🎓 Fictus Academy
Lecture by Leon Vai
অধ্যায়
১৩

জীবের পরিবেশ

Environment of Life

📚 মাধ্যমিক জীববিজ্ঞান | SSC পরীক্ষা প্রস্তুতি
✅ সম্পূর্ণ লেকচার শিট 📝 MCQ + সৃজনশীল প্রস্তুতি 🎯 স্বয়ংসম্পূর্ণ নোট 🏆 বোর্ড প্রশ্নসহ

📋 বিষয়সূচি (Table of Contents)

  1. Concept 13.1 — বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)
  2. Concept 13.2 — পুকুরের বাস্তুতন্ত্র
  3. Concept 13.3 — খাদ্যশিকল বা খাদ্যশৃঙ্খল
  4. Concept 13.4 — খাদ্যজাল
  5. Concept 13.5 — জীববৈচিত্র্য
  6. Concept 13.6 — পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব ও পদ্ধতি
  7. Comprehensive Questions (সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর)
  8. শব্দকোষ (Vocabulary)
  9. Quick Revision
🌿 Concept 13.1 — বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)
আমরা জানি, জীবজগৎ কখনো একা বাঁচে না। জীব ও তার চারপাশের পরিবেশ মিলে যে অখণ্ড ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকেই বলা হয় বাস্তুতন্ত্র।
বাস্তুতন্ত্র কী? দি.বো.'২৫
📖 সংজ্ঞা: বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem)
জীবসম্প্রদায়ের সাথে পরিবেশের জড় পদার্থ ও ভৌত পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়াই হলো বাস্তুতন্ত্র।
💡 সহজে বুঝি
একটি পুকুর, একটি বন, একটি মাঠ — প্রত্যেকটিই একেকটি বাস্তুতন্ত্র। এখানে জীব ও অজীব পদার্থ মিলে একসাথে কাজ করে।
উৎপাদক কী? চ.বো., সি.বো.'১৭
📖 সংজ্ঞা: উৎপাদক (Producer)
উৎপাদক হলো সেসব সবুজ উদ্ভিদ যারা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজেদের খাবার নিজেরাই প্রস্তুত করতে পারে।
✅ মনে রাখো
উৎপাদক → বাস্তুতন্ত্রের শুরু এবং শক্তির মূল উৎস। উৎপাদক না থাকলে কোনো খাদ্যশিকল বা খাদ্যজাল সম্ভব নয়।
খাদক কাকে বলে? ব.বো.'১৬
📖 সংজ্ঞা: খাদক (Consumer)
যেসব জীব সবুজ উদ্ভিদের মতো সৌরশক্তি ব্যবহার করে নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং অন্য জীবকে ভক্ষণ করে পুষ্টির প্রয়োজন মেটায়, তাদেরকে খাদক বলে।
ধাড়ড় কী? / প্রকৃতির ধাড়ড় কাকে বলে? সি.বো.'২০; কু.বো.'১৭; রা.বো.'২৪
📖 সংজ্ঞা: ধাড়ড় (Scavenger)
যেসব খাদক জীব জীবন্ত প্রাণির চেয়ে মৃত প্রাণির মাংস বা আবর্জনা খেতে বেশি পছন্দ করে, তাদেরকে আবর্জনাভুক প্রাণি বা ধাড়ড় বলে।
💡 উদাহরণ
কাক, শকুন, শিয়াল, হায়েনা ইত্যাদি — এরাই প্রকৃতির ধাড়ড় বা আবর্জনাভুক প্রাণি।
বিয়োজক কাকে বলে? চ.বো.'১৬; সি.বো.'১৬
📖 সংজ্ঞা: বিয়োজক (Decomposer)
যেসব জীব মৃত জীবদেহের পচন ঘটায় এবং এর মাধ্যমে নিজেদের জন্য পুষ্টি সংগ্রহ করে, তাদের বিয়োজক বলে।
💡 উদাহরণ
ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি অণুজীব — এরা মৃতদেহ পচিয়ে মাটি ও পানিতে মিশিয়ে দেয়।
চিত্র: বাস্তুতন্ত্রের উপাদান ও সম্পর্ক
সূর্য উৎপাদক (সবুজ উদ্ভিদ) সালোকসংশ্লেষণ ১ম স্তরের খাদক (তৃণভোজী) ২য় / ৩য় স্তরের খাদক বিয়োজক (ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক) জড় উপাদান (অজৈব ও জৈব যৌগ)
🐟 Concept 13.2 — পুকুরের বাস্তুতন্ত্র
বাস্তুতন্ত্রের একটি চমৎকার বাস্তব উদাহরণ হলো পুকুর। পুকুরে জড় ও সজীব উপাদান মিলে একটি সম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্র তৈরি হয়।
গ্রাংকটন কী? ম.বো.'২০; ঢা.বো.'১৬
📖 সংজ্ঞা: প্ল্যাংকটন (Plankton)
পানিতে ভাসমান অবস্থায় বসবাসরত অতি ক্ষুদ্র জীবকে প্ল্যাংকটন বলে।
⚡ দুই ধরনের প্ল্যাংকটন
ফাইটোপ্ল্যাংকটন (Phytoplankton) → উদ্ভিদ জাতীয়, উৎপাদক হিসেবে কাজ করে
জুওপ্ল্যাংকটন (Zooplankton) → প্রাণি জাতীয়, ১ম স্তরের খাদক
জুওপ্ল্যাংকটন কি?
📖 সংজ্ঞা: জুওপ্ল্যাংকটন (Zooplankton)
পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণীদেরকে জুওপ্ল্যাংকটন বলে।
⚠️ পরীক্ষার টিপস
জুওপ্ল্যাংকটন নিজে খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না, তাই সরাসরি উৎপাদককে ভক্ষণ করে বেঁচে থাকে। এরা প্রথম স্তরের খাদক
চিত্র: পুকুরের বাস্তুতন্ত্র
সূর্য ম্যাক্রোফাইট (উৎপাদক) ফাইটোপ্ল্যাংকটন (উৎপাদক) জুওপ্ল্যাংকটন (১ম স্তর খাদক) ছোট মাছ (২য় স্তর খাদক) বড় মাছ (৩য় স্তর খাদক) বিয়োজক (কাদায় ব্যাকটেরিয়া) জড় উপাদান (অজৈব ও জৈব যৌগ)
🔗 Concept 13.3 — খাদ্যশিকল বা খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain)
উৎপাদক থেকে খাদক পর্যন্ত খাদ্য কীভাবে প্রবাহিত হয়? এই সরল ধারাবাহিক পথটিকেই খাদ্যশিকল বলা হয়।
খাদ্য শৃঙ্খল কী? ব.বো.'১৭
📖 সংজ্ঞা: খাদ্যশিকল / খাদ্যশৃঙ্খল (Food Chain)
খাদ্যের উৎপাদক থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ খাদক পর্যন্ত শৃঙ্খল আকারে খাদ্য ও খাদকের যে সরল ধারাবাহিকতা দেখা যায়, তাকে খাদ্যশৃঙ্খল বলে।
💡 উদাহরণ
ঘাস পতঙ্গ ব্যাঙ সাপ বাজপাখি
শেওলা জুওপ্ল্যাংকটন ছোট মাছ বড় মাছ বাজপাখি
মৃতজীবী খাদ্যশিকল কাকে বলে? সম্মিলিত বোর্ড-'১৮; ঢা.বো.'১৫
📖 সংজ্ঞা: মৃতজীবী খাদ্যশিকল (Detritus Food Chain)
জীবের মৃতদেহ থেকে শুরু হয়ে যদি কোনো খাদ্যশিকল একাধিক খাদ্যস্তরের বিন্যাস হয়, তবে সেরূপ শিকলকে বলা হয় মৃতজীবী খাদ্যশিকল।
💡 উদাহরণ
মৃতদেহ ছত্রাক কেঁচো
১০ শিকারজীবী খাদ্য শিকল কাকে বলে কী বুঝ? অনুধাবনমূলক

যে খাদ্য শিকলে প্রথম স্তরের খাদক আকারে সবচেয়ে ছোট থাকে এবং পর্যায়ক্রমে উপরের খাদকেরা নিচের স্তরের খাদকদের শিকার করে খায়, এরূপ শিকলকে বলা হয় শিকারজীবী খাদ্য শিকল

💡 উদাহরণ
ঘাস ফড়িং বাঁজ
১১ পরজীবী খাদ্যশিকলকে অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলা হয় কেন? ব.বো.'২৫

পরজীবী খাদ্যশিকল সবসময়ই অসম্পূর্ণ থাকে কারণ এ খাদ্যশিকলে কোনো উৎপাদক থাকে না। উৎপাদক না থাকার কারণে পরজীবী খাদ্যশিকল তাদের কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য শিকারজীবী খাদ্য শিকলের প্রথম এক বা একাধিক স্তরের উপর নির্ভরশীল। এ কারণে পরজীবী খাদ্যশিকলকে অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল বলা হয়।

১২ গরু → মশা → ডেঙ্গু ভাইরাস কোন ধরনের খাদ্যশৃঙ্খল? ব্যাখ্যা করো। সম্মিলিত বোর্ড-'১৮

গরুমশাডেঙ্গু ভাইরাস — এটি একটি পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল

💡 ব্যাখ্যা
এখানে পরজীবী জীব নিজেদের চেয়ে বড় আকারের পোষকদেহ থেকে খাদ্য গ্রহণ করছে। খাদ্যশৃঙ্খলটিতে প্রথম ধাপে সবুজ উদ্ভিদ না থাকায় একটি অসম্পূর্ণ খাদ্য শিকল গড়ে উঠেছে।
Similar Q: মশা ও ডেঙ্গু ভাইরাসের মধ্যে কী ধরনের খাদ্য শিকল বিদ্যমান? — সি.বো.'২০
🕸️ Concept 13.4 — খাদ্যজাল (Food Web)
বাস্তবে একটি জীব শুধু একটি খাদ্যশিকলে যুক্ত নয়, একাধিক শিকলে থাকে। এই আন্তঃসংযুক্ত শিকলগুলোকে একসাথে বলা হয় খাদ্যজাল।
১৩ খাদ্যজাল কী? চ.বো.'২০
📖 সংজ্ঞা: খাদ্যজাল (Food Web)
বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শিকলে একই খাদক বিভিন্ন স্তরে স্থান পেতে পারে। এভাবে বেশ কয়েকটি খাদ্য শিকল একত্রিত হয়ে একটি জালের মতো গঠন তৈরি করে। একে খাদ্যজাল বলে।
১৪ শক্তি প্রবাহ কাকে বলে? ব.বো.'২০
📖 সংজ্ঞা: শক্তি প্রবাহ (Energy Flow)
বাস্তুতন্ত্রের মধ্য দিয়ে শক্তির একমুখী চলনকে শক্তি প্রবাহ বলে।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ
শক্তি প্রবাহ সবসময় একমুখী — শুধু উৎপাদক → খাদক দিকে প্রবাহিত হয়, উল্টো দিকে নয়।
১৫ ট্রফিক লেভেল কাকে বলে? কু.বো.'২৫,'২৪; চ.বো.'২৫; ঢা.বো.'১৭
📖 সংজ্ঞা: ট্রফিক লেভেল (Trophic Level)
খাদ্য শিকলের প্রতিটি স্তরকে ট্রফিক লেভেল বলে।
💡 বিভিন্ন ট্রফিক লেভেল
ট্রফিক লেভেলকে থাকেউদাহরণ
১ম (উৎপাদক)সবুজ উদ্ভিদঘাস, শেওলা
২য় (১ম স্তরের খাদক)তৃণভোজীহরিণ, জুওপ্ল্যাংকটন
৩য় (২য় স্তরের খাদক)মাংসাশীব্যাঙ, ছোট মাছ
৪র্থ (৩য় স্তরের খাদক)শীর্ষ শিকারিবাঘ, বাজপাখি
১৬ শক্তির পিরামিড কী? সি.বো.'১৬
📖 সংজ্ঞা: শক্তির পিরামিড (Energy Pyramid)
খাদ্যশিকলে যুক্ত প্রতিটি পুষ্টিস্তরের শক্তি সঞ্চয় ও হস্তান্তরের বিন্যাসকে ছকে শক্তি পিরামিড বলে।
চিত্র: শক্তি প্রবাহের পিরামিড
উৎপাদক (শেওলা) জুওপ্ল্যাংকটন ছোট মাছ বড় মাছ বাজ প্রতি স্তরে ~১০% শক্তি স্থানান্তর হয়
✅ ১০% নিয়ম (Ten Percent Law)
প্রতিটি ট্রফিক লেভেলে প্রায় ১০% শক্তি পরবর্তী স্তরে স্থানান্তরিত হয়। বাকি ৯০% তাপ হিসেবে পরিবেশে বিমুক্ত হয় বা আংশিকভাবে অব্যবহৃত থেকে যায়।
১৭ বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টির প্রবাহ চক্রাকার — ব্যাখ্যা করো। ব.বো.'১৫

উদ্ভিদ অজৈব বস্তু গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। উদ্ভিদে যে খাদ্য তৈরি হয় তার কিছু অংশ নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে, অবশিষ্টাংশ উদ্ভিদ দেহেই জমা থাকে। তৃণভোজী প্রাণী এসব উদ্ভিদ খায় এবং পর্যায়ক্রমে মাংসাশী প্রাণী এসব তৃণভোজীদের খায়। এসব উদ্ভিদ ও প্রাণীদের মৃত্যুর পর রয়োজকগুলো এদের খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং পরিণামে এসব বর্জ্য বিয়োজিত হয়ে মাটি বা পানির সাথে মিশে যায়। সবুজ উদ্ভিদ এসব বস্তু রুপান্তরিত করে পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়। সবুজ উদ্ভিদ এসব অজৈব বস্তু রুপান্তরিত করে পুনরায় খাদ্য প্রস্তুতে ব্যবহার করতে পারে। পুষ্টিদ্রব্যের এরূপ চক্রাকারে প্রবাহিত হওয়ার প্রক্রিয়াটিকে পুষ্টিপ্রবাহ বলে।

১৮ খরগোশ বাস্তুতন্ত্রে কোন ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধিত্ব করে? ব্যাখ্যা করো। চ.বো.'২০

যেসব প্রাণী সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাদেরকে বলা হয় তৃণভোজী প্রাণী। তৃণভোজী প্রাণীরা অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের প্রথম স্তরের খাদকরা সবুজ উদ্ভিদের পাতা, কাণ্ড, ফুল, ফল, বীজ বা মূল থেকে জীবন ধারণ করে। তৃণভোজী খাদক অর্থাৎ প্রথম স্তরের খাদক দ্বিতীয় ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধি। খরগোশ যেহেতু তৃণভোজী প্রাণী, তাই খরগোশ বাস্তুতন্ত্রে দ্বিতীয় ট্রফিক লেভেলের প্রতিনিধিত্ব করে

🌍 Concept 13.5 — জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)
প্রকৃতিতে যে অসংখ্য প্রজাতির জীব বিরাজ করছে এবং তাদের বিচিত্র সম্পর্কই হলো জীববৈচিত্র্যের বিষয়।
১৯ জীববৈচিত্র্য কাকে বলে? ঢা.বো.'২৪; চ.বো.'২৪; ব.বো.'২৪; দি.বো.'১৯; রা.বো.'১৫
📖 সংজ্ঞা: জীববৈচিত্র্য (Biodiversity)
পৃথিবীতে বিরাজমান জীবজগতের প্রাচুর্য এবং ভিন্নতাই হলো জীববৈচিত্র্য।
২০ প্রজাতিগত বৈচিত্র্য কী? ঢা.বো.'২০
📖 সংজ্ঞা: প্রজাতিগত বৈচিত্র্য (Species Diversity)
প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বলতে সাধারণত পৃথিবীতে বিরাজমান জীবসমূহের মোট প্রজাতির সংখ্যাকে বুঝায়। কারণ পৃথকযোগ্য বৈশিষ্ট্যেই এক প্রজাতি থেকে অন্য প্রজাতির প্রজাতি বিভিন্নতা এবং আর এই বৈচিত্র্যই প্রজাতিগত বৈচিত্র্য।
২১ সিমবায়োসিস কাকে বলে? রা.বো.'২০
📖 সংজ্ঞা: সিমবায়োসিস (Symbiosis)
জীবজগতে বিভিন্ন প্রকার গাছপালা ও প্রাণীদের মধ্যে বিদ্যমান জৈবিক সম্পর্কগুলোকে সিমবায়োসিস বলে।
২২ মিথক্রিয়া কী? সি.বো.'১৬
📖 সংজ্ঞা: মিথক্রিয়া (Interaction)
জীব জগতে বিভিন্ন প্রকার গাছপালা ও প্রাণীদের মধ্যে বিদ্যমান জৈবিক সম্পর্কগুলোতে যে ক্রিয়া-বিক্রিয়া ঘটে, তাকে মিথক্রিয়া বলে।
২৩ মিউচুয়ালিজম কী? রা.বো.'২৫
📖 সংজ্ঞা: মিউচুয়ালিজম (Mutualism)
যে আন্তঃসম্পর্কে দুটি সহযোগীর উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়, তাকে মিউচুয়ালিজম বলে।
💡 উদাহরণ
লাইকেন = শেওলা + ছত্রাকের সহাবস্থান (উভয়ই উপকৃত হয়)
রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া + শিম জাতীয় উদ্ভিদ (উভয়ই উপকৃত)
২৪ লাইকেন কাকে বলে? সি.বো.'২৪; রা.বো.'১৬
📖 সংজ্ঞা: লাইকেন (Lichen)
লাইকেন হচ্ছে শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থান।
✅ গুরুত্বপূর্ণ
লাইকেনে ছত্রাক বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প ও খনিজ লবণ উভয় ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করে। অপরদিকে শেওলা তার ক্লোরোফিলের মাধ্যমে নিজের জন্য ও ছত্রাকের জন্য শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এ কারণে শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়।
২৫ কমেনসেলিজম কী? সি.বো.'২০
📖 সংজ্ঞা: কমেনসেলিজম (Commensalism)
যে মিথক্রিয়ায় আন্তঃসম্পর্ক গঠনকারী জীবদের মধ্যে মাত্র একজন উপকৃত হয়, অন্য সহযোগী উপকৃত না হলেও কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হয় না, সে মিথক্রিয়াকে কমেনসেলিজম বলে।
💡 উদাহরণ
রোহিণী উদ্ভিদ মূলের সাহায়ে নিজেকে মাটিতে আবদ্ধ করে এবং অন্য বড় উদ্ভিদে আরোহণ করে উপরে উঠে। এতে বড় উদ্ভিদের কোনো ক্ষতি না করলেও নিজে বেশি সূর্যের আলো পেয়ে উপকৃত হয়।
২৬ অ্যান্টিবায়োসিস কী? য.বো.'১৬; য.বো.'১৭
📖 সংজ্ঞা: অ্যান্টিবায়োসিস (Antibiosis)
একটি জীব কর্তৃক সৃষ্ট জৈব রাসায়নিক পদার্থের কারণে যদি অন্য জীবের বৃদ্ধি এবং বিকাশ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে বাধাপ্রাপ্ত হয় অথবা মৃত্যু ঘটে, তখন সেই প্রক্রিয়াকে অ্যান্টিবায়োসিস বলে।
💡 উদাহরণ
অণুজীবজগতে এ ধরনের সম্পর্ক অনেক বেশি দেখা যায়। যেমন: পেনিসিলিয়াম (ছত্রাক) থেকে পেনিসিলিন তৈরি যা ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে।
২৭ শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থান কোন ধরনের সম্পর্ক? ব্যাখ্যা করো। চ.বো.'২৫; কু.বো.'২৫

মিউচুয়ালিজম হলো একটি ধনাত্মক আন্তঃসম্পর্ক যেখানে সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। এজন্য শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়। কারণ ছত্রাক বায়ু থেকে জলীয় বাষ্প এবং খনিজ লবণ উভয় ব্যবহারের জন্য সংগ্রহ করে। অপরদিকে শেওলা তার ক্লোরোফিলের মাধ্যমে নিজের জন্য ও ছত্রাকের জন্য শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। এ কারণে শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থানকে মিউচুয়ালিজম বলা হয়।

২৮ ব্যাকটেরিয়া ও শিমজাতীয় উদ্ভিদের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো। সি.বো.'২০

ব্যাকটেরিয়া ও শিমজাতীয় উদ্ভিদের মধ্যকার সম্পর্ক হলো মিউচুয়ালিজম। রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিমজাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে অবস্থান করে গুটি (নিডিউল) তৈরি করে এবং বায়বীয় নাইট্রোজেনকে সেখানে সংবদ্ধ করে। ব্যাকটেরিয়া এই নাইট্রোজেন সহযোগী শিম উদ্ভিদকে সরবরাহ করে এবং বিনিময়ে সহযোগী উদ্ভিদ থেকে শর্করাজাতীয় খাদ্য পেয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া ও শিমজাতীয় উদ্ভিদ পারস্পরিক ক্রিয়া উভয়ই উপকৃত হয়।

২৯ কমেনসেলিজম কাকে বলে কী বোঝায়? ঢা.বো.'১৯; ঢা.বো.'১৬; সি.বো.'১৫

যে মিথক্রিয়ায় আন্তঃসম্পর্ক গঠনকারী জীবদের মধ্যে মাত্র একজন উপকৃত হয়, অন্য সহযোগী উপকৃত না হলেও কখনো ক্ষতিগ্রস্থ হয় না, সে মিথক্রিয়াকে কমেনসেলিজম বলে।

💡 উদাহরণ
রোহিণী উদ্ভিদ তার মূলের সাহায়ে নিজেকে মাটিতে আবদ্ধ করে এবং অন্য বড় উদ্ভিদে আরোহণ করে উপরে উঠে এবং বেশি পরিমাণ আলো গ্রহণ করে, কিন্তু আমগাছের কোনো ক্ষতি করে না।
♻️ Concept 13.6 — পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব ও পদ্ধতি
জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ সংরক্ষণ অপরিহার্য। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া ও পরিবেশ দূষণ এখন বড় হুমকি।
৩০ CO₂ কে গ্রিন হাউস গ্যাস বলা হয় কেন? সি.বো.'২০

বায়ুমণ্ডলে উপস্থিত যেসব গ্যাসীয় উপাদান পৃথিবীকে ঢালের মতো ঢেকে রেখে উত্তপ্ত পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় এবং পৃথিবীপৃষ্ঠ ও এর উপরিভাগের বায়ুমণ্ডলে উষ্ণতা তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে, এসব গ্যাসকে গ্রিন হাউস গ্যাস বলে।

✅ CO₂ কে প্রধান গ্রিনহাউস গ্যাস বলার কারণ
CO₂ গ্যাস বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। গ্রিন হাউস গ্যাসগুলোর মধ্যে বায়ুমণ্ডলে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে থাকে CO₂। এটিই প্রধান গ্রিন হাউস গ্যাস এবং পরিমাণে প্রায় ৫০%। তাছাড়া অন্যান্য গ্রিন হাউস গ্যাসের তুলনায় CO₂ এর তাপ ধারণ ক্ষমতাও বেশি।
📋 গ্রিনহাউস গ্যাসের তালিকা
কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂), কার্বন মনোক্সাইড (CO), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) ইত্যাদি।
৩১ গ্রিন হাউস এফেক্ট কাকে বলে? গ্রিন হাউস গ্যাসগুলোর নাম লিখ। অনুধাবনমূলক

গ্রিন হাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ঘটনাকে গ্রিন হাউস এফেক্ট বলে।

📋 গ্রিন হাউস গ্যাস
এগুলো হলো: কার্বন ডাই অক্সাইড (CO₂), কার্বন মনোক্সাইড (CO), মিথেন (CH₄), নাইট্রাস অক্সাইড (N₂O) ইত্যাদি।
📝 Comprehensive Questions — সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
📌 প্রশ্ন নং-১ | বিষয়: খাদ্য শিকল, খাদ্যজাল, শক্তি পিরামিড, মিউচুয়ালিজম, কমেনসেলিজম, শোষণ
📋 উদ্দীপক
P
A. জুওপ্ল্যাংকটন ⟶ ছোট মাছ ⟶ বড় মাছ
B. শেওলা → জুওপ্ল্যাংকটন → ছোট মাছ → বড় মাছ → বাজপাখি
C. আমগাছ, রোহিণী, স্বর্ণলতা, পতঙ্গ, পাখি, লাইকেন
D. শিম জাতীয় উদ্ভিদের মূলে রাইজোবিয়ামের অবস্থান
i উদ্দীপকের 'A' খাদ্য শৃঙ্খলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্য শৃঙ্খল — ব্যাখ্যা করো। প্রয়োগ ★★★

উদ্দীপকের 'A' খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খল। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো—

'A' খাদ্যশৃঙ্খলটি একটি শিকারজীবী খাদ্য শিকল। কারণ এ ধরনের খাদ্য শিকলে পর্যায়ক্রমে উপরের খাদকেরা নিচের স্তরের খাদকদের শিকার করে খায়। এআকারে সবচেয়ে ছোট থাকে এবং জুওপ্ল্যাংকটনকে ছোট মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, এছাড়াও জুওপ্ল্যাংকটন উৎপাদককে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে বড় মাছ। কিন্তু উল্লিখিত খাদ্যশৃঙ্খলটিতে উৎপাদক উপস্থিত নেই। বাস্তুতন্ত্রের খাদ্যশৃঙ্খল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার উপর নির্ভরশীল। খাদ্যশৃঙ্খলের প্রথম ধাপে সবুজ উদ্ভিদ না থাকায় 'A' খাদ্যশৃঙ্খলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশৃঙ্খল।

ii 'B' খাদ্য শিকলটির সাথে আরো তিনটি খাদ্যশিকল নিয়ে একটি খাদ্যজাল তৈরি করো। প্রয়োগ ★★★

উদ্দীপকে উল্লেখিত 'B' খাদ্যশিকলটির সাথে আরো তিনটি খাদ্য শিকল নিয়ে একটি খাদ্যজাল নিচে তৈরি করা হলো—

খাদ্য শিকল তিনটি হলো:

শেওলাজুওপ্ল্যাংকটনছোট মাছবাজপাখি
শেওলাজুওপ্ল্যাংকটনবড় মাছবাজপাখি
শেওলাছোট মাছবড় মাছবাজপাখি
চিত্র: খাদ্যজাল
শেওলা জুওপ্ল্যাংকটন ছোট মাছ বড় মাছ বাজপাখি
iii উদ্দীপকের 'D' এর জীব দুটি কী ধরনের আন্তঃক্রিয়া প্রদর্শন করে? ব্যাখ্যা করো। প্রয়োগ ★★★

উদ্দীপকের 'D' তে উল্লিখিত জীব দুটি হলো শিম উদ্ভিদ ও রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া। এরা ধনাত্মক আন্তঃক্রিয়া প্রদর্শন করে। এ আন্তঃসম্পর্কে দুটি জীবই একটি অন্যটিকে সাহায়তা করে অর্থাৎ মিউচুয়ালিজম আন্তঃক্রিয়া প্রদর্শন করে। নিচে এর কারণ ব্যাখ্যা করা হলো—

মিউচুয়ালিজমে সহযোগীদের উভয়ই একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া শিম জাতীয় উদ্ভিদের শিকড়ে অবস্থান করে গুটি (নিডিউল) তৈরি করে এবং বায়বীয় নাইট্রোজেনকে সেখানে সংবদ্ধ করে। ব্যাকটেরিয়া এই নাইট্রোজেন সহযোগী শিম উদ্ভিদকে সরবরাহ করে এবং বিনিময়ে সহযোগী উদ্ভিদ থেকে শর্করাজাতীয় খাদ্য পেয়ে থাকে। অর্থাৎ ব্যাকটেরিয়া ও শিমজাতীয় উদ্ভিদ পারস্পরিক ক্রিয়া উভয়ই উপকৃত হয়, তাই এরা মিউচুয়ালিজম আন্তঃক্রিয়া প্রদর্শন করে।

iv উদ্দীপকের 'C' এর উপাদানগুলো নিয়ে একটি খাদ্য শিকল তৈরি করে ব্যাখ্যা করো। প্রয়োগ ★★★

উদ্দীপকের 'C' তে উল্লিখিত উপাদানগুলো হলো: আমগাছ, রোহিণী, স্বর্ণলতা, পতঙ্গ, পাখি এবং লাইকেন। এসব উপাদান নিয়ে গঠিত খাদ্য শিকলটি নিম্নরূপ—

আমগাছ, রোহিণী, লাইকেন স্বর্ণলতা পতঙ্গ পাখি
💡 ব্যাখ্যা
এখানে আমগাছ, রোহিণী এবং লাইকেন সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে, তাই এরা শিকলটিতে উৎপাদক। স্বর্ণলতা নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে না, এরা চোষক অঙ্গের মাধ্যমে উৎপাদক থেকে খাদ্য গ্রহণ করে, তাই এরা ১ম স্তরের খাদক। স্বর্ণলতাকে খেয়ে বেঁচে থাকে পতঙ্গ, তাই পতঙ্গ ২য় স্তরের খাদক। পাখি ২য় স্তরের খাদকদের খেয়ে বেঁচে থাকে তাই পাখি ৩য় স্তরের খাদক।
v উদ্দীপকের 'A' এবং 'B' খাদ্য শিকল দুটির কোনটিতে শক্তির অপচয় বেশি হয়? বিশ্লেষণ করো। উচ্চতর দক্ষতা ★★★★

'B' খাদ্য শিকলে শক্তির অপচয় বেশি হবে কারণ যে খাদ্য শিকলে খাদ্যস্তর যতবেশি হবে শক্তির অপচয়ের পরিমাণ তত বেশি হবে। নিচে 'B' খাদ্য শিকলে শক্তির অপচয় বেশি হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো—

যেকোনো বাস্তুতন্ত্রের কোনো একটি ট্রফিক লেভেলে যতটুকু শক্তি থাকে তার প্রায় ১০% ঠিক পরবর্তী ট্রফিক লেভেলে সঞ্চারিত হতে পারে। বাকি ৯০% তাপ হিসেবে পরিবেশে বিমুক্ত হয় কিংবা আংশিকভাবে অব্যবহৃত থেকে যায়। খাদ্য শিকলে শক্তির ক্রমহ্রাসমান ক্ষয়ের কারণে খাদ্য শিকল যত দীর্ঘ হবে, উর্ধ্বতম ট্রফিক লেভেলে শক্তির পরিমাণ তততই কমতে থাকবে এবং এক পর্যায়ে এসে আর কোনো শক্তিই অবশিষ্ট থাকবে না। পক্ষান্তরে খাদ্য শিকল ছোট হলে শক্তির পরিমাণ কম ক্ষয় পাবে।

'A' খাদ্য শিকলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্য শিকল। কারণ প্রথম ধাপে সবুজ উদ্ভিদ উপস্থিত নেই। এই খাদ্য শিকলে শক্তির পরিমাণ কম। এ খাদ্য শিকলে একস্তর থেকে অন্যস্তরে শক্তিপ্রবাহের সময় শক্তি ব্যয়ও কম হবে কারণ খাদ্যস্তরের সংখ্যা কম।

'B' খাদ্য শিকলটি একটি সম্পূর্ণ খাদ্য শিকল। এ খাদ্য শিকলে খাদ্যস্তরের সংখ্যা ৫টি অর্থাৎ খাদ্যস্তরের সংখ্যা বেশি। এ খাদ্য শিকলে শেওলা হলো উৎপাদক। শেওলা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পরিবেশীয় উপাদানের সাহায়তায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। শেওলাকে খেয়ে বেঁচে থাকে জুওপ্ল্যাংকটন। ক্রমান্বয়ে জুওপ্ল্যাংকটন থেকে ছোট মাছ, ছোট মাছ থেকে বড় মাছ এবং বড় মাছ থেকে বাজপাখিতে শক্তি প্রবাহিত হয়।

'B' খাদ্য শিকলটি বেশি দীর্ঘ হওয়ার কারণে অর্থাৎ খাদ্যস্তর বেশি হওয়ার কারণে এখানে শক্তির অপচয় বেশি হবে।

vi উদ্দীপকের 'A' তে উল্লেখিত 'P' হলো ছোট মাছ। 'P' এর সংখ্যা কমে গেলে বাস্তুতন্ত্রের উপর কী প্রভাব পড়বে? বিশ্লেষণ করো। উচ্চতর দক্ষতা ★★★★

যদি ছোট মাছের সংখ্যা কমে যায় তাহলে বড় মাছের খাবারের ঘাটতি দেখা দিবে। সেজন্য বড় মাছের সংখ্যাও কমতে থাকবে। আবার ছোট মাছের সংখ্যা কমে গেলে ভাসমান সবুজ উদ্ভিদের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। কারণ উৎপন্ন ভাসমান সবুজ উদ্ভিদের যেথষ্ট পরিমাণ খাদক পুকুরে থাকবে না। যদি উৎপাদকের পরিমাণ বাড়তে থাকে আবার বড় মাছের পরিমাণ কমতে থাকে তাহলে, উক্ত বাস্তুতন্ত্র এক ধরনের জটিলতা দেখা দিবে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। তার সাথে বাস্তুতন্ত্রের শক্তি প্রবাহ এবং পুষ্টি প্রবাহেও জটিলতা দেখা দিবে। যা কিনা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

⚠️ সংক্ষেপে উত্তর
ছোট মাছ অর্থাৎ P-এর সংখ্যা কমে গেলে বাস্তুতন্ত্রের উপর অনেক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে — খাদ্যজাল বিঘ্নিত হবে, ভারসাম্য নষ্ট হবে, শক্তি প্রবাহ ও পুষ্টি প্রবাহে জটিলতা হবে।
vii উদ্দীপকের 'B' এর উপাদান ক্রিয়াশীল থাকায় বাস্তুতন্ত্র সচল থাকে — বিশ্লেষণ করো। উচ্চতর দক্ষতা ★★★★

জীবকুল বাস্তুতন্ত্রের সক্রিয় উপাদান। এরাই তাদের কাজের মাধ্যমে পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন আনে। পরিবেশের জীবজ উপাদানগুলো প্রধানত তিন প্রকার, যথা: উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক। সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং মাটি থেকে পানি সংগ্রহ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় তাদের প্রধান খাদ্য কার্বোহাইড্রেট (শর্করা) তৈরি করে। এ সময় উপজাত হিসেবে উদ্ভিদ অক্সিজেন ত্যাগ করে।

সুতরাং সালোকসংশ্লেষণ হচ্ছে বাস্তুতন্ত্রের উৎপাদন প্রক্রিয়া। উৎপাদক হলো সবুজ উদ্ভিদকুল। আবার কোনো প্রাণীই পরিবেশের জড় পদার্থ থেকে খাদ্য তৈরি করতে পারে না। তারা খাদ্যের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। এরা হলো খাদক শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ইত্যাদি অণুক্ষুদ্র জীব বা অণুজীব উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ এবং মৃতদেহ থেকে তাদের খাদ্য গ্রহণ করে। পরিণামে এসব বর্জ্য বিয়োজিত হয়ে মাটি বা পানির সাথে মিশে যায়। এই মিশে যাওয়া উপাদানগুলো তখন উদ্ভিদের পক্ষে আবার খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এই অণুজীবগুলোকে বিয়োজক বা পরিবর্তক বলে।

উক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় 'B' এর উপাদান অর্থাৎ বাস্তুতন্ত্রের জীবজ উপাদান ক্রিয়াশীল থাকায় বাস্তুতন্ত্র সচল থাকে।

viii উদ্দীপকের 'B' খাদ্যশিকলটি শক্তি প্রবাহের পিরামিড হিসেবে বিশ্লেষণ করো। উচ্চতর দক্ষতা ★★★★

সমতল ভূমির উপর অবস্থিত যে ত্রিমাত্রিক বস্তুর শীর্ষদেশ ক্রমশ সরু, তাকে পিরামিড বলে। কোনো একটি বাস্তুতন্ত্রে ট্রফিক লেভেলের গঠন একটি পিরামিড আকারে দেখানো যায়। খাদ্যশিকলে যুক্ত প্রতিটি পুষ্টিস্তরের শক্তি সঞ্চয় ও হস্তান্তরের বিন্যাস ছকে শক্তি পিরামিড বলে। পিরামিডের সবচেয়ে নিচে উৎপাদক স্তরের শক্তির পরিমাণ পরবর্তী ট্রফিক লেভেলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। উপরের ট্রফিক লেভেলের জীব নিচের ট্রফিক লেভেলের জীবদেহের চেয়ে শুষণ এবং অন্যান্য কাজে ক্রমবর্ধমান হারে অধিক শক্তি তাপ হিসাবে হারায়। এজন্য উৎপাদক থাকে পিরামিডের ভূমিতে এবং চূড়ান্ত খাদক থাকে সবার উপরে।

শেওলা (উৎপাদক) জুওপ্ল্যাংকটন ছোট মাছ বড় মাছ বাজ সর্বাধিক শক্তি
ix উদ্দীপকের 'C' এ জীবগুলোর মধ্যকার মিথক্রিয়া ও আন্তঃনির্ভরশীলতা বিশ্লেষণ করো। উচ্চতর দক্ষতা ★★★★

উদ্দীপকের 'C' এ উল্লিখিত জীবগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথক্রিয়া ও আন্তঃনির্ভরশীলতা বিশ্লেষণ করলে সেখানে মিউচুয়ালিজম, কমেনসেলিজম ও শোষণ পরিলক্ষিত হয়।

  • মিউচুয়ালিজম: আমগাছের সাথে পতঙ্গ ও পাখির যে আন্তঃনির্ভরশীলতা রয়েছে তা মূলত মিউচুয়ালিজম। মিউচুয়ালিজমে জীবগুলো একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। এখানে পতঙ্গ ফুলের মধু আহরণের সময় পরাগায়ন ঘটে এবং আমগাছের ফুল পতঙ্গকে মধু দেয়। আবার পাখি যখন ফল খায় বা ফল নিয়ে অন্য জায়গায় যায় তখন বীজের হস্তান্তর ঘটে। এছাড়াও উদ্দীপকের লাইকেনে রয়েছে শেওলা ও ছত্রাক। এরা একে অন্যের দ্বারা উপকৃত হয়। এখানে শেওলা খাদ্য তৈরি করে এবং ছত্রাক শেওলাকে বাসস্থান প্রদান করে।
  • কমেনসেলিজম: অন্যদিকে রোহিণী উদ্ভিদ এবং আমগাছের মধ্যকার সম্পর্ক হলো কমেনসেলিজম। এক্ষেত্রে রোহিণী উদ্ভিদ তার মূলের সাহায়ে নিজেকে মাটিতে আবদ্ধ করে এবং আমগাছে আরোহণ করে উপরে উঠে এবং বেশি পরিমাণ আলো গ্রহণ করে, কিন্তু আমগাছের কোনো ক্ষতি করে না।
  • শোষণ: আবার, উদ্দীপকের আমগাছ ও রোহিণীর সাথে স্বর্ণলতার যে সম্পর্ক রয়েছে তা হলো শোষণ। শোষণের ক্ষেত্রে একটি জীব অন্যজীবের ক্ষতি করে নিজে উপকৃত হয়। স্বর্ণলতা আমগাছের দেহে হস্টোরিয়া নামক চোষক অঙ্গের মাধ্যমে আশ্রয়দাতা উদ্ভিদ থেকে তার খাদ্য সংগ্রহ করে। এতে আমগাছ ও রোহিণী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অতএব উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটা বুঝা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকে উল্লেখিত জীবগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথক্রিয়া ও আন্তঃনির্ভরশীলতা তাদের নিজেদের এবং পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

x উদ্দীপকের 'B' এর উপাদানগুলোর হ্রাস-বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ — বিশ্লেষণ করো। উচ্চতর দক্ষতা ★★★★

উদ্দীপকের 'B' তে একটি বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন উপাদান দেখানো হয়েছে। এখানে উৎপাদক, খাদক ইত্যাদি জীব উপাদান রয়েছে। এ সকল উপাদানের হ্রাস-বৃদ্ধি পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

উদ্ভিদ অজৈব বস্তু গ্রহণ করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সূর্যের শক্তি ও অন্যান্য জৈব অজৈব বস্তুকে ব্যবহার করে খাদ্য প্রস্তুত করে। সবুজ উদ্ভিদের তৈরি এই খাদাই খাদ্যজালের অন্যান্য খাদকের মধ্যে সঞ্চালিত হয়ে একে অপরকে ভক্ষণের মাধ্যমে। ফলে একটি খাদ্যজালের সকল খাদক পুষ্টি ও শক্তি পায়। তাই উৎপাদকের সংখ্যা হ্রাস পেলে খাদ্যজালের খাদকরা খাদ্যের অভাবে মারা যেতে থাকবে। ফলে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য ঠিক থাকবে না। আবার প্রথম স্তরের খাদকের সংখ্যা হ্রাস পেলে উৎপাদকের সংখ্যা অত্যাধিক হারে বেড়ে যাবে। অপরপক্ষে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের খাদকরা পর্যায়ক্রমে খাদ্যাভাবে মারা যেতে থাকবে। আবার দ্বিতীয় স্তরের খাদক হ্রাস পেলে প্রথম স্তরের খাদক অত্যাধিক হারে বেড়ে গিয়ে উৎপাদকের সংখ্যা হ্রাস ঘটাবে। আবার তৃতীয় স্তরের খাদক হ্রাস পেলে দ্বিতীয় স্তরের খাদক অত্যাধিক বেড়ে যাবে, ফলে প্রথম স্তরের খাদক সংখ্যা হ্রাস পাবে। এভাবে খাদকের সংখ্যা কোনো স্তরে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টি উপাদান কম জমা হবে। ফলে উৎপাদকের খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হবে।

এভাবে, বাস্তুতন্ত্রের সকল উপাদানের ক্ষেত্রে হ্রাস-বৃদ্ধি বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে যা পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

📌 প্রশ্ন নং-২ | বিষয়: পুকুরের বাস্তুতন্ত্র, বাস্তুতন্ত্রে পুষ্টি প্রবাহ, খাদ্য শিকল
📋 উদ্দীপক
A. ঘাস → পতঙ্গ → ব্যাঙ → সাপ → বাজপাখি
B. মানুষ → মশা → ম্যালেরিয়া জীবাণু
C. সবুজ উদ্ভিদ → হরিণ → বাঘ ↑ X
D. জলজ বাস্তুতন্ত্র
i 'B' খাদ্যশৃঙ্খলটি অসম্পূর্ণ কেন? ব্যাখ্যা করো। অনুধাবন ★★

উদ্দীপকের 'B' খাদ্যশৃঙ্খলটি হলো পরজীবী খাদ্যশৃঙ্খল। পরজীবী খাদ্যশিকল একটি অসম্পূর্ণ খাদ্য শিকল।

মানুষমশাম্যালেরিয়া জীবাণু

ম্যালেরিয়া জীবাণু মশার মাধ্যমে বাহিত হয়ে মানুষের শরীরের প্রবেশ করে। এখানে মানুষ পোষকদেহ এবং মশা বাহক। মশা পরজীবী তার নিজের চেয়ে বড় আকারের পোষকদেহ অর্থাৎ মানুষ থেকে খাদ্য বা পুষ্টি গ্রহণ করে।

পরজীবী খাদ্যশিকল একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল কারণ এ খাদ্যশিকলে কোনো উৎপাদক থাকে না। উৎপাদক না থাকার কারণে পরজীবী খাদ্যশিকল কার্যকারিতা বজায় রাখার জন্য শিকারজীবী খাদ্য শিকলের এক বা একাধিক স্তরের উপর নির্ভরশীল।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায়, 'B' খাদ্যশিকলটি একটি অসম্পূর্ণ খাদ্যশিকল।

ii A ও B শৃঙ্খল দুটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ করো। অনুধাবন ★★
বিষয়'A' শৃঙ্খল (শিকারজীবী)'B' শৃঙ্খল (পরজীবী)
ধরনশিকারজীবী খাদ্যশিকলপরজীবী খাদ্যশিকল
সম্পূর্ণতাসম্পূর্ণ (উৎপাদক আছে)অসম্পূর্ণ (উৎপাদক নেই)
উৎপাদকঘাস (আছে)নেই
শিকারি ও শিকারপ্রতিটি স্তরে শিকারি বড়পরজীবী ছোট, পোষক বড়
শক্তির উৎসসূর্যের শক্তি (সালোকসংশ্লেষণ)পোষকদেহ থেকে
উদাহরণঘাস→পতঙ্গ→ব্যাঙ→সাপ→বাজমানুষ→মশা→ম্যালেরিয়া
iii উদ্দীপকের 'C' খাদ্যশৃঙ্খলের পুষ্টি প্রবাহ বর্ণনা করো। প্রয়োগ ★★★

উদ্দীপকের 'C' হলো:

সবুজ উদ্ভিদহরিণবাঘ

সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করে। উদ্ভিদ উৎপন্ন খাদ্যের কিছু অংশ নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ উদ্ভিদ দেহেই জমা থাকে। হরিণ সবুজ উদ্ভিদকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। উদ্ভিদে সঞ্চিত পুষ্টি হরিণে প্রবাহিত হয়। আবার হরিণকে বাঘ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। হরিণের দেহে সঞ্চিত পুষ্টি বাঘের দেহে স্থানান্তরিত হয়। আবার বাঘ মারা গেলে উদ্দীপকের 'X' অর্থাৎ বিয়োজক বাঘের দেহকে পচিয়ে ফেলে। এর মাধ্যমে পুনরায় বাঘের দেহে সঞ্চিত পুষ্টি মাটিতে ফিরে আসে যা পরবর্তীতে সবুজ উদ্ভিদ পুষ্টি হিসেবে শোষণ করে নেয়। এভাবে পুষ্টিদ্রব্য এক স্তর থেকে অন্যস্তরে প্রবাহিত হয়।

iv 'D' তে উল্লিখিত বাস্তুতন্ত্রটি সচিত্র ব্যাখ্যা করো। প্রয়োগ ★★★

উদ্দীপকের 'D' হলো জলজ বাস্তুতন্ত্র বা পুকুরের বাস্তুতন্ত্র। পুকুরের বাস্তুতন্ত্র জড় উপাদান ও সজীব উপাদান নিয়ে গঠিত। জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে পানি, সূর্যালোক, কার্বন ডাইঅক্সাইড, অক্সিজেন ইত্যাদি। সজীব উপাদান উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক নিয়ে গঠিত।

  • উৎপাদক: পুকুরের উৎপাদক হলো সালোকসংশ্লেষণকারী বিভিন্ন প্রকার শেওলা ও অগভীর পানির উদ্ভিদ। বিভিন্ন প্রকার ফাইটোপ্ল্যাংকটন, সবুজ শেওলা ইত্যাদি উৎপাদকের ভূমিকা পালন করে।
  • ১ম স্তরের খাদক: যারা এই উৎপাদকদের খেয়ে বাঁচে তারা হলো প্রথম স্তরের খাদক। ক্ষুদে পোকা, মশার শুককীট, জুওপ্ল্যাংকটন ইত্যাদি হলো প্রথম স্তরের খাদক।
  • ২য় ও ৩য় স্তরের খাদক: পুকুরের বাস্তুতন্ত্রে ছোটমাছ, ব্যাঙ ইত্যাদি দ্বিতীয় স্তরের এবং বোয়াল, শোল, বাঘ ইত্যাদি বড় মাছ তৃতীয় স্তরের খাদকের ভূমিকা পালন করে। আর উৎপাদক ও সব খাদকের মৃত্যু হলে তা পুকুরে থাকা ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি বিয়োজকের মাধ্যমে বিয়োজিত হয়।
চিত্র: পুকুরের বাস্তুতন্ত্র (বিস্তারিত)
সূর্য ম্যাক্রোফাইট (উৎপাদক) ফাইটোপ্ল্যাংকটন (উৎপাদক) জুওপ্ল্যাংকটন (১ম স্তর খাদক) ছোট মাছ (২য় স্তর খাদক) বড় মাছ (৩য় স্তর খাদক) বিয়োজক (কাদা, ব্যাকটেরিয়া) জড় উপাদান পানি, CO₂, O₂, খনিজ লবণ
v উদ্দীপকের 'X' এর অনুপস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত হয় — বিশ্লেষণ করো। উচ্চতর দক্ষতা ★★★★

উদ্দীপকের 'X' হলো বিয়োজক। বিয়োজকের অনুপস্থিতিতে পরিবেশের ভারসাম্য বাধাগ্রস্ত হয়।

বিয়োজক বা পরিবর্তক উদ্ভিদ ও প্রাণীর বর্জ্য পদার্থ এবং মৃতদেহ থেকে তাদের খাদ্য গ্রহণ করে এবং এসব বর্জ্যকে বিয়োজিত করে মাটি বা পানির সাথে মিশে যেতে সাহায়তা করে। এই মিশে যাওয়া উপাদানগুলো উদ্ভিদের পক্ষে পুনরায় খাদ্য উপাদান হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব হয়।

মৃত জীব—বিয়োজক→জৈব ও অজৈব পদার্থ

বিয়োজকের দ্বারা উদ্ভিদ হিউমাস থেকে পুনরায় বিভিন্ন অজৈব উপাদান সংগ্রহ করে সৌরশক্তির সাহায়ে পুনরায় খাদ্য প্রস্তুত করে। কিন্তু বিয়োজকের অনুপস্থিতিতে বর্জ্য পদার্থ এবং গুতদেহগুলো মাটিতে মিশে যাবে না। অর্থাৎ বিয়োজক না থাকলে অর্পচা জীবে পৃথিবী ভরে যেত এবং মানুষের বসবাস অসম্ভব হয়ে পড়তো। এতে তাদের দেহে সঞ্চিত উপাদানগুলো প্রকৃতিতে ফিরে আসবে না। ফলে জীবন টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর প্রাপ্যতা কমে যাবে এবং পুষ্টির অভাবে জীবজগত বাঁচতে পারবে না। ফলে ধীরে ধীরে পরিবেশ ভারসাম্যতা হারাবে।

📚 শব্দকোষ (Vocabulary)
বাস্তুতন্ত্র
Ecosystem
জীবসম্প্রদায় ও পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়া
উৎপাদক
Producer
সালোকসংশ্লেষণে নিজে খাদ্য তৈরি করতে পারে এমন সবুজ উদ্ভিদ
খাদক
Consumer
অন্য জীবকে ভক্ষণ করে পুষ্টি পায় এমন জীব
বিয়োজক
Decomposer
মৃত জীবদেহের পচন ঘটায় এমন ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক
ধাড়ড়
Scavenger
মৃত প্রাণির মাংস ও আবর্জনা ভক্ষণকারী প্রাণি
প্ল্যাংকটন
Plankton
পানিতে ভাসমান অতি ক্ষুদ্র জীব
খাদ্যশিকল
Food Chain
উৎপাদক থেকে সর্বোচ্চ খাদক পর্যন্ত সরল খাদ্য ধারাবাহিকতা
খাদ্যজাল
Food Web
একাধিক খাদ্যশিকল একত্রিত হয়ে জালের মতো গঠন
ট্রফিক লেভেল
Trophic Level
খাদ্যশিকলের প্রতিটি স্তর
শক্তি পিরামিড
Energy Pyramid
পুষ্টিস্তরের শক্তি সঞ্চয় ও হস্তান্তরের পিরামিড আকার বিন্যাস
জীববৈচিত্র্য
Biodiversity
পৃথিবীতে জীবজগতের প্রাচুর্য ও ভিন্নতা
মিউচুয়ালিজম
Mutualism
উভয় জীব উপকৃত হয় এমন আন্তঃক্রিয়া
কমেনসেলিজম
Commensalism
একজন উপকৃত হয়, অন্যজন ক্ষতিগ্রস্তও নয়, উপকৃতও নয়
অ্যান্টিবায়োসিস
Antibiosis
একটি জীব অন্য জীবের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত করে এমন সম্পর্ক
লাইকেন
Lichen
শেওলা ও ছত্রাকের সহাবস্থান (মিউচুয়ালিজম)
গ্রিনহাউস গ্যাস
Greenhouse Gas
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে এমন গ্যাস (CO₂, CH₄, N₂O)
⚡ Quick Revision — পরীক্ষার আগে পড়ো
🧠 MCQ-এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
  • বাস্তুতন্ত্র = জীবসম্প্রদায় + পরিবেশের পারস্পরিক ক্রিয়া
  • উৎপাদক = সবুজ উদ্ভিদ (সালোকসংশ্লেষণকারী)
  • বিয়োজক = ব্যাকটেরিয়া + ছত্রাক
  • ধাড়ড় = কাক, শকুন, শিয়াল, হায়েনা (মৃতদেহ ভক্ষণকারী)
  • ফাইটোপ্ল্যাংকটন = উদ্ভিদ জাতীয়, উৎপাদক; জুওপ্ল্যাংকটন = প্রাণি জাতীয়, ১ম স্তরের খাদক
  • শক্তি প্রবাহ = সবসময় একমুখী (উৎপাদক → খাদক)
  • ১০% নিয়ম = প্রতি ট্রফিক স্তরে মাত্র ১০% শক্তি পরের স্তরে যায়
  • লাইকেন = শেওলা + ছত্রাক → মিউচুয়ালিজম
  • মিউচুয়ালিজম = উভয় উপকৃত | কমেনসেলিজম = একজন উপকৃত, অন্যজন নিরপেক্ষ
  • অ্যান্টিবায়োসিস = একজন অন্যজনের বৃদ্ধি বাধা দেয়
  • গ্রিনহাউস গ্যাস প্রধান = CO₂ (প্রায় ৫০%)
  • পরজীবী খাদ্যশিকল = অসম্পূর্ণ (উৎপাদক নেই)
  • শিকারজীবী খাদ্যশিকল = সম্পূর্ণ (উৎপাদক থেকে শুরু)
  • শক্তি পিরামিড — নিচে উৎপাদক (সবচেয়ে বেশি শক্তি), উপরে শীর্ষ খাদক (সবচেয়ে কম)
  • রাইজোবিয়াম ব্যাকটেরিয়া + শিম গাছ = মিউচুয়ালিজম (N₂ সংবদ্ধকরণ)
⚠️ পরীক্ষায় সাধারণ ভুল এড়াও
  • খাদ্যশিকল ও খাদ্যজাল মিলিয়ে ফেলো না — শিকল = সরল রেখা; জাল = একাধিক শিকলের সংযোগ
  • মিউচুয়ালিজম ≠ পরজীবিতা — মিউচুয়ালিজমে উভয়ই উপকৃত
  • শক্তি প্রবাহ ও পুষ্টি প্রবাহ — শক্তি একমুখী, পুষ্টি চক্রাকার
  • পরজীবী খাদ্যশিকলে খাদক (পরজীবী) সবসময় পোষকের চেয়ে ছোট হয়