবর্তী ট্রফিক লেভেলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। উপরের ট্রফিক লেভেলের জীব নিচের ট্রফিক লেভেলের জীবদেহের চেয়ে শুষণ এবং অন্যান্য কাজে ক্রমবর্ধমান হারে অধিক শক্তি তাপ হিসাবে হারায়। এজন্য উৎপাদক থাকে পিরামিডের ভূমিতে এবং চূড়ান্ত খাদক থাকে সবার উপরে।
উদ্দীপকের 'C' এ উল্লিখিত জীবগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথক্রিয়া ও আন্তঃনির্ভরশীলতা বিশ্লেষণ করলে সেখানে মিউচুয়ালিজম, কমেনসেলিজম ও শোষণ পরিলক্ষিত হয়।
অতএব উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা বুঝা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত জীবগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথক্রিয়া ও আন্তঃনির্ভরশীলতা তাদের নিজেদের এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের 'B' তে একটি বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন উপাদান দেখানো হয়েছে। এখানে উৎপাদক, খাদক ইত্যাদি জীব উপাদান রয়েছে। এ সকল উপাদানের হ্রাস-বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
উদ্ভিদ অজৈব বস্তু গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যের শক্তি ও অন্যান্য জৈব অজৈব বস্তুকে ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করে। সবুজ উদ্ভিদের তৈরি এই খাদাই খাদ্যজালের অন্যান্য খাদকের মধ্যে সঞ্চালিত হয়ে একে অপরকে ভক্ষণের মাধ্যমে। ফলে একটি খাদ্যজালের সকল খাদক পুষ্টি ও শক্তি পায়। তাই উৎপাদকের সংখ্যা হ্রাস পেলে খাদ্যজালের খাদকরা খাদ্যের অভাবে মারা যেতে থাকবে। ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ঠিক থাকবে না। আবার প্রথম স্তরের খাদকের সংখ্যা হ্রাস পেলে উৎপাদকের সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে যাবে। অপরপক্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের খাদকরা পর্যায়ক্রমে খাদ্যাভাবে মারা যেতে থাকবে। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদক হ্রাস পেলে প্রথম স্তরের খাদক অত্যাধিক হারে বেড়ে গিয়ে উৎপাদকের সংখ্যা হ্রাস ঘটাবে। আবার তৃতীয় স্তরের খাদক হ্রাস পেলে দ্বিতীয় স্তরের খাদক অত্যাধিক বেড়ে যাবে, ফলে প্রথম স্তরের খাদক সংখ্যা হ্রাস পাবে। এভাবে খাদকের সংখ্যা কোনো স্তরে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টি উপাদান কম জমা হবে। ফলে উৎপাদকের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে।
এভাবে, বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের ক্ষেত্রে হ্রাস-বৃদ্ধি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।
উদ্দীপকের 'B' খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল। পরজীবী খাদ্যশিকল একটি অসম্পূর্ণ খাদ্য শিকল।
ম্যালেরিয়া জীবাণু মশার মাধ্যমে বাহিত হয়ে মানুষের শরীরের প্রবেশ করে। এখানে মানুষ পোষকদেহ এবং মশা বাহক। মশা পরজীবী তার নিজের চেয়ে বড় আকারের পোষকদেহ অর্থাৎ মানুষ থেকে খাদ্য বা পুষ্টি গ্রহণ করে।
পরজীবী খাদ্যশিকল একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল কারণ এ খাদ্যশিকলে কোনো উৎপাদক থাকে না। উৎপাদক না থাকার কারণে পরজীবী খাদ্যশিকল কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য শিকারজীবী খাদ্য শিকলের এক বা একাধিক স্তরের উপর নির্ভরশীল।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, 'B' খাদ্যশিকলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল।
| বিষয় | 'A' শৃঙ্খল (শিকারজীবী) | 'B' শৃঙ্খল (পরজীবী) |
|---|---|---|
| ধরন | শিকারজীবী খাদ্যশিকল | পরজীবী খাদ্যশিকল |
| সম্পূর্ণতা | সম্পূর্ণ (উৎপাদক আছে) | অসম্পূর্ণ (উৎপাদক নেই) |
| উৎপাদক | ঘাস (আছে) | নেই |
| শিকারি ও শিকার | প্রতিটি স্তরে শিকারি বড় | পরজীবী ছোট, পোষক বড় |
| শক্তির উৎস | সূর্যের শক্তি (সালোকসংশ্লেষণ) | পোষকদেহ থেকে |
| উদাহরণ | ঘাস→পতঙ্গ→ব্যাঙ→সাপ→বাজ | মানুষ→মশা→ম্যালেরিয়া |
উদ্দীপকের 'C' হলো:
সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। উদ্ভিদ উৎপন্ন খাদ্যের কিছু অংশ নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ উদ্ভিদ দেহেই জমা থাকে। হরিণ সবুজ উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। উদ্ভিদে সঞ্চিত পুষ্টি হরিণে প্রবাহিত হয়। আবার হরিণকে বাঘ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। হরিণের দেহে সঞ্চিত পুষ্টি বাঘের দেহে স্থানান্তরিত হয়। আবার বাঘ মারা গেলে উদ্দীপকের 'X' অর্থাৎ বিয়োজক বাঘের দেহকে পচিয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে পুনরায় বাঘের দেহে সঞ্চিত পুষ্টি মাটিতে ফিরে আসে যা পরবর্তীতে সবুজ উদ্ভিদ পুষ্টি হিসেবে শোষণ করে নেয়। এভাবে পুষ্টিদ্রব্য এক স্তর থেকে অন্যস্তরে প্রবাহিত হয়।
উদ্দীপকের 'D' হলো জলজ বাস্তুতন্ত্র বা পুকুরের বাস্তুতন্ত্র। পুকুরের বাস্তুতন্ত্র জড় উপাদান ও সজীব উপাদান নিয়ে গঠিত। জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, সূর্যালোক, কার্বন ডাইঅক্সাইড, অক্সিজেন ইত্যাদি। সজীব উপাদান উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক নিয়ে গঠিত।
উদ্দীপকের 'X' হলো বিয়োজক। বিয়োজকের অনুপস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত হয়।
বিয়োজক বা পরিবর্তক উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ এবং মৃতদেহ থেকে তাদের খাদ্য গ্রহণ করে এবং এসব বর্জ্যকে বিয়োজিত করে মাটি বা পানির সাথে মিশে যেতে সাহায়তা করে। এই মিশে যাওয়া উপাদানগুলো উদ্ভিদের পক্ষে পুনরায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
বিয়োজকের দ্বারা উদ্ভিদ হিউমাস থেকে পুনরায় বিভিন্ন অজৈব উপাদান সংগ্রহ করে সৌরশক্তির সাহায়ে পুনরায় খাদ্য প্রস্তুত করে। কিন্তু বিয়োজকের অনুপস্থিতিতে বর্জ্য পদার্থ এবং গুতদেহগুলো মাটিতে মিশে যাবে না। অর্থাৎ বিয়োজক না থাকলে অর্পচা জীবে পৃথিবী ভরে যেত এবং মানুষের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়তো। এতে তাদের দেহে সঞ্চিত উপাদানগুলো প্রকৃতিতে ফিরে আসবে না। ফলে জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর প্রাপ্যতা কমে যাবে এবং পুষ্টির অভাবে জীবজগত বাঁচতে পারবে না। ফলে ধীরে ধীরে পরিবেশ ভারসাম্যতা হারাবে।