এখন আমরা বিস্তারিত সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেখব। প্রতিটি প্রশ্নের উদ্দীপক, উপপ্রশ্ন এবং পূর্ণ নম্বরের উত্তর দেওয়া হয়েছে।
🔵 প্রশ্ন নং-১
উদ্দীপক
প্রয়োগ (iii)
'X' বিভাজনের ৩য় ধাপ/ 'X' বিভাজনের যে ধাপে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয় সে ধাপটি ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো
মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস কোষ বিভাজনে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয়
৩য় ধাপে অর্থাৎ মেটাফেজ ধাপে। নিচে মেটাফেজ ধাপটি ব্যাখ্যা করা হলো—
মেটাফেজ ধাপের বৈশিষ্ট্য:
- প্রথমেই সব ক্রোমোজোমা স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (দুই মেরুর মধ্যখানে) অবস্থান করে।
- প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় অঞ্চলে এবং বাহু দুটি মেরুমুখী হয়ে অবস্থান করে।
- এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা এবং খাটো হয়।
- প্রতিটি ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিড দুটির আকর্ষণ কমে যায় এবং বিকর্ষণ শুরু হয়।
- এ পর্যায়ের শেষ দিকে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয়।
- নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।
প্রয়োগ (ii)
'X' বিভাজনের ৪র্থ ধাপ/ 'X' বিভাজনের যে ধাপে ক্রোমোজোমগুলো মেরুমুখী হয়, সেটি সচিত্র বর্ণনা করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস। মাইটোসিসের ৪র্থ ধাপ হলো
অ্যানাফেজ। নিচে অ্যানাফেজ পর্যায়ের বর্ণনা করা হলো—
- প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে।
- এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে এবং এতে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
- অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পরস্পর বিপরীত মেরুর দিকে সরে যেতে থাকে। অর্থাৎ ক্রোমোজোমগুলোর এক মেরু দিক এবং বাকি অর্ধেক অন্য মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
- অপত্য ক্রোমোজোমের মেরু অভিমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং বাহুসমূহ অনুগামী হয়।
- সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো V, L, J বা I-এর মতো আকার ধারণ করে। এদেরকে যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাকোসেন্ট্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক বলে।
- অ্যানাফেজ পর্যায়ের শেষের দিকে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডলযন্ত্রের মেরুপ্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে।
প্রয়োগ (iii)
উদ্দীপকের চিত্রে 'X' বিভাজন প্রক্রিয়ার এর সর্বশেষ ধাপটি বর্ণনা করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস। মাইটোসিসের সর্বশেষ ধাপ হলো
টেলোফেজ। নিচে টেলোফেজ পর্যায়ের বর্ণনা করা হলো—
- ক্রোমোজোমগুলোতে পানি যোজন ঘটতে থাকে এবং সরু ও লম্বা আকার ধারণ করে। অবশেষে এরা জড়িয়ে গিয়ে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে।
- নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে।
- নিউক্লিয়ারের রেটিকুলামকে ঘিরে পুনরায় নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের সৃষ্টি হয়, ফলে দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।
- স্পিন্ডলযন্ত্রের কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং তন্তুগুলো ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
- টেলোফেজ পর্যায়ের শেষে বিষুবীয় তলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার ক্ষুদ্র অংশগুলো জমা হয় এবং পরে এরা মিলিত হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে।
- সাইটোপ্লাজমিক অঙ্গাণুসমূহের সমবণ্টন ঘটে। ফলে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
- প্রাণির ক্ষেত্রে স্পিন্ডলযন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে কোষঝিল্লি গর্তের মতো ভিতরের দিকে ঢুকে যায়।
- এ গর্ত সবদিক থেকে ক্রমাগত গভীরতর হয়ে একসময় মিলিত হয়, ফলে কোষটি দুভাগে ভাগ হয়ে পড়ে।
প্রয়োগ (iv)
চিত্রের 'X' ও 'Y' বিভাজন প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো।
চিত্রের 'X' বিভাজন প্রক্রিয়াটি
মাইটোসিস এবং 'Y' বিভাজন প্রক্রিয়াটি
মিয়োসিস। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো—
| পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য |
মাইটোসিস (X) |
মিয়োসিস (Y) |
| ১. যে ধরনের কোষে হয় |
হ্যাপ্লয়েড কোষে হয়ে থাকে। |
কখনো হ্যাপ্লয়েড কোষে হয় না। |
| ২. অপত্য কোষের সংখ্যা |
মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। |
মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। |
| ৩. নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোমের বিভাজন |
নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। |
নিউক্লিয়াস দুইবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। |
| ৪. ক্রোমোজোমের সংখ্যা |
অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। |
অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে। |
| ৫. ক্রসিংওভার |
ঘটে না। |
ঘটে। |
| ৬. বিবর্তন |
বিবর্তনে মাইটোসিসের কোনো ভূমিকা নেই। |
ক্রসিংওভারের মাধ্যমে বিবর্তনের পথ সুগম করে। |
| ৭. গুণাগুণ |
অপত্য কোষের গুণাগুণ মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমগুণ সম্পন্ন হয়। |
অপত্য কোষের ক্রোমোজোমে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম থেকে ভিন্ন গুণ সম্পন্ন হয়। |
প্রয়োগ (v)
উদ্দীপকের চিত্রে 'X' বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্যারিওকাইনেসিস ধাপের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস। মাইটোসিসে ক্যারিওকাইনেসিস হলো নিউক্লিয়াসের বিভাজন পর্যায়। নিচে মাইটোসিসের প্রোফেজ থেকে টেলোফেজ পর্যন্ত ক্যারিওকাইনেসিসের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো—
উচ্চতর দক্ষতা (vi)
'Y' বিভাজন প্রক্রিয়াটি প্রজাতির বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি করে— বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। মিয়োসিস কোষ বিভাজন জীবজগতে প্রজাতির বৈচিত্র্যতা রক্ষা করে।
মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষ সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্ট দুটি হ্যাপ্লয়েড পুং জনন কোষ ও স্ত্রী জনন কোষ মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠিত হয়। ফলে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ণ থাকে।
জীবজগতে প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের মূল কারণ হলো ক্রোমোজোমের ভিন্নতা। জীবজগতে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বজায় রাখা মিয়োসিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কোনো প্রজাতির টিকে থাকা বা না থাকা মূলত নির্ভর করে তার সদস্য জীবদের মধ্যে কতটা বৈচিত্র্য আছে, তার উপর। পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সেইসব প্রজাতি টিকে থাকে, যাদের অন্তত কিছু সদস্যের মধ্যে সেই পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ-খাইয়ে নেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
মিয়োসিসের ক্রসিংওভারের মাধ্যমে ক্রোমোজোমে নতুন জিনের সমন্বয় ঘটে, যা জীবদেহে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি করে। এভাবে মিয়োসিস প্রজাতির বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
উচ্চতর দক্ষতা (vii)
জীবের ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস। জীবের ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় মিয়োসিস অর্থাৎ 'Y' অংশের ভূমিকাই মুখ্য।
উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে মিয়োসিসের ফলে একটি জনন মাতৃকোষ হতে চারটি জনন কোষের সৃষ্টি হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। দুটি জননকোষ, তথা পুংজননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ একত্রে মিলিত হয়ে একট জাইগোট সৃষ্টি করে। পরে জাইগোটটি মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে একটি জীব সৃষ্টি করে, এরপটি বারবার বিভাজনের মাধ্যমে একটি বহুকোষী জীবের সৃষ্টি করে। কাজেই মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে উচ্চশ্রেণির জননকোষগুলোতে ক্রোমোজোম সংখ্যা কমে জনন মাতৃকোষের অর্ধেক না হলে, জননকোষ দুটির মিলনে সৃষ্ট জীবে ক্রোমোজোম সংখ্যা দিগুণ হবে।
যেহেতু ক্রোমোজোমই জীবের লক্ষণ নির্ধারণকারী জিন বহন করে, সেহেতু ক্রোমোজোম সংখ্যা দিগুণ হলে পরবর্তী বংশধর তথা সন্তানের বৈশিষ্ট্য পিতা-মাতা থেকে ভিন্ন হবে, যা জীবের রক্ষণ করে। ডিপ্লয়েড জীবে গ্যামিট সৃষ্টিকালে জনন মাতৃকোষে এবং হ্যাপ্লয়েড জীবের ডিপ্লয়েড জাইগোটে (2n) সৃষ্টি হয় যা ডিপ্লয়েডিকে ধরে রাখে। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে জীবদেহের ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রেখে জীব প্রজাতির স্বাতন্ত্র্যতা বজায় রাখে।
সুতরাং উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় মিয়োসিস কোষ বিভাজন মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
উচ্চতর দক্ষতা (viii)
'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি অনিয়ন্ত্রিত হলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে না ঘটলে জীবদেহে যে ধরনের সমস্যা হতে পারে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—
মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষ সংখ্যা বাড়তে থাকে। এভাবে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে। কিন্তু কোনো কারণে এ বিভাজন প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এরূপ বিভাজনের ফলে ক্যান্সার বা টিউমার কোষের সৃষ্টি হয়। আর ক্যান্সার হলো জীবনের শেষ পরিণতি, যা মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়। বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ কিংবা তেজস্ক্রিয়তা কোষ সৃষ্টিতে কোষের সহায়তা করে। আবার, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের কারণেও ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। আবার, ই৬ ও ই৭ নামের দুটি জিন এমন কিছু প্রোটিন সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ প্রোটিনসমূহের স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় টিউমার। অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিনগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ কিংবা ক্যান্সার।
উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, যদি উদ্দীপকে উল্লেখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া অর্থাৎ মাইটোসিস প্রক্রিয়াটি অনিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে মানবজাতির জন্য তা অত্যাধিক বিপজ্জনক হবে।
উচ্চতর দক্ষতা (ix)
জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় 'X' ও 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনটি অধিক ভূমিকা রাখে— বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন হলো মাইটোসিস এবং 'Y' কোষ বিভাজন হলো মিয়োসিস। জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় 'X' তথা মাইটোসিস বিভাজন অধিক ভূমিকা রাখে।
বিশ্লেষণ:
জীবদেহে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। বহুকোষী জীব জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। এই একটি কোষটি বারবার মাইটোসিস বিভাজনের ফলে অসংখ্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণ জীবে পরিণত হয়।
মাইটোসিসে তৈরি অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গুণাগুণ একই রকম থাকায় জীবের দেহের বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হতে পারে। মাইটোসিসের ফলে অঙ্গজ প্রজনন সাধিত হয় এবং জননকোষের সংখ্যাবৃদ্ধিতে মাইটোসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবদেহের ক্ষতস্থান পূরণ করতে মাইটোসিস অপরিহার্য। কিছু কিছু জীবকোষ আছে যাদের আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট। এসব কোষ বিনষ্ট হলে মাইটোসিসের মাধ্যমে এদের পূরণ ঘটে। মাইটোসিসের ফলে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
অন্যদিকে, মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণির ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষ সৃষ্টি করে। জননকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা কম জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয়। আবার যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড জননকোষের মিলন ঘটে তখন জাইগোট (2n) সৃষ্টি হয় যা ডিপ্লয়েডিটি ধরে রাখে। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে জীবদেহের ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রেখে জীব প্রজাতির স্বাতন্ত্র্যতা বজায় রাখে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিয়োসিস ও মাইটোসিসের মধ্যে মাইটোসিস অধিক ভূমিকা রাখে।