✦ Fictus Academy ✦

অধ্যায়-২: জীবকোষ ও টিস্যু

Cell and Tissue | নবম-দশম শ্রেণি | জীববিজ্ঞান

📚 সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর শিট ✏️ জ্ঞান + অনুধাবন + প্রয়োগ + উচ্চতর 🎯 পরীক্ষায় Full Mark গ্যারান্টি
Lecture by Leon Vai | Fictus Academy

📋 বিষয়সূচি

  1. Concept 2.1 — জীবকোষ (জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক)
  2. Concept 2.2 — উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের প্রধান অঙ্গাণু এবং কাজ
  3. Concept 2.3 — বিভিন্ন প্রকার কোষের ভূমিকা
  4. Concept 2.4 — অঙ্গ ও তন্ত্র
  5. Short Answer (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)
  6. Comprehensive Q-1: উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের অঙ্গাণু (মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, নিউক্লিয়াস)
  7. Comprehensive Q-2: উদ্ভিদ টিস্যু (সরল ও জটিল)
  8. Comprehensive Q-3: প্রাণিটিস্যু (যোজক, পেশি, স্নায়ু)
  9. শব্দকোষ (Vocabulary)
  10. Quick Revision
🔬 Concept 2.1: জীবকোষ — জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর)
প্র-১কোষ কী? ১ নম্বর
জীবদেহের গঠন ও কাজের এককই হলো কোষ।
প্র-২প্রাককেন্দ্রিক কোষ কী? ১ নম্বর
সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিহীন কোষকে আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ বলে।
প্র-৩আদিকোষ কাকে বলে? ১ নম্বর
যেসব কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না অর্থাৎ এসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দ্বারা বেষ্টিত থাকে না, ফলে নিউক্লিওবস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে এবং কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না, তবে রাইবোসোম উপস্থিত থাকে — তাদের আদিকোষ বলে।
প্র-৪প্রকৃত কোষ কী? ১ নম্বর
যেসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত থাকে এবং রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে — তাদের প্রকৃত কোষ বলে।
প্র-৫দেহকোষ কাকে বলে? ১ নম্বর
বহুকোষী জীবের যেসব কোষ শুধু জীবদেহ গঠন করে সেগুলোকে দেহকোষ বলে।
🔍 Concept 2.1: জীবকোষ — অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর (২ নম্বর)
প্র-১প্রকৃত কোষ কলতে কী বোঝায়? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
যেসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দ্বারা নিউক্লিওবস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত, তাদের প্রকৃত কোষ বলে। এসব কোষে রাইবোজোমসহ সকল অঙ্গাণু উপস্থিত থাকে। ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন ও অন্যান্য উপাদান থাকে। অধিকাংশ জীবকোষ এ ধরনের হয়। কাজের ভিত্তিতে প্রকৃত কোষ দুই প্রকার: দেহকোষ ও জননকোষ।
প্র-২আদিকোষ (প্রোক্যারিওটিক সেল) বলতে কী বোঝায়? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
যেসব কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দ্বারা বেষ্টিত থাকে না, ফলে নিউক্লিওবস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়িয়ে থাকে এবং কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না, তবে রাইবোজোম উপস্থিত থাকে — তাদের আদিকোষ বলে। এসব কোষের ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে। যেমন: নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া এ ধরনের কোষ।
প্র-৩আদিকোষ ও প্রকৃত কোষের মধ্যে দুটি পার্থক্য লিখ। ২ নম্বর
ক্রমিক নংআদি কোষপ্রকৃত কোষ
নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দ্বারা বেষ্টিত থাকে না; নিউক্লিওবস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে; মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম থাকে না।নিউক্লিয়াস সুগঠিত; নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দ্বারা নিউক্লিওবস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত।
ক্রোমোজোমে কেবল DNA থাকে।ক্রোমোজোমে DNA, প্রোটিন, হিস্টোন ও অন্যান্য উপাদান থাকে।
প্র-৪বহুকোষী জীবের দেহ কোষকে প্রকৃত কোষ বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে যে কোষ অংশগ্রহণ করে তাদের দেহকোষ বলে। এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দ্বারা নিউক্লিওবস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত। কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে। ক্রোমোজোমে RNA, প্রোটিন, হিস্টোন ও ননহিস্টোন প্রোটিন ইত্যাদি দিয়ে গঠিত। এসব কারণে বহুকোষী জীবের দেহকোষকে প্রকৃতকোষ বলা হয়।
🌿 Concept 2.2: উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের প্রধান অঙ্গাণু — জ্ঞানমূলক
প্র-৬প্লাজমোডেসমাটা কী? ১ নম্বর
দুটি পাশাপাশি কোষের প্রাচীরের সূক্ষ্ম ছিদ্রপথে নলাকার সাইটোপ্লাজমিক সংযোগ স্থাপিত হয়। একে প্লাজমোডেসমাটা বলে।
প্র-৭প্রোটোপ্লাজম কাকে বলে? ১ নম্বর
কোষের ভেতরে যে অর্ধবচ্ছ, থকথকে জেলির মতো বস্তু থাকে তাকে প্রোটোপ্লাজম বলে। কোষঝিল্লি দ্বারা ঘেরা সমুদয় বস্তুই প্রোটোপ্লাজম।
প্র-৮অক্সিজোম কাকে বলে? ১ নম্বর
মাইটোকন্ড্রিয়ার ক্রিস্টির গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার যে বস্তু থাকে তাকে অক্সিজোম বলে।
প্র-৯কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেলমা কী? ১ নম্বর
প্রোটোপ্লাজমের বাইরে যে দ্বিস্তর বিশিষ্ট দ্বিভাজ্জাপক পর্দা থাকে তাকে কোষঝিল্লি বা প্লাজমামেলমা বলে।
প্র-১০মাইটোকন্ড্রিয়াই কী? ১ নম্বর
কোষ ঝিল্লির মধ্যে অবস্থিত ভাঁজকে মাইটোকন্ড্রিয়াই বলে।
প্র-১১ক্রিস্টা কাকে বলে? ১ নম্বর
মাইটোকন্ড্রিয়ার ভিতরবিশিষ্ট আবরণীর ভেতরের স্তরটি ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। একে ক্রিস্টা বলে।
প্র-১২প্লাস্টিড কী? ১ নম্বর
সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত লিপো-প্রোটিন ঝিল্লি দ্বারা আবদ্ধ সর্ববৃহৎ ক্ষুদ্রাঙ্গের নাম প্লাস্টিড।
প্র-১৩ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ কী? ১ নম্বর
ক্রোমোপ্লাস্টের প্রধান কাজ ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা।
প্র-১৪লিউকোপ্লাস্ট কাকে বলে? ১ নম্বর
যেসব প্লাস্টিড কোনো রঞ্জক পদার্থ ধারণ করে না তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে।
প্র-১৫লিউকোপ্লাস্ট কোন ধরনের কোষে পাওয়া যায়? ১ নম্বর
যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না সেখানে লিউকোপ্লাস্ট পাওয়া যায়। যেমন: মূল, জড়, জননকোষ ইত্যাদি।
প্র-১৬লাইসোজোম কী? ১ নম্বর
যে কোষ অঙ্গাণু বিভিন্ন পরিপাককারী এনজাইমগুলোকে একটি ঝিল্লি দিয়ে আবদ্ধ করে রাখে তাকে লাইসোজোম বলে। লাইসোজোম জীব কোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে।
🔍 Concept 2.2: উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষ — অনুধাবনমূলক (২ নম্বর)
প্র-৫উদ্ভিদ ও প্রাণি কোষের প্রধান পার্থক্য ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
ক্রমিক নংউদ্ভিদ কোষপ্রাণী কোষ
কোষ প্রাচীর থাকে।কোষ প্রাচীর থাকে না।
প্লাস্টিড থাকে।প্লাস্টিড থাকে না।
কোষ গহ্বর থাকে এবং আকারে অনেক বড়।কোষ গহ্বর থাকে না, তাকলেও অনেক ছোট।
সেন্ট্রিওল থাকে না।সেন্ট্রিওল থাকে।
প্র-৬কোষের শক্তিঘর বলতে কী বোঝ? / মাইটোকন্ড্রিয়ায় অধিক শক্তি উৎপন্ন হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়। জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। শ্বসন ক্রিয়ার প্রথম দুটি ধাপ গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়ায় ঘটে না। তবে দ্বিতীয় ও অতান্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ক্রেবস চক্রের বিক্রিয়াগুলো মাইটোকন্ড্রিয়াতেই সম্পন্ন হয়। ক্রেবস চক্রে সর্বাধিক শক্তি উৎপাদিত হয়। এ জন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
প্র-৭কোষের কোন অঙ্গাণুটি রঙিন রং সৃষ্টি করে? ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্ট নামক প্লাস্টিডে রঙিন রং সৃষ্টি করে এগুলো রঞ্জিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থোফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণের কণিকা ধারণ করে বলে কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঞ্জিন ফুল, রঞ্জিন পাতা ও গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের কাজ।
প্র-৮ফুল এবং ফল রঙিন হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
ক্রোমোপ্লাস্টের কারণে ফুল এবং ফল রঙিন হয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থোফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণের কণিকা থাকে বলে কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা ও উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। রঞ্জিন ফুল, রঞ্জিন পাতা এবং গাজরের মূলে এদের পাওয়া যায়। ফুলকে আকর্ষণীয় করে পরাগায়নে সাহায্য করা এদের কাজ। এরা বিভিন্ন রঞ্জক পদার্থ সংশ্লেষ করে জমা করে রাখে।
📝 Short Answer: অনুধাবনমূলক সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (২-৩ নম্বর)
প্র-৯রক্তজবা ফুল গাছের পাতা সবুজ হলেও ফুল লাল হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
গাছের পাতায় সবুজ রংয়ের প্লাস্টিড অর্থাৎ ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে। তাই এদের সবুজ দেখায়। আবার, ক্রোমোপ্লাস্টের কারণে ফুল এবং ফল রঞ্জিন হয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থোফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণের কণিকা ধারণ করে বলে কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। রক্তজবা ফুলে ফাইকোএরিথ্রিন রঞ্জক থাকায় ফুল লাল হয়। এ কারণেই রক্তজবা গাছের পাতা সবুজ হলেও ফুল লাল হয়।
প্র-১০রূপান্তরিত প্লাস্টিড কী? ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
উদ্ভিদ দেহের যেসব অঞ্চল সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত সেসব অঞ্চলের কোষে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। এরা বর্ণহীন প্লাস্টিড। কিন্তু সূর্যালোকের প্রভাবে এদের বর্ণের পরিবর্তন হয়। এই প্রক্রিয়ায় অ্যাম্পিটোক্লাস্ট রূপান্তরিত হয়ে ক্লোরোপ্লাস্টে রূপান্তরিত হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত হওয়া প্লাস্টিডকে রূপান্তরিত প্লাস্টিড বলে।
প্র-১১কোন কোষ অঙ্গাণু অন্যান্য অঙ্গাণুর জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে? ব্যাখ্যা করো। / লাইসোজোমকে জীবাণু ভক্ষক বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
লাইসোজোম অঙ্গাণু বিভিন্ন অঙ্গাণুর জন্য বিপদজনক হয়ে উঠতে পারে। কারণ লাইসোজোমের অভ্যন্তরীণ উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে এবং ধ্বংস করে দেয়, অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ করে। তবে দেহে অক্সিজেনের অভাব হলে বা বিভিন্ন কারণে লাইসোজোমের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তখন এর আশেপাশের অঙ্গাণুগুলো নষ্ট হয়ে যায়। কখনো কোষটিও মারা যায়। এই প্রক্রিয়াটিকে ফ্যাগোসাইটেসিস বলা হয়। লাইসোজোম ফ্যাগোসাইটেসিস প্রক্রিয়ায় আত্মঘাতী হয় বলে একে "Suicidal Bag" বলা হয়।
প্র-১২কোষকঙ্কাল বলতে কী বুঝায়? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
সকল প্রকৃত কোষের সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণুগুলোর অভ্যন্তরে অসংখ্য দড়ির মতো বস্তু সমঝিতভাবে জালিকার ন্যায় গঠন তৈরি করে। এদেরকে কোষকঙ্কাল বলে। কোষকঙ্কাল ভিতর থেকে কোষটিকে ধরে রাখে। অ্যাকটিন, মায়োসিন, টিউবিউলিন ইত্যাদি প্রোটিন দিয়ে কোষকঙ্কালের বিভিন্ন ধরনের তন্তু নির্মিত হয়। মাইক্রোটিউবিউল, মাইক্রোফিলামেন্ট কিংবা ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট এ ধরনের তন্তুর উদাহরণ।
প্র-১৩কোষ কঙ্কালের গঠন বর্ণনা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
কোষঝিল্লি অতিক্রম করে কোষের ভিতরে দুকলে প্রথমেই কোষকঙ্কাল নজরে পড়বে। সেটি লম্বা এবং মোটা-চিকন মিলিয়ে অসংখ্য দড়ির মতো বস্তু বা কোষের চারদিকে জালের মতো ছড়িয়ে রয়েছে। কোষকঙ্কাল ভিতর থেকে কোষটিকে ধরে রাখে। অ্যাকটিন, মায়োসিন, টিউবিউলিন ইত্যাদি প্রোটিন দিয়ে কোষকঙ্কালের বিভিন্ন ধরনের তন্তু নির্মিত হয়। মাইক্রোটিউবিউল, মাইক্রোফিলামেন্ট কিংবা ইন্টারমিডিয়েট ফিলামেন্ট এ ধরনের তন্তুর উদাহরণ।
প্র-১৪রাইবোজোমে প্রোটিন তৈরির ফ্যাক্টরি বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
রাইবোজোমে প্রোটিন তৈরির ফ্যাক্টরি বলা হয় কারণ এই ঝিল্লিবিহীন বা পর্দাবিহীন অঙ্গাণুটি প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে। প্রোটিনের পলিপেপটাইড চেইন সংযোজনে এই রাইবোজোমে হয়ে থাকে। এছাড়া রাইবোজোমে এ কাজে প্রয়োজনীয় উৎসেচক সরবরাহ করে থাকে।
প্র-১৫সেন্ট্রোজোম বলতে কী বুঝায়? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
প্রাণিকোষের নিউক্লিয়াসের কাছে যে দুটি ফাঁপা নলাকার অঙ্গাণু দেখা যায়, তাদেরকে সেন্ট্রিওল বলে। এই সেন্ট্রিওলের চারপাশে অবস্থিত গাঢ় তরলকে সেন্ট্রোস্ফিয়ার বলে। সেন্ট্রোস্ফিয়ারসহ সেন্ট্রিওলকে সেন্ট্রোজোম বলা হয়। সেন্ট্রোজোম শিপভল যন্ত্র ও বিভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাজেলা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।
প্র-১৬কোষের কোন অঙ্গাণুটি শিপভল যন্ত্র সৃষ্টিতে অবদান রাখে? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
কোষের সেন্ট্রোজোম অঙ্গাণুটি শিপভল যন্ত্র সৃষ্টিতে অবদান রাখে। কোষ বিভাজনের সময় সেন্ট্রিওলের অণু নালিকাওগুলোর প্রান্ত দুটি একত্রিত হয় এবং মাঝখানটা প্রশস্ত থাকে। এ ধরনের গঠনকে তখন মাকুর মতো দেখায় যাকে শিপভল যন্ত্র বলে। সেন্ট্রোস্ফিয়ার সহ সেন্ট্রিওলকে সেন্ট্রোজোম বলে। সেন্টোজোমে থাকা সেন্ট্রিওল কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার রে তৈরি করে।
প্র-১৭নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
নিউক্লিয়াসকে কোষের প্রাণকেন্দ্র বা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা হয়। কারণ নিউক্লিয়াস কোষের যাবতীয় কার্যাবলি যেমন কোষের গঠনগত ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্যের নিয়ন্ত্রণ, RNA ও রাইবোজোম গঠন, প্রোটিন সংশ্লেষণ, বংশগতির স্থানান্তর, বংশগতির বৈশিষ্ট্য ধারক ও বাহক ক্রোমোজোম ধারণ, কোষ বিভাজনে অংশ গ্রহণ এবং সবই নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জীবকোষের সার্বিক কার্য সম্পাদনে নিয়ন্ত্রণ জড়িত বলে নিউক্লিয়াসকে কোষের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বলা হয়।
প্র-১৮ক্রোমাটিন জালিকাকে কখন ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
কোষের বিশ্রামকালে নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সূতার মতো অংশই ক্রোমাটিন জালিকা। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয়, তাই তখন তাদের আলাদা আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়। উল্লেখ্য, ক্রোমাটিন জালিকা DNA, RNA, হিস্টোন ও ননহিস্টোন প্রোটিন ইত্যাদি দিয়ে গঠিত।
প্র-১৯রাইবোজোম কাকে বলে? (Short Answer) ২ নম্বর
💡 উত্তর:
রাইবোজোম হলো কোষের অতি ক্ষুদ্র পর্দাবিহীন অঙ্গাণু। প্রাণী ও উদ্ভিদকোষের পর্দাবিহীন যে পর্দাবিহীন অঙ্গাণু প্রধানত প্রোটিন সংশ্লেষণে সাহায্য করে তাকে রাইবোজোম বলে। রাইবোজোম কোষের ভিতর ও বাইরে অর্থাৎ এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলামের গায়ে এবং সাইটোপ্লাজমে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে। নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওলাসে রাইবোজোম তৈরি হয়।
প্র-২০নিউক্লিয়ার ঝিল্লির গঠন কীরূপ? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
নিউক্লিয়াসের ঝিল্লি দ্বিস্তর বিশিষ্ট। এ ঝিল্লি লিপিড ও প্রোটিন সমন্বয়ে গঠিত। এই ঝিল্লিতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে।
🌱 Concept 2.3: উদ্ভিদ ও প্রাণির কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন প্রকার কোষের ভূমিকা
প্র-২১আয়ারেনকাইমা কাকে বলে? ১ নম্বর
জলজ উদ্ভিদের বড় বড় বায়ুকুঠুরীযুক্ত প্যারেনকাইমাকে আয়ারেনকাইমা বলে।
প্র-২২ক্লোরেনকাইমা কী? ১ নম্বর
ক্লোরেনকাইমা হলো ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত প্যারেনকাইমা।
প্র-২৩জটিল টিস্যু কী? ১ নম্বর
বিভিন্ন প্রকারের কোষ সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু গঠিত হয় তাকে জটিল টিস্যু বলে। এ টিস্যু দুই ধরনের, যথা: জাইলেম ও ফ্লোয়েম।
প্র-২৪উড ফাইবার কাকে বলে? ১ নম্বর
জাইলেমে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা কোষকে জাইলেম ফাইবার বা উড ফাইবার বলে।
প্র-২৫উড প্যারেনকাইমা কী? ১ নম্বর
জাইলেমে অবস্থিত প্যারেনকাইমা কোষকে উড প্যারেনকাইমা বলে।
প্র-২৬বাস্ট ফাইবার কখন উৎপন্ন হয়? ১ নম্বর
উদ্ভিদ অংসের গৌণবৃদ্ধির সময় বাস্ট ফাইবার উৎপন্ন হয়।
প্র-২৭বাস্ট ফাইবার কী? ১ নম্বর
স্ক্লেরেনকাইমা কোষ সমন্বয়ে ফ্লোয়েম ফাইবার তৈরি হয়। এগুলো একধরনের দীর্ঘ কোষ, যাদের প্রান্তদেশ পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে। এদের বাস্ট ফাইবার বলে।
প্র-২৮লসিকা কাকে বলে? ১ নম্বর
মানবদেহে বিভিন্ন টিস্যুর মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে যে জলীয় পদার্থ (ঈষৎ ক্ষারীয় স্বচ্ছ হলুদ বর্ণের তরল পদার্থ) জমা হয় তাকে লসিকা বলে।
প্র-২৯পেশি টিস্যু কাকে বলে? ১ নম্বর
ভ্রণীয় মেসোডার্ম থেকে উৎপন্ন সংকোচন ও প্রসারণশীল বিশেষ ধরনের টিস্যুকে পেশি টিস্যু বলে। যেমন: ঐচ্ছিক পেশি।
প্র-৩০রক্ত কী? ১ নম্বর
রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা। রক্ত ক্ষারীয়, ঈষৎ লবণাক্ত এবং লাল বর্ণের হয়ে থাকে।
প্র-৩১ঐচ্ছিক পেশি কী? ১ নম্বর
যে পেশি প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত বা প্রসারিত হয়, তাকে ঐচ্ছিক পেশি বলে।
🔍 Concept 2.3: টিস্যু — অনুধাবনমূলক (২ নম্বর)
প্র-১৯প্যারেনকাইমাই সরল টিস্যু বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
যে টিস্যুর প্রতিটি কোষ অভিন্ন, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে একই তাকে সরল টিস্যু বলা হয়। প্যারেনকাইমাকে সরল টিস্যু বলা হয়। কারণ, এই টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে একই রকম। প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা ও খাদ্য সঞ্চয় করা।
প্র-২০কচুরীপানা পানিতে ভেসে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
কচুরীপানা একটি জলজ উদ্ভিদ। এদের মূলে ও কাণ্ডে বড় বড় বায়ুকুঠুরি থাকে। বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমা কোষকে আয়ারেনকাইমা বলে। ফলে উদ্ভিদটি আয়তনে বৃদ্ধি পেলেও ওজন হালকা হয়। এ কারণে কচুরীপানা পানিতে ভেসে থাকতে পারে।
প্র-২১কোন টিস্যুকে পরিবহন টিস্যু বলা হয়? কারণসহ ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয় তাকে জটিল টিস্যু বলে। উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করায় জটিল টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। এ টিস্যু দুই ধরনের: জাইলেম ও ফ্লোয়েম। জাইলেম টিস্যু মূলের মাধ্যমে মাটি থেকে পানি ও খনিজ লবণ পাতায় পৌঁছায়। ফ্লোয়েম টিস্যু পাতায় তৈরি খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে।
প্র-২২পরিবহন টিস্যুকে কেন জটিল টিস্যু বলা হয়? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
বিভিন্ন ধরনের কোষের সমন্বয়ে যে স্থায়ী টিস্যু তৈরি হয়, তাকে জটিল টিস্যু বলে। উদ্ভিদে পরিবহনের কাজ করায় জটিল টিস্যুকে পরিবহন টিস্যুও বলা হয়। জাইলেম টিস্যুতে ট্রাকিড, ভেসেল, উড ফাইবার ও উড প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম টিস্যুতে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম ফাইবার থাকে। অনেক ধরনের কোষ মিলে তৈরি হয় বলে পরিবহন টিস্যুকে জটিল টিস্যু বলা হয়।
প্র-২৩জাইলেমকে পরিবহন টিস্যু বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
জাইলেম পরিবহন টিস্যু বলা হয় কারণ, জাইলেম টিস্যুর মূলের ভেসেল মূল হতে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত অন্যান্য খনিজ লবণ গাছের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে থাকে। জাইলেম টিস্যুর ট্রাকিড উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা ছাড়াও মূল হতে কাণ্ড ও পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে থাকে। জাইলেম টিস্যুর প্যারেনকাইমা প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সঞ্চয় ও খাদ্য পরিবহন করে থাকে।
প্র-২৪ট্রাকিড, ভেসেল থেকে ভিন্ন কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
ট্রাকিড কোষ লম্বা। এর প্রান্তদেশ সরু এবং সূচালো। প্রাচীরে লিগনিন জমা হয়ে পুরু হয় এবং অভ্যন্তরীণ গহ্বর বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানির চলাচল পাশাপাশি জোড়া কূপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আবার ভেসেল কোষগুলো খাটো চৌকের মতো। কোষগুলো একটির মাথায় আরেকটি সজ্জিত হয় এবং প্রান্তীয় প্রাচীরটি পিলে গিয়ে প্রস্থপ্রাচীর সৃষ্টি হয়। এই ফলে ভেসেল একটি দীর্ঘ নলের মতো অঙ্গের সৃষ্টি হয় যা ট্রাকিড থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
প্র-২৫ফ্লোয়েমকে পরিবহন টিস্যু বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু নিয়ে ফ্লোয়েম টিস্যু গঠিত হয়। ফ্লোয়েমকে পরিবহন টিস্যু বলা হয় কারণ, ফ্লোয়েম পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করে। এছাড়াও ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা উদ্ভিদদেহে খাদ্য তৈরি ও সঞ্চয় করে এবং ফ্লোয়েম স্ক্লেরেনকাইমা উদ্ভিদদেহের বাইরে তৎপ বা আঁশ সৃষ্টির মাধ্যমে বাইরের প্রতিকূল পরিবেশ থেকে উদ্ভিদকে রক্ষা করে।
প্র-২৬সঙ্গীকোষের নিউক্লিয়াসের কার্যাবলি ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
প্রতিটি সিভনলের সাথে একটি করে প্যারেনকাইমা জাতীয় কোষ অবস্থান করে। এদের কেন্দ্রিকা বা নিউক্লিয়াস বেশ বড়। এদেরকে সঙ্গীকোষ বলা হয়। সঙ্গীকোষের নিউক্লিয়াস সিভনলের কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করে। পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য সিভনলের মাধ্যমে উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অংশে পরিবহনে সঙ্গীকোষের নিউক্লিয়াস ভূমিকা পালন করে।
প্র-২৭মানবদেহের জন্য আবরণী টিস্যু গুরুত্বপূর্ণ কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
যে টিস্যুর কোষগুলো ঘন সন্নিবেশিত এবং একটি ভিত্তিস্তরের উপর বিন্যস্ত থাকে তাকে আবরণী টিস্যু বলে। এই টিস্যু বিভিন্ন অঙ্গের আবরণ হিসেবে কাজ করে। এছাড়াও অঙ্গকে আবৃত রাখা, সেটিকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করা, প্রাণিসহ বিভিন্ন পদার্থ শ্রবণ ও নিঃসরণ করা, বিভিন্ন পদার্থ শোষণ করা এবং কোষীয় স্তরের সুনির্দিষ্ট পদার্থের পরিবহন এই আবরণী টিস্যু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্র-২৮তুকের টিস্যুকে ট্রানজিশনাল টিস্যু বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যুর কোষগুলো ভিত্তিস্তরের উপর একাধিক স্তরে সজ্জিত থাকে। মানুষসহ সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর তুকে স্ট্র্যাটিফাইড আবরণী টিস্যু আছে, যার স্তরের সংখ্যা মিনিটের মধ্যেই পাল্টে যেতে পারে। কখনো দেখা যায় তিন-চারটি স্তর আবার পরক্ষণেই দেখা যায় সাত-আটটি স্তর। এ জন্যই মেরুদণ্ডী প্রাণীর তুকেকে ট্রানজিশনাল আবরণী বলা হয়।
প্র-২৯রক্তকে যোজক কলা বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
যেসব টিস্যুতে মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম তাদেরকে যোজক টিস্যু বলা হয়। রক্ত এক ধরনের তরল যোজক কলা বা টিস্যু। এ টিস্যু দেহের অভ্যন্তরে বিভিন্ন দ্রব্যাদি পরিবহন, রোগ প্রতিরোধ ও রক্ত জমাট বাঁধায় অংশগ্রহণ করে বলে এদেরকে যোজক কলা বা টিস্যু বলা হয়।
প্র-৩০শ্বেত রক্তকণিকা ও লাইসোজোমকে কার্যগত দিক থেকে সদৃশ বিবেচনা করা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
লাইসোজোম একটি সাইটোপ্লাজমীয় অঙ্গাণু যা ফ্যাগোসাইটেসিস প্রক্রিয়ায় জীবাণু ভক্ষণের মাধ্যমে জীবকোষকে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে। লাইসোজোমের অভ্যন্তরীণ উৎসেচক আগত জীবাণুগুলোকে হজম করে এবং ধ্বংস করে দেয়, অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ করে। অনুরূপ, শ্বেত রক্তকণিকাও ফ্যাগোসাইটেসিস প্রক্রিয়ায় রোগ জীবাণু ধ্বংস করে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এরা অ্যান্টিবডি সৃষ্টির মাধ্যমে রোগ জীবাণুকে ধ্বংস করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই বলা যায়, শ্বেত রক্তকণিকা ও লাইসোজোম কার্যগত দিক থেকে সদৃশ।
প্র-৩১কোন পেশিটি মসৃণ পেশি বলা হয়? / পৌষ্টিক নালির প্রাচীরের মসৃণ পেশি বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
যে পেশির সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয় তাকে অনৈচ্ছিক পেশি বা মসৃণ পেশি টিস্যু বলে। এ পেশি কোষগুলো মাকু আকৃতির। এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না। এজন্য এ পেশিকে মসৃণ পেশি বলে। পৌষ্টিক নালির প্রাচীরের পেশির সমণগ্রহণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়, তাই এসব পেশি অনৈচ্ছিক। এ কারণেই পৌষ্টিক নালির পেশিকে মসৃণ পেশি বলা হয়।
প্র-৩২কোন পেশিকে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয়? ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
হৃৎপেশিকে ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয়। কারণ এই পেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (একটেকটা ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখাবিশিষ্ট ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারকালেটেড ডিস্ক থাকে। এদের সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। অর্থাৎ কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো। তাই এটি ঐচ্ছিক-অনৈচ্ছিক পেশি।
প্র-৩৩হৃৎপেশি এক ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি — ব্যাখ্যা করো। ২ নম্বর
💡 উত্তর:
যে পেশি টিস্যুর সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়, তাকে অনৈচ্ছিক পেশি বলে। হৃদপেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি, শাখাবিশিষ্ট ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারকালেটেড ডিস্ক থাকে। এদের সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। অর্থাৎ কার্ডিয়াক পেশির গঠন ঐচ্ছিক পেশির মতো হলেও কাজ অনৈচ্ছিক পেশির মতো। এ কারণেই হৃৎপেশিকে অনৈচ্ছিক পেশি বলা হয়।
প্র-৩৪নিউরন বিভাজিত হয় না কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
নিউরন কোষের সাইটোপ্লাজমে মাইটোকন্ড্রিয়া, গলজিবডি, রাইবোসোম, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি থাকে, তবে নিউরনের সাইটোপ্লাজমে সক্রিয় সেন্ট্রিওল থাকে না বলে নিউরন বিভাজিত হয় না। কারণ সেন্ট্রোজোমে থাকা সেন্ট্রিওল কোষ বিভাজনের সময় অ্যাস্টার রে তৈরি করে। এছাড়া শিপভল যন্ত্র সৃষ্টিতেও সেন্ট্রোজোমের অবদান রয়েছে।
🫀 Concept 2.4: অঙ্গ ও তন্ত্র
প্র-৩২তুক কাকে বলে? ১ নম্বর
দেহের বাইরের দিকে যে আচ্ছাদনকারী আবরণ থাকে, তাকে তুক বলে।
প্র-৩৩হরমোন কী? ১ নম্বর
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে হরমোন বলে।
প্র-৩৪অঙ্গ, তন্ত্রের একক — ব্যাখ্যা করো। ১ নম্বর
এক বা একাধিক টিস্যু দিয়ে তৈরি এবং একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে সক্ষম প্রাণিদেহের অংশ বিশেষকে অঙ্গ বলে। অর্থাৎ কোনো অঙ্গে একই অথবা একাধিক ধরনের টিস্যু থাকে এবং সেই টিস্যু একটি নির্দিষ্ট কাজ করতে পারে।
প্র-৩৫অঙ্গ ও তন্ত্রের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো। ২ নম্বর
ক্রমিক নংঅঙ্গতন্ত্র
এক বা একাধিক টিস্যুর সমন্বয়ে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনে সক্ষম অঙ্গ বিশেষকে অঙ্গ বলে।পরিপাক, শ্বসন, রেচন প্রভৃতি কার্যের জন্য সমস্তি ব্যবহাই হলো তন্ত্র।
এক বা একাধিক টিস্যুর সমন্বয়ে অঙ্গ গঠিত।এক বা একাধিক অঙ্গ নিয়ে তন্ত্র গঠিত।
চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, হাত, পা ইত্যাদি অঙ্গের উদাহরণ।পরিপাকতন্ত্র, শ্বসনতন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র ইত্যাদি তন্ত্রের উদাহরণ।
প্র-৩৬অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলতে কী বুঝায়? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলতে মানবদেহে অবস্থিত নালিবিহীন গ্রন্থিসমূহকে বোঝায়। যেমন: থাইরয়েড গ্রন্থি, অগ্ন্যাশয়, পিটুইটারী গ্রন্থি প্রভৃতি। এরা হরমোন নিঃসরণ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট নালি থাকে না। শুধু রক্তের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে হরমোন পরিবাহিত হয়।
প্র-৩৭থাইরয়েডকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
প্রাণিদেহে কতগুলো নালিবিহীন গ্রন্থি আছে। এসব গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রসকে হরমোন বলে। পরিবহন করার জন্য এর কোনো নির্দিষ্ট নালি থাকে না। শুধু রক্তের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে হরমোন পরিবাহিত হয়। থাইরয়েডকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয় কারণ, এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত থাইরক্সিন হরমোন নিঃসৃত হয়। থাইরক্সিন রক্তের মাধ্যমে বাহিত হয়ে মানবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিপাকীয় কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।
প্র-৩৮পিটুইটারিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয় কেন? ২ নম্বর
💡 উত্তর:
অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলতে মানবদেহে অবস্থিত নালিবিহীন গ্রন্থিসমূহকে বোঝায়। এরা হরমোন নিঃসরণ করে। পরিবহন করার জন্য এর কোনো নির্দিষ্ট নালি থাকে না। শুধু রক্তের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে হরমোন পরিবাহিত হয়। পিটুইটারিকে অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বলা হয় কারণ, এই গ্রন্থি থেকে প্রধানত গোনাডোট্রপিক, সোমাট্রেপিক, থাইরয়েড উদ্দীপক হরমোন (TSH), অড্রেনোকার্টিকোট্রপিন ইত্যাদি হরমোন নিঃসৃত হয়। এটি অন্যান্য গ্রন্থিকে প্রভাবিত করা ছাড়াও মানবদেহের বৃদ্ধির হরমোন নিঃসৃত করে।
🏆 Comprehensive Questions — সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
উদ্ভিদ ও প্রাণিকোষের প্রধান অঙ্গাণু এবং তাদের কাজ (মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, নিউক্লিয়াস) — উদ্দীপক: চিত্র A (মাইটোকন্ড্রিয়া), B (ক্লোরোপ্লাস্ট), C (নিউক্লিয়াস)
বহিঃআবরণী ক্রিস্টা অক্সিজোম চিত্র: একটি মাইটোকন্ড্রিয়া
চিত্র A — মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন
স্ট্রোমা গ্রানা গ্রানা স্ট্রোমা ল্যামেলি বহিঃরক্ষণ চিত্র: ক্লোরোপ্লাস্টের বিভিন্ন অংশ
চিত্র B — ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন
নিউক্লিওলাস নিউক্লিয়ার রন্ধ্র নিউক্লিয়ার মেমব্রেন ক্রোমাটিন জালিকা নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম চিত্র: নিউক্লিয়াস
চিত্র C — নিউক্লিয়াসের গঠন
i. চিত্র 'A' এর গঠন ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন:
চিত্র 'A' অঙ্গাণুটি হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। নিচে মাইটোকন্ড্রিয়ার গঠন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো: মাইটোকন্ড্রিয়া গোলাকার বা দণ্ডাকার হয়ে থাকে। এটি দুটি আবরণী দিয়ে ঘেরা। আবরণী দুটি হলো যথাক্রমে বহিঃআবরণী এবং অন্তঃআবরণী। বহিঃআবরণী মসৃণ কিন্তু অন্তঃআবরণী নানাভাবে ভেতরের দিকে ভাঁজ হয়ে থাকে। এই ভাঁজতোকে বলা হয় ক্রিস্টা। ক্রিস্টার গায়ে বৃন্তযুক্ত গোলাকার বস্তু থাকে। একে অক্সিজোম বলে। অক্সিজোমে বিভিন্ন ধরনের উৎসেচক (ATP সিনথেসেস) থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে অর্ধতরল দানাদার পদার্থ থাকে যাকে ম্যাট্রিক্স বলে। জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের "শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র" বা "পাওয়ার হাউস" বলা হয়।
ii. উদ্দীপকের 'B' অঙ্গাণুটির গঠন বর্ণনা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — ক্লোরোপ্লাস্টের গঠন:
উদ্দীপকের 'B' অঙ্গাণুটি হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। নিচে এর গঠন বর্ণনা করা হলো:
  1. আবরণী ঝিল্লি: সমস্ত ক্লোরোপ্লাস্ট একটি দুই স্তর বিশিষ্ট ঝিল্লি দ্বারা আবৃত থাকে। এটি লিপিড ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত।
  2. স্ট্রোমা: ঝিল্লি দ্বারা আবৃত পানিগ্রাহী ম্যাট্রিক্স বিদ্যমান। এ ম্যাট্রিক্সকে স্ট্রোমা বলে।
  3. থাইলাকয়েড ও গ্রানা: স্ট্রোমাতে অসংখ্য থাইলাকয়েড থাকে। এটি থলে আকৃতির। কতকগুলো থাইলাকয়েড একটির উপর আরেকটি চুপ মপে থাকে। থাইলাকয়েডের এই স্তুপকে গ্রানা (বহুবচনে গ্রানা) বলা হয়। প্রতিটি ক্লোরোপ্লাস্টে সাধারণত ৪০-৬০ টি গ্রানা থাকে।
  4. স্ট্রোমা ল্যামেলি: দুটি পাশাপাশি গ্রানার কিছু সংখ্যক থাইলাকয়েডস সূক্ষ্ম নালিকা দ্বারা সংযুক্ত থাকে। এই সংযুক্তকারী নালিকাকে স্ট্রোমা ল্যামেলি (একবচনে ল্যামেলা) বলে।
  5. ফটোসিনথেটিক ইউনিট ও ATP Synthesis: থাইলাকয়েড মেমব্রেনে বহু গোলাকার বস্তু বহন করে। এর মধ্যে ATP তৈরির সকল এনজাইম থাকে।
  6. DNA ও রাইবোজোম: ক্লোরোপ্লাস্ট তার নিজ DNA ও রাইবোজোম থাকে।
iii. চিত্র 'C' কোষ অঙ্গাণুটির গঠন বাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — নিউক্লিয়াসের গঠন:
উদ্দীপকের চিত্র-C হলো নিউক্লিয়াস। জীবকোষের প্রোটোপ্লাজমে নির্দিষ্ট পর্দায় ক্রোমোজোম বহনকারী সুম্পষ্ট বস্তু নিউক্লিয়াস।
  • নিউক্লিয়ার ঝিল্লি: নিউক্লিয়াসকে ঘিরে রাখে যে ঝিল্লি, তাকে নিউক্লিয়ার ঝিল্লি বলে। এই ঝিল্লি দ্বিস্তরবিশিষ্ট ঝিল্লি। এ ঝিল্লিতে মাঝে মাঝে কিছু ছিদ্র থাকে, যেগুলোকে নিউক্লিয়ার রন্ধ্র বলে।
  • নিউক্লিওপ্লাজম: কেন্দ্রিকা ঝিল্লির অভ্যন্তরে জেলির ন্যায় বস্তু বা রসকে কেন্দ্রিকারস বা নিউক্লিওপ্লাজম বলে।
  • নিউক্লিওলাস: নিউক্লিওপ্লাজমের মধ্যে ক্রোমোজোমের সাথে সংলগ্ন গোলাকার বস্তুকে নিউক্লিওলাস বা কেন্দ্রিকাণু বলে। এরা RNA ও প্রোটিন দ্বারা গঠিত। এরা নিউক্লিক এসিড মজুদ করে ও প্রোটিন সংশ্লেষণ করে।
  • ক্রোমাটিন জালিকা: কোষের বিশ্রামকালে নিউক্লিয়াসে কুণ্ডলী পাকানো সূক্ষ্ম সূতার ন্যায় অংশই ক্রোমাটিন জালিকা। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয়, তাই তখন তাদের আলাদা আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়।
iv. উদ্ভিদের খাদ্য সঞ্চয়, বর্ণময় ও আকর্ষণীয় করতে চিত্র-'B' এর ভূমিকা ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — প্লাস্টিডের ভূমিকা:
উদ্দীপক চিত্র-B অঙ্গাণুটি হলো প্লাস্টিড। উদ্ভিদ দেহের সবচেয়ে একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য। উদ্ভিদে সাধারণত তিন রকমের প্লাস্টিড দেখা যায় যথা: ক্লোরোপ্লাস্ট, ক্রোমোপ্লাস্ট ও লিউকোপ্লাস্ট। এই তিন রকমের প্লাস্টিড এর কারণেই উদ্ভিদ বর্ণময় ও আকর্ষণীয় হয় এবং খাদ্য সঞ্চয় করে।

বর্ণময় করে তোলা: ক্রোমোপ্লাস্টের কারণে উদ্ভিদ বর্ণময় হয়। এগুলো রঞ্জিন প্লাস্টিড তবে সবুজ নয়। এসব প্লাস্টিডে জ্যান্থোফিল, ক্যারোটিন, ফাইকোএরিথ্রিন, ফাইকোসায়ানিন ইত্যাদি বর্ণের কণিকা ধারণ করে বলে কোনোটিকে হলুদ, কোনোটিকে নীল আবার কোনোটিকে লাল দেখায়। এদের মিশ্রণজনিত কারণে ফুল, পাতা এবং উদ্ভিদের অন্যান্য অংশ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

খাদ্য সঞ্চয়: উদ্ভিদ দেহের যেসব অঞ্চল সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত সেখানে লিউকোপ্লাস্ট থাকে। যেসব কোষে কোনো রঞ্জক পদার্থ ধারণ করে না তাদের লিউকোপ্লাস্ট বলে। যেসব কোষে সূর্যের আলো পৌঁছায় না সেখানে লিউকোপ্লাস্ট পাওয়া যায়। যেমন: মূল, জড়, জননকোষ ইত্যাদিতে।
v. জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হওয়ার সাথে চিত্র 'A' অঙ্গাণুর সম্পর্ক বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
💡 উত্তর — মাইটোকন্ড্রিয়া ও শক্তি উৎপাদন:
উদ্দীপকের চিত্র-A হলো মাইটোকন্ড্রিয়া। প্রকৃত জীবকোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গাণু হচ্ছে মাইটোকন্ড্রিয়া। কোষের যাবতীয় জৈবনিক কাজের শক্তি সরবরাহ করে বলে মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের "পাওয়ার হাউস" বা শক্তিঘর বলা হয়। জীবের অষ্টিত্ব রক্ষায় মাইটোকন্ড্রিয়ার কাজ অপরিসীম।

মাইটোকন্ড্রিয়া শ্বসন ক্রিয়ার প্রয়োজনীয় সকল প্রকার এনজাইম ও কো-এনজাইম সরবরাহ করে থাকে। মাইটোকন্ড্রিয়ার ভেতরে শ্বসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় যেমন অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস-চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র মাইটোকন্ড্রিয়া সম্পন্ন হয়। ক্রেবস-চক্রে অংশগ্রহণকারী সব উৎসেচক মাইটোকন্ড্রিয়াতে উপস্থিত থাকে। আর এই ক্রেবস চক্রেই সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়। অন্যদিকে, মাইটোকন্ড্রিয়া কোষের বিভিন্ন অংশে ক্যালসিয়াম আয়নের সঠিক ঘনত্ব বজায় রাখে এবং কোষের পূর্বনির্ধারিত মৃত্যু (apoptosis) নিয়ন্ত্রণ করে।

সুতরাং, উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, জীবদেহে শক্তি উৎপন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে মাইটোকন্ড্রিয়া প্রধান ভূমিকা পালন করে।
vi. উদ্দীপকের 'B' এর অনুপস্থিতিতে জীবকুলে কী ধরনের সমস্যা ঘটতে বলে তুমি মনে করো তা বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
💡 উত্তর — ক্লোরোপ্লাস্টের অনুপস্থিতিতে জীবকুলের সমস্যা:
উদ্দীপকের চিত্র 'B' হলো ক্লোরোপ্লাস্ট। এটি সবুজ রঙের প্লাস্টিড। এটি গাছের সবুজ পাতা, কচি কাণ্ড ও অন্যান্য সবুজ অংশে পাওয়া যায়। জীবজগতকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে এই অঙ্গাণুর ভূমিকা অপরিসীম। নিচে ক্লোরোপ্লাস্টের অনুপস্থিতিতে কী হবে তা বিশ্লেষণ করা হলো:
  1. ক্লোরোপ্লাস্ট আবদ্ধ সৌরশক্তি, স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক, বায়ু থেকে গৃহীত CO₂ এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে যা শ্বসনিক বস্তুরূপে ব্যবহৃত হয়।
  2. বায়ুতে CO₂ গ্যাসের পরিমাণ শতকরা ০.০৩৩ ভাগ। বায়ুতে CO₂ এর পরিমাণ বেশি হলে তা জীবের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে ক্লোরোপ্লাস্ট CO₂ ব্যবহার করে যা O₂ ও CO₂ এর অনুপাত ঠিক থাকে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হয়।
  3. বাস্তবতঃ শক্তির মূল উৎস সূর্য। সূর্য হতে পৃথিবীতে আসা মোট আলো ও তাপশক্তির মাত্র ২% আলো সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদ শর্করায় রাসায়নিক শক্তি হিসেবে মজুদ করে, যা বিভিন্ন খাদ্য স্তরের প্রাণীরা ব্যবহার করে বেঁচে থাকে।
এভাবে জীবের জন্য খাদ্য তৈরি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বাস্তবতঃ শক্তির প্রবাহ বজায় রাখতে ক্লোরোপ্লাস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাই বলা যায়, B অর্থাৎ ক্লোরোপ্লাস্টের অনুপস্থিতিতে সমস্ত জীবকুল ধ্বংসের সম্মুখীন হতো। কারণ ক্লোরোপ্লাস্টই জীবজগতকে টিকিয়ে রেখেছে।
vii-ix. চিত্র A ও B কীভাবে শক্তি সরবরাহ করে / চিত্র C-এর বংশগতীয় উপাদান বহনকারী অংশের গঠন / চিত্র C-এর ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গাণু বিশ্লেষণ (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
💡 উত্তর — মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের শক্তি সরবরাহ:
ক্লোরোপ্লাস্ট প্লাস্টিডের গ্রানা অংশ সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তি রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমাতে অবস্থিত উৎসেচক, বায়ু থেকে গৃহীত CO₂ এবং কোষের ভেতরকার পানি ব্যবহার করে সরল শর্করা তৈরি করে যা শ্বসনিক বস্তুরূপে ব্যবহৃত হয়। শ্বসন ক্রিয়ায় এই শ্বসনিক বস্তু সম্পূর্ণরূপে জারিত হয়ে CO₂, H₂O এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়। শ্বসনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস-চক্র ও ইলেকট্রন ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম মাইটোকন্ড্রিয়া সম্পন্ন হয়। ক্রেবস চক্রে সবচেয়ে বেশি শক্তি উৎপাদিত হয়। এজন্য মাইটোকন্ড্রিয়াকে কোষের শক্তিঘর বলা হয়।

উদ্ভিদ জীবনে মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের গুরুত্ব অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক: জীবের সকল প্রকার জৈবনিক কাজে মাইটোকন্ড্রিয়া ও ক্লোরোপ্লাস্টের মধ্যে রয়েছে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক। জীবের শ্বসনকার্যে সাহায্য করা মাইটোকন্ড্রিয়ার প্রধান কাজ। ক্লোরোপ্লাস্ট উৎপাদিত শর্করা জাতীয় খাদ্য বিভিন্ন জৈবনিক কাজে শক্তি যোগান দেয়। তাই প্রাণীজগতও তাদের খাদ্যের জন্য সম্পূর্ণরূপে সবুজ উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদ জীবনে ক্লোরোপ্লাস্ট ও মাইটোকন্ড্রিয়ার ভূমিকা অপরিহার্য।

💡 উত্তর — নিউক্লিয়াসের ক্রোমোজোমের গঠন ও ভূমিকা:
উদ্দীপকের চিত্র-C হলো নিউক্লিয়াস। এর বংশগতির উপাদান বহনকারী অংশের নাম ক্রোমোজোম। নিচে ক্রোমোজোমের গঠন বাখ্যা করা হলো: কোষের বিশ্রামকালে অর্থাৎ যখন কোষ বিভাজন চলে না, তখন নিউক্লিয়াসের মধ্যে সুতার মতো জিনিস জট পাকিয়ে থাকতে দেখা যায়। এই সুতাগুলো হলো ক্রোমাটিন। ক্রোমাটিন মূলত DNA এবং প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত জটিল কাঠামো, যা জেনেটিক বৈশিষ্ট্যসমূহ বংশপরম্পরায় সঞ্চারিত হওয়ার সাথে সম্পর্কিত কাজ করে। ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম বলে। কোষ বিভাজনের সময় এরা মোটা ও খাটো হয়, তাই তখন তাদের আলাদা আলাদা ক্রোমোজোম হিসেবে দেখা যায়। মেটাফেজ দশায় প্রতিটি ক্রোমোজোম বিভাজিত হয়ে ক্রোমোজোমজোড় গঠন করে যার দৈর্ঘ্য বরাবর অর্ধাংশকে বলে একটি ক্রোমাটিড। ক্রোমাটিডের (প্রায়) মধ্যবর্তী অংশে একটি সংকুচিত অঞ্চল থাকে যার নাম সেন্ট্রোমিয়ার। কোষ বিভাজনের সময় সেন্ট্রোমিয়ারে যে মাইকোহেডোটিউবিউল যুক্ত হয় তাকে কাইনেটোকোর। সেন্ট্রোমিয়ারের উভয় পাশে ক্রোমাটিডের অংশগুলো হলো তার দুটি বাহু। কোষ বিভাজনের সময় সময় সেন্ট্রোমিয়ারের বরাবর ক্রোমাটিড জোড়া বিভিন্ন হয়ে যায়, তখন প্রতিটি ক্রোমাটিডকেই একটি একটি ক্রোমোজোম হিসেবে ধরা হয়।

বংশগতিতে নিউক্লিয়াসের ভূমিকা: নিউক্লিয়াসে বংশগতির বৈশিষ্ট্য নিহিত থাকে। নিউক্লিয়াসের ভেতরে থাকে ক্রোমোজোম আর ক্রোমোজোমের মধ্যে থাকে DNA, যা জিন বহন করে। জিন হলো জীবের সকল বৈশিষ্ট্য নির্ধারণকারী একক। জীবের সকল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য জিনের মধ্যে নিহিত থাকে। জিনগুলো জীবের চারিত্রিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য যেমন গায়ের রং, চুলের প্রকৃতি, চামড়ার রং ইত্যাদি নির্ধারণ করে। জিনগুলো জীবের চারিত্রিক ও বৈশিষ্ট্য নতুন বংশধর সন্তান-সন্ততিতে অর্থাৎ নতুন বংশধরে বহন করে নিয়ে যাওয়া। এভাবে জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্য ক্রোমোজোমের মাধ্যমে নতুন বংশধরে বাহিত হয় এবং বংশগতির ধারা অক্ষুণ্ণ রাখে। এই জন্য ক্রোমোজোমকে বংশগতির ভৌতভিত্তি বলে আখ্যায়িত করা হয়। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, বংশগত বৈশিষ্ট্য বহনের ক্ষেত্রে ক্রোমোজোম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

নিউক্লিয়াস ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী: জীবকোষের সাইটোপ্লাজমে নির্দিষ্ট পর্দায় ক্রোমোজোম বহনকারী সুম্পষ্ট যে বস্তু দেখা যায় তাকে নিউক্লিয়াস বলে। নিউক্লিয়াস কোষের সব জৈবনিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। নিউক্লিয়াসের ভেতরে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার জালিকা নিয়ে গঠিত। নিউক্লিয়াসে নিউক্লিয়ার মেমব্রেন পৃথক করে কোমোজোম থেকে সাইটোপ্লাজমকে পৃথক করে রাখে। নিউক্লিওলাস নিউক্লিক এসিড ভাণ্ডার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে কোষের বিভাজন নিয়ন্ত্রিত হয়। ক্রোমোজোম নিউক্লিয়াসে ভাসমান থাকে। তাই কোনো জীবের বংশ রক্ষায় নিউক্লিয়াসের ভূমিকা অপরিসীম। কোষের সব কার্যকলাপ ঘটানোর নির্দেশ আসে নিউক্লিয়াস থেকেই।

তাই বলা যায়, নিউক্লিয়াস জীবকোষের ক্রিয়া-বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী অঙ্গাণু এবং কোষের প্রাণকেন্দ্র।
উদ্ভিদ টিস্যু (সরল টিস্যু, জটিল টিস্যু) — উদ্দীপক: চিত্র P (প্যারেনকাইমা), Q (কোলেনকাইমা), R (স্ক্লেরেনকাইমা), S (ট্রাকিড), T (ফ্লোয়েম)
চিত্র-P চিত্র-Q চিত্র-R চিত্র-S চিত্র-T
i. চিত্র 'P' এর গঠন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — প্যারেনকাইমা টিস্যুর গঠন:
চিত্রে 'P' হলো প্যারেনকাইমা টিস্যু। নিচে প্যারেনকাইমা টিস্যুর গঠন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:
  1. এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত ও প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ।
  2. এ টিস্যুতে আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়।
  3. কোষপ্রাচীরের পাতলা ও সেলুলোজ দিয়ে গঠিত।
  4. কোষে ক্লোরোপ্লাস্ট থাকলে এদের ক্লোরেনকাইমা বলে।
  5. বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে আয়ারেনকাইমা বলে।
ii. চিত্র 'Q' টিস্যুর গঠনগত বৈশিষ্ট্য চিত্রসহ ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — কোলেনকাইমা টিস্যুর গঠন:
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'Q' হলো কোলেনকাইমা টিস্যু। নিচে এই টিস্যুর গঠনগত বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:

এগুলো বিশেষ ধরনের প্যারেনকাইমা কোষ দিয়ে তৈরি হয়। কোষপ্রাচীরে সেলুলোজ এবং পেকটিন জমা হয়ে পুরু হয়। তবে এদের কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু এবং কোণাগুলো অধিক পুরু হয়। এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে তৈরি হয়, ফলে কোষের আন্তঃকোষীয় ফাঁক সাধারণত দেখা যায় না। এ টিস্যুর কোষগুলো লম্বাটে ও সবুজ হয়। এরা প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ কোষ দিয়ে তৈরি। খাদ্য প্রস্তুত এবং উদ্ভিদদেহকে দৃঢ়তা প্রদান করা এদের প্রধান কাজ। পাতার শিরা এবং পত্রবৃন্তে এদের দেখা যায়। কচি ও নমনীয় কাণ্ড, যেমন কুমড়া ও লতকলসের কাণ্ডে এ টিস্যু দৃঢ়তা প্রদান করে। এ কোষে যখন ক্লোরোপ্লাস্ট থাকে, তখন এরা খাদ্য প্রস্তুতও করতে পারে।
iii. চিত্র 'S' এর গঠন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — ট্রাকিডের গঠন:
উদ্দীপকের চিত্র 'S' হলো ট্রাকিড। নিচে ট্রাকিডের গঠন বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো:

ট্রাকিড কোষ লম্বা। এর প্রান্তদেশ সরু এবং সূচালো। প্রাচীরে লিগনিন জমা হয়ে পুরু হয় এবং অভ্যন্তরীণ গহ্বর বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পানির চলাচল পাশাপাশি জোড়া কূপের মাধ্যমে হয়ে থাকে। আবার ভেসেল কোষগুলো একটির মাথায় আরেকটি সজ্জিত হয় এবং এর ফলে প্রস্থপ্রাচীর পিলে গিয়ে একটি দীর্ঘ নলের সৃষ্টি হয়। প্রকার কয়েক ধরনের হয়, যেমন: বলাকার, সর্পিলাকার, জালিকাকার কিংবা কূপদিত। ফার্নবর্গ, গুম্ববীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদের প্রাথমিক ও গৌণ জাইলেম কলায় ট্রাকিড দেখা যায়। কোষরসের পরিবহন এবং অঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদান করা এর প্রধান কাজ। তবে কখনো খাদ্য সঞ্চয়ের কাজও এ টিস্যু করে থাকে।
iv. চিত্র 'T' টিস্যুটি হলো ফ্লোয়েম টিস্যু। নিচে সিভনলের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হলো: (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — ফ্লোয়েম টিস্যু / সিভনলের গঠন:
সিভনল হলো বিশেষ ধরনের কোষ। কোষগুলো চালুনির মতো ছিদ্রযুক্ত এবং জীবিত এ কোষগুলো লম্বাটিকভাবে লম্বলম্বিভাবে একটির উপর আরেকটি সজ্জিত হয়ে সিভনল গঠন করে। এ কোষগুলো চালুনির মতো ছিদ্রযুক্ত প্লেট দিয়ে পরস্পর থেকে আলাদা থাকে। সিভকোষে প্রোটোপ্লাজম প্রাচীর থেকে থাকে বলে একটি কেন্দ্রীয় ফাঁপা জায়গার সৃষ্টি হয় যা খাদ্য পরিবহনের নল হিসেবে কাজ করে। পাতার প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা এদের প্রধান কাজ।
v. উদ্দীপকের 'P' ও 'Q' এর কাজ একই হলেও গঠন ভিন্ন — বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
💡 উত্তর — প্যারেনকাইমা ও কোলেনকাইমার তুলনা:
উদ্দীপকে P হলো প্যারেনকাইমা এবং Q হলো কোলেনকাইমা — উভয়ই সরল টিস্যুর অন্তর্ভুক্ত।

গঠনে পার্থক্য:
  1. প্যারেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা প্রাচীরযুক্ত। কিন্তু কোলেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো লম্বাটে ও সবুজ।
  2. প্যারেনকাইমায় আন্তঃকোষীয় ফাঁক দেখা যায়, কিন্তু কোলেনকাইমায় আন্তঃকোষীয় ফাঁক সাধারণত দেখা যায় না।
  3. প্যারেনকাইমায় ক্লোরেনকাইমার মতো কোনো বিশেষ কোষ দেখা যেতে পারে, কিন্তু কোলেনকাইমায় এরূপ দেখা যায় না।
  4. প্যারেনকাইমা টিস্যু উদ্ভিদ দেহকে কখনো দৃঢ়তা প্রদান করে না। কিন্তু, কোলেনকাইমা কচি ও নমনীয় কাণ্ডে (কুমড়া, লতকলস) দৃঢ়তা প্রদান করে।
কাজে মিল: প্যারেনকাইমা ও কোলেনকাইমা উভয়ই দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা ও খাদ্য সঞ্চয় করা ইত্যাদি কাজ করে। তাই এদের কাজ একই হলেও গঠন ভিন্ন।
vii-ix. উদ্ভিদের জীবনে 'P' 'Q' 'R' টিস্যুর গুরুত্ব / পরিবহনে 'S' ও 'T' এর ভূমিকা (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
💡 উত্তর — উদ্ভিদদেহে সরল টিস্যুর ভূমিকা:
উদ্দীপকে উল্লিখিত P, Q, R হলো যথাক্রমে প্যারেনকাইমা, কোলেনকাইমা ও স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যু। এদেরকে একসাথে সরল টিস্যু বলা হয়। কারণ, এসব টিস্যুর প্রতিটি কোষ আকার, আকৃতি ও গঠনের দিক থেকে অভিন্ন।

উদ্ভিদদেহের সব অংশে প্যারেনকাইমা টিস্যু পাওয়া যায়। এ টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, সমব্যাসীয়, পাতলা কোষপ্রাচীরযুক্ত, ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত প্যারেনকাইমাকে ক্লোরেনকাইমা এবং বায়ুকুঠুরিযুক্ত প্যারেনকাইমাকে আয়ারেনকাইমা বলে। দেহ গঠন করা, খাদ্য প্রস্তুত করা, খাদ্য সঞ্চয় করা ইত্যাদি প্যারেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ।

আবার, কোলেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো জীবিত, প্রোটোপ্লাজমপূর্ণ, কোষপ্রাচীর অসমভাবে পুরু এবং কোণাগুলো অধিক পুরু হয়। খাদ্য প্রস্তুত এবং উদ্ভিদদেহে দৃঢ়তা প্রদান করা কোলেনকাইমা টিস্যুর প্রধান কাজ।

অন্যদিকে, স্ক্লেরেনকাইমা টিস্যুর কোষগুলো মৃত, প্রোটোপ্লাজমবিহীন এবং কোষপ্রাচীর লিগনিনযুক্ত। এই টিস্যুর কোষগুলো দুই ধরনের: ফাইবার এবং স্ক্লেরাইড। উদ্ভিদ দেহকে দৃঢ়তা প্রদান করা এবং পানি ও খনিজ লবণ পরিবহনে সহায়তা করা এর প্রধান কাজ।

💡 উত্তর — জাইলেম ও ফ্লোয়েমের পরিবহন ভূমিকা:
উদ্দীপকের 'S' হলো জাইলেম (ট্রাকিড) এবং 'T' হলো ফ্লোয়েম টিস্যু। জাইলেম এবং ফ্লোয়েম টিস্যু সমষ্টিত কার্যক্রমের মাধ্যমে উদ্ভিদ তার পরিবহন কাজ সম্পন্ন করে।

জাইলেম: জাইলেমে কয়েক ধরনের কোষ থাকে, যেমন-ট্রাকিড, ভেসেল, জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম ফাইবার। জাইলেম টিস্যুর ভেসেল মূল হতে পানি ও পানিতে দ্রবীভূত অন্যান্য খনিজ লবণ গাছের পাতা ও অন্যান্য সবুজ অংশে পরিবহন করে থাকে। জাইলেম টিস্যুর ট্রাকিড উদ্ভিদকে দৃঢ়তা প্রদান করা ছাড়াও মূল হতে কাণ্ড ও পাতায় পানি ও খনিজ লবণ পরিবহন করে থাকে। জাইলেম টিস্যুর প্যারেনকাইমা প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য সঞ্চয় ও খাদ্য পরিবহন করে থাকে।

ফ্লোয়েম: ফ্লোয়েম টিস্যু শারীরবৃত্তীয় দিক থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ টিস্যু জাইলেমের সাথে একত্রে পরিবহন টিস্যুসমূহ গঠন করে। সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও ফ্লোয়েম ফাইবার নিয়ে এটি গঠিত। সিভনল প্রোটোপ্লাজম প্রাচীর থেকে থাকে বলে একটি কেন্দ্রীয় ফাঁপা জায়গার সৃষ্টি হয় যা খাদ্য পরিবহনের নল হিসেবে কাজ করে। পাতায় প্রস্তুতকৃত খাদ্য উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন স্থানে পরিবহন করা ফ্লোয়েম টিস্যুর প্রধান কাজ। খাদ্য চলাচলে সঙ্গীকোষ সিভনলকে সাহায্য করে। সিভনল উদ্ভিদে খাদ্য সঞ্চয়ের কাজও করতে পারে। প্যারেনকাইমা খাদ্য সঞ্চয় করে ও খাদ্য পরিবহনে সহায়তা করে শারীরবৃত্তীয় কার্যাবলি সম্পন্ন করে। ফ্লোয়েম ফাইবার উদ্ভিদ অংশকে দৃঢ়তা প্রদান করে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অর্থকরী ফসল হলো পাট। পাটের আঁশে ফ্লোয়েম ফাইবার থাকে। পাটের আঁশ থেকে বহু অর্থনৈতিক দ্রব্যাদি উৎপাদন করা যায়। উপরিউক্ত আলোচনা হতে বলা যায় যে, চিত্রের 'T' টিস্যু অর্থাৎ ফ্লোয়েম টিস্যু শারীরবৃত্তীয় ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রাণিটিস্যু (যোজক টিস্যু, পেশি টিস্যু, স্নায়ু টিস্যু) — উদ্দীপক: চিত্র-১ (নিউরন), চিত্র-২ (ঐচ্ছিক পেশি), চিত্র-৩ (অনৈচ্ছিক পেশি), চিত্র-৪ (হৃৎপেশি)
নিউক্লিয়াস ডেনড্রাইট কোষদেহ মায়েলিন আবরণী অ্যাক্সন প্রান্ত চিত্র: একটি নিউরন
i. উদ্দীপকে ছক-১ এর N এর গঠন ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — যোজক কলার N কলা (তরল যোজক কলা):
উদ্দীপকের ছক-১ এর N কলাটি হলো তরল যোজক কলা (রক্ত)। দেহের অভ্যন্তরীণ কাঠামো গঠনকারী টিস্যুকে কেলিটাল যোজক টিস্যু বলে। এই কলা মূলত যোজক কলা। যোজক কলাতে মাতৃকার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি এবং কোষের সংখ্যা কম থাকে এবং এই টিস্যু দেহের নির্দিষ্ট আকৃতি এবং দৃঢ়তা দেয়। অঙ্গ সংযোগ করতে চলনে সহায়তা করে। মস্তিষ্ক, মেরুরজ্জু, ফুসফুস, হৃৎপিণ্ড এরকম দেহের নরম ও নাজুক অঙ্গতোলোকে রক্ষা করে। বিভিন্ন ধরনের রক্তকণিকা উৎপাদন করে।

M উপাদান হলো রক্তকণিকা: রক্তে তিন প্রকার রক্ত কণিকা থাকে, যথা: লোহিত রক্ত কণিকা, শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অণুচক্রিকা।
  1. লোহিত কণিকায় বিদ্যমান হিমোগ্লোবিন অক্সিজেন পরিবহন করে কোষে নিয়ে যায় এবং কোষ থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড পরিবহন করে ফুসফুসে নিয়ে আসে।
  2. লিফোসাইট জাতীয় শ্বেতরক্তকণিকা অ্যান্টিবডি গঠন করে এবং এই অ্যান্টিবডির দ্বারা দেহে প্রবেশকৃত রোগজীবাণু ধ্বংস করে। এভাবে দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
  3. রক্তের অণুচক্রিকা রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে ও দেহের রক্ত ক্ষরণ বন্ধ করে।
iii. চিত্র-২ তে অবস্থিত পেশি টিস্যুর গঠন বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — ঐচ্ছিক পেশির গঠন বৈশিষ্ট্য:
ঐচ্ছিক পেশিতে টিস্যুর কোষগুলো আড়াআড়ি, ডোরাযুক্ত নলাকার, শাখাবিহীন এবং নিউক্লিয়াসযুক্ত।
  1. ঐচ্ছিক পেশিতে টিস্যুর কোষগুলো আড়াআড়ি, ডোরাযুক্ত নলাকার, শাখাবিহীন এবং বহুনিউক্লিয়াসযুক্ত।
  2. কোষে মায়োফাইব্রিল, সারকোলেমা থাকে। তবে এদের ইন্টারকালেটেড ডিস্ক থাকে না।
  3. চোখ, জিহ্বা, হাত-পা এবং কঙ্কালের গায়ে এ পেশি অবস্থান করে।
  4. এ পেশি অস্থি তন্ত্রের গায়ে সংলগ্ন থেকে প্রাণীর ইচ্ছানুযায়ী সংকুচিত এবং প্রসারিত হয়ে শারীরবৃত্তীয় কাজে সহায়তা করে।
iv-v. চিত্র-৩ হলো অনৈচ্ছিক পেশি এবং চিত্র-৪ হলো কার্ডিয়াক পেশি। (প্রয়োগমূলক)
💡 উত্তর — অনৈচ্ছিক ও হৃৎপেশির গঠন ও ভূমিকা:
অনৈচ্ছিক পেশি (চিত্র-৩): যে পেশির সংকোচন ও প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়, তাকে অনৈচ্ছিক পেশি বলে। এই পেশি কোষগুলো মাকু আকৃতির। এদের গায়ে আড়াআড়ি দাগ থাকে না। এজন্য এ পেশিকে মসৃণ পেশি বলে। পৌষ্টিক নালি, রক্তনালি ইত্যাদির প্রাচীরের পেশি অনৈচ্ছিক। অনৈচ্ছিক পেশি সাধারণত দেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গাদির সংলিলনে অংশ নেয়। যেমন: খাদ্য হজম প্রক্রিয়ায় অঙ্গের ক্রমসংকোচন।

হৃৎপেশি বা কার্ডিয়াক পেশি (চিত্র-৪): হৃৎপেশি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের হৃৎপিণ্ডের এক বিশেষ ধরনের অনৈচ্ছিক পেশি। এই টিস্যুর কোষগুলো নলাকৃতি (একটি ঐচ্ছিক পেশির মতো), শাখাবিশিষ্ট ও আড়াআড়ি দাগযুক্ত। এ টিস্যুর কোষগুলোর মধ্যে ইন্টারকালেটেড ডিস্ক থাকে। এদের সংকোচন-প্রসারণ প্রাণীর ইচ্ছাধীন নয়। কার্ডিয়াক পেশির কোষগুলো শাখার মাধ্যমে পরস্পর যুক্ত থাকে। হৃৎপেশির সব কার্ডিয়াক পেশি সমষ্টিভাবে সংকুচিত ও প্রসারিত হয়। প্রাণীদেহের রক্ত সঞ্চালনের প্রক্রিয়া সচল রাখে এই হৃৎপেশির কাজ। এই রক্ত সঞ্চালন না হলে জীবদেহ সচল থাকতো না। কারণ রক্তের মাধ্যমেই দেহের সকল প্রয়োজনীয় উপাদান পরিবাহিত হয়।

তাই বলা যায় যে, এই হৃৎপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সারা শরীরে রক্ত প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাবে এবং দেহ অচল হয়ে পড়বে।
vi. চিত্র-১ নং টিস্যুটি অর্থাৎ স্নায়ুটিস্যু (নিউরন) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে — বিশ্লেষণ। (উচ্চতর দক্ষতামূলক)
💡 উত্তর — স্নায়ু টিস্যুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা:
নিউরন বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উদ্দীপনা বা র্যায়ুতাড়না গ্রহণ করে এবং দেহের অভ্যন্তরে তা পরিবহন করে। কোষদেহ, ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন-এ তিনটি অংশ নিয়ে এটি গঠিত। অসংখ্য নিউরনের সমন্বয়ে গঠিত হয় স্নায়ু। পরপর দুটি নিউরনের প্রথমটির অ্যাক্সন এবং পরেরটির ডেনড্রাইটের মধ্যে একটি সিন্যাপস গঠিত হয়। প্রথম নিউরনের অ্যাক্সন গৃহীত উদ্দীপনা মূলত সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় নিউরনের ডেনড্রাইটে প্রেরণ করে। এছাড়া সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে এক নিউরন থেকে অন্য নিউরনে উদ্দীপনা প্রেরণ করা হয় যা ক্রমাশ্যে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে। ফলে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র উদ্দীপনা গ্রহণ করে উপযুক্ত প্রতিবেদন সৃষ্টি করে। নিউরনের কার্যকারিতার ফলে উদ্দীপনা প্রয়োজনীয় অঙ্গেতে সংলিত হয়। এটি মাংসপেশিতে সংলিত হলে পেশি সংকুচিত হয়ে সাড়া দেয়। ফলে প্রয়োজনমতো দেহের বিভিন্ন অংশ সংলিত হয়। এই তাড়না গ্রহিতে পৌঁছালে সেখানে রস ক্ষরিত হয়। অনুভূতিবাহী স্নায়ু উত্তেজিত হলে সেই উত্তেজনা মস্তিষ্কের দিকে অগ্রসর হয়ে বোধ, স্পর্শজ্ঞান, দর্শন এ ধরনের অনুভূতি উপলব্ধি করায়।

সুতরাং বলা যায় যে, মানবদেহের সক্রিয়তায় স্নায়ু টিস্যুর ভূমিকা অপরিহার্য।
📖 শব্দকোষ (Vocabulary)
কোষ
Cell
জীবদেহের গঠন ও কাজের একক।
প্রাককেন্দ্রিক কোষ
Prokaryotic Cell
সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিহীন কোষ।
সুকেন্দ্রিক কোষ
Eukaryotic Cell
সুগঠিত নিউক্লিয়াসযুক্ত প্রকৃত কোষ।
মাইটোকন্ড্রিয়া
Mitochondria
কোষের শক্তি উৎপাদন কেন্দ্র বা পাওয়ার হাউস।
ক্লোরোপ্লাস্ট
Chloroplast
সবুজ রঙের প্লাস্টিড; সালোকসংশ্লেষণ সম্পন্ন করে।
ক্রোমোপ্লাস্ট
Chromoplast
রঞ্জিন প্লাস্টিড; ফুল ও ফলকে রঙিন করে।
লিউকোপ্লাস্ট
Leucoplast
বর্ণহীন প্লাস্টিড; সূর্যালোকবিহীন স্থানে থাকে।
লাইসোজোম
Lysosome
কোষের "Suicidal Bag"; রোগ প্রতিরোধ করে।
নিউক্লিওলাস
Nucleolus
নিউক্লিয়াসের ভেতর রাইবোজোম তৈরির স্থান।
ক্রোমাটিন
Chromatin
DNA ও প্রোটিনের সমন্বয়ে গঠিত জটিল কাঠামো।
প্যারেনকাইমা
Parenchyma
পাতলা প্রাচীরযুক্ত সরল সজীব টিস্যু।
কোলেনকাইমা
Collenchyma
কোণে পুরু প্রাচীরযুক্ত সরল সজীব টিস্যু; দৃঢ়তা দেয়।
স্ক্লেরেনকাইমা
Sclerenchyma
লিগনিনযুক্ত মৃত কোষের টিস্যু; সর্বোচ্চ দৃঢ়তা দেয়।
জাইলেম
Xylem
পানি ও খনিজ লবণ পরিবহনকারী জটিল টিস্যু।
ফ্লোয়েম
Phloem
প্রস্তুতকৃত খাদ্য পরিবহনকারী জটিল টিস্যু।
নিউরন
Neuron
স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যের একক।
সিন্যাপস
Synapse
দুই নিউরনের অ্যাক্সন ও ডেনড্রাইটের সংযোগ স্থল।
হৃৎপেশি
Cardiac Muscle
হৃৎপিণ্ডের বিশেষ অনৈচ্ছিক পেশি; ইন্টারকালেটেড ডিস্ক থাকে।

⚡ Quick Revision — পরীক্ষার আগে এটুকু মনে রাখো!

⚠️ পরীক্ষায় সাধারণ ভুল: