✦ Fictus Academy ✦
জীববিজ্ঞান · অধ্যায় ৩ · নবম-দশম শ্রেণি
কোষ বিভাজন
Cell Division
📚 সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর শিট ✍️ সৃজনশীল প্রস্তুতি ⭐ Full Marks গাইড
Lecture by Leon Vai · Fictus Academy

📋 বিষয়সূচি

  1. জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর (Short Answer - Knowledge Level)
  2. অনুধাবনমূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (Comprehension Level)
  3. সৃজনশীল / ব্যাপক প্রশ্নোত্তর (Comprehensive Questions)
    • প্রশ্ন ১: মাইটোসিসের পর্যায়সমূহ, গুরুত্ব এবং মিয়োসিস
  4. শব্দকোষ (Vocabulary)
  5. Quick Revision
📝 জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর (১ নম্বর)
🔬 Concept 3.1 — কোষ বিভাজন এবং তার প্রকারভেদ
জ্ঞানমূলক
[য.বো.'১৭]
প্রশ্ন-১। কোষ বিভাজন কী?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় জীবের বৃদ্ধি ও জননের উদ্দেশ্যে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে, তাকে কোষ বিভাজন বলে।

💡 মনে রাখো
কোষ বিভাজনের মূল উদ্দেশ্য দুটি: (১) জীবের বৃদ্ধি এবং (২) জনন (প্রজনন)। এই দুটি উদ্দেশ্যের জন্যই কোষ বিভাজিত হয়।
🔬 Concept 3.2 — মাইটোসিস
জ্ঞানমূলক
[য.বো.'১৯]
প্রশ্ন-২। মাইটোসিস কাকে বলে?
উত্তর: যে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি মাতৃকোষ থেকে দুইটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয় এবং অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে এবং অপত্য কোষগুলোর গঠন ও গুণাগুণ হুবহু মাতৃকোষের মতই থাকে, তাকে মাইটোসিস বলে।
✅ মূল বৈশিষ্ট্য (চাবিকাঠি)
মাতৃকোষ (2n) → ২টি অপত্য কোষ (2n) | ক্রোমোজোম সংখ্যা একই থাকে | গঠন ও গুণ মাতৃকোষের মতো
জ্ঞানমূলক
প্রশ্ন-৩। কোন কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলে?
উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।
📌 কারণ
মাইটোসিসে অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে, অর্থাৎ সংখ্যা সমান (equal) হয় বলেই একে সমীকরণিক বিভাজন বলে।
জ্ঞানমূলক
[য.বো.'২৫; রা.বো.'১৭; পি.বো.'১৫]
প্রশ্ন-৪। ক্যারিওকাইনেসিস কী?
উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজনের যে প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াসের বিভাজন ঘটে, সে প্রক্রিয়াকে ক্যারিওকাইনেসিস বলে।
🧠 মেমোরি ট্রিক
Karyo = নিউক্লিয়াস (গ্রিক), Kinesis = বিভাজন/গতি। তাই Karyokinesis = নিউক্লিয়াসের বিভাজন।
জ্ঞানমূলক
[য.বো.'১৯]
প্রশ্ন-৫। সাইটোকাইনেসিস কী/কাকে বলে?
উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজনের যে প্রক্রিয়ায় সাইটোপ্লাজমের বিভাজন ঘটে, সে প্রক্রিয়াকে সাইটোকাইনেসিস বলে।
🧠 মেমোরি ট্রিক
Cyto = কোষ/সাইটোপ্লাজম, Kinesis = বিভাজন। তাই Cytokinesis = সাইটোপ্লাজমের বিভাজন।
জ্ঞানমূলক
[য.বো.'২৫; চ.বো.'২৫,'১৯; ব.বো.'২৫,'২৪; ম.বো.'২৪; পি.বো.'২৫,'১৩; ঢা.বো.'১৭; সি.বো.'১৫]
প্রশ্ন-৬। ইন্টারফেজ কী?
উত্তর: বিভাজন শুরু আগে কোষের নিউক্লিয়াসে যে সময়ে কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ হয়, তাকে ইন্টারফেজ বলে।
ℹ️ বিস্তারিত
ইন্টারফেজ হলো কোষ বিভাজনের প্রস্তুতিকালীন পর্যায়। এ সময় DNA অনুলিপন (replication), প্রোটিন সংশ্লেষণ ও শক্তি সঞ্চয় হয়। এটি মাইটোসিসের আগের ধাপ।
জ্ঞানমূলক
[কু.বো.'২৪]
প্রশ্ন-৭। স্পিন্ডল যন্ত্র কী?
উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রো-মেটাফেজ ধাপে কোষের উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরু পর্যন্ত বিস্তৃত কতগুলো তন্তুর আবির্ভাব ঘটে। এগুলো মাকুর আকৃতি ধারণ করে। একে স্পিন্ডল যন্ত্র বলে।
ℹ️ কাজ
স্পিন্ডল যন্ত্রের কাজ হলো ক্রোমোজোমগুলোকে কোষের দুই মেরুতে টেনে নিয়ে যাওয়া, যা অ্যানাফেজ ধাপে ঘটে।
জ্ঞানমূলক
[য.বো.'২৪; পি.বো.'২০; ম.বো.'২০]
প্রশ্ন-৮। আকর্ষণ তন্তু কী?
অথবা, ট্রাকশন তন্তু কী?
উত্তর: কোষ বিভাজনের সময় সৃষ্ট স্পিন্ডল যন্ত্রের যেসব নির্দিষ্ট তন্তুর সাথে ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার সংযুক্ত থাকে, তাদেরকে আকর্ষণ তন্তু বলে।
✅ মূল পার্থক্য
স্পিন্ডল যন্ত্রে দুই ধরনের তন্তু থাকে: (১) আকর্ষণ তন্তু — ক্রোমোজোমের সাথে যুক্ত থাকে। (২) অবিচ্ছিন্ন তন্তু — দুই মেরুর সাথে সংযুক্ত থাকে।
জ্ঞানমূলক
[রা.বো.'২৫]
প্রশ্ন-৯। ক্যান্সার কী?
উত্তর: অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে শরীরের কোন অংশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিকে টিউমার বলা হয়। প্রাণঘাতী টিউমারকে ক্যান্সার বলা হয়।
⚠️ পরীক্ষার টিপস
ক্যান্সার = প্রাণঘাতী (Malignant) টিউমার। সাধারণ টিউমার = Benign (সৌম্য)। দুটোর পার্থক্য জেনে রাখো।
🔬 Concept 3.3 — মিয়োসিস
জ্ঞানমূলক
[য.বো.'১৫]
প্রশ্ন-১০। জাইগোট কী?
উত্তর: মাতৃ ও পিতৃ জনন কোষ মিলিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠনের সূচনা করে। এই মিলিত কোষকে জাইগোট বলে।
ℹ️ মনে রাখো
ডিম্বাণু (n) + শুক্রাণু (n) → জাইগোট (2n)। জাইগোট থেকেই নতুন জীবের বিকাশ শুরু হয়।
📝 অনুধাবনমূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (২ নম্বর)
🔬 Concept 3.2 — মাইটোসিস (অনুধাবন)
অনুধাবনমূলক
[পি.বো.'২৩ | য.বো.'১৯ | পি.বো.'১৫]
প্রশ্ন-১। কোন কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।
অথবা, সমীকরণিক কোষ বিভাজন কাকে বলে? ব্যাখ্যা করো।
অথবা, মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয় কেন?
উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজনকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি সুকেন্দ্রিক কোষ বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিভক্ত হয়ে দুটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় মাতৃকোষের ক্রোমোজোম ও নিউক্লিয়াস একবার বিভক্ত হয়, ফলে নতুন সৃষ্ট কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা ও গুণাগুণ মাতৃকোষের অনুরূপ থাকে। অর্থাৎ অপত্য কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান (সমীকরণিক) হয় বলে মাইটোসিসকে সমীকরণিক বিভাজন বলা হয়।
🔢 সংক্ষেপে
মাতৃকোষ (2n) → মাইটোসিস → ২টি অপত্য কোষ (2n)
∴ ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান → সমীকরণিক বিভাজন
অনুধাবনমূলক
[কু.বো.'১৫]
প্রশ্ন-২। অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন কাকে বলে? বোঝাও।
উত্তর: কোষ বিভাজন যখন নিয়ন্ত্রিত না থেকে তখন তাকে অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন বলে।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমারের সৃষ্টি হয়। ক্যান্সারও এই নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ
অস্বাভাবিক কোষ বিভাজন → টিউমার → মারাত্মক হলে → ক্যান্সার
অনুধাবনমূলক
[ম.বো.'২০ | ম.বো.'২৪; পি.বো.'১৬]
প্রশ্ন-৩। ক্যান্সারের সৃষ্টি হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
অথবা, ক্যান্সার কীভাবে সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে ক্যান্সার কোষের সৃষ্টি হয়। এগুলো অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের ফল।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমারের সৃষ্টি হয় এবং প্রাণঘাতী টিউমারকে ক্যান্সার বলে।
অনুধাবনমূলক
[কু.বো.'২৪ | চ.বো.'২৪]
প্রশ্ন-৪। টিউমারের সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
অথবা, মানবদেহের টিউমার হওয়ার কারণ কী? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে।

কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে টিউমারের সৃষ্টি হয়। ক্যান্সারও এই নিয়ন্ত্রণহীন অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনেরই ফসল।
ℹ️ সহজ ভাষায়
স্বাভাবিক কোষ বিভাজন → নিয়ন্ত্রণ থাকলে → সুস্থ শরীর
নিয়ন্ত্রণ নষ্ট → অস্বাভাবিক বিভাজন → টিউমার → ক্যান্সার
অনুধাবনমূলক
[য.বো.'২৪]
প্রশ্ন-৫। জরায়ুমুখে টিউমারের সৃষ্টির কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: জরায়ুমুখে অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের ফলে টিউমারের সৃষ্টি হয়। এগুলো অস্বাভাবিক কোষ বিভাজনের ফল।

মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কিন্তু কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রিত থাকে। কোনো কারণে এই নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এর ফলে জরায়ুমুখে টিউমারের সৃষ্টি হয়।
🔬 Concept 3.3 — মিয়োসিস (অনুধাবন)
অনুধাবনমূলক
[রা.বো.'২৫; চ.বো.'১৯ | ম.বো.'২৫; রা.বো., সি.বো.'১৭ | ম.বো.'২৫; রা.বো., সি.বো.'১৭]
প্রশ্ন-৬। কোন প্রকার কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলে? ব্যাখ্যা করো।
অথবা, মিয়োসিসকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয় কেন?
অথবা, হ্রাসমূলক বিভাজন কাকে বলে কী বুঝ?
উত্তর: মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।

মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় একটি প্রকৃত মাতৃকোষ বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভক্ত হয়ে চারটি অপত্য কোষে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত নিউক্লিয়াস দুইবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। ফলে অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হ্রাস পায় বলে মিয়োসিস কোষ বিভাজনকে হ্রাসমূলক বিভাজন বলা হয়।
🔢 সংক্ষেপে
মাতৃকোষ (2n) → মিয়োসিস → ৪টি অপত্য কোষ (n)
ক্রোমোজোম: 2n → n (অর্ধেক হ্রাস) → হ্রাসমূলক বিভাজন
🏆 সৃজনশীল / ব্যাপক প্রশ্নোত্তর (Comprehensive Questions)
এখন আমরা বিস্তারিত সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দেখব। প্রতিটি প্রশ্নের উদ্দীপক, উপপ্রশ্ন এবং পূর্ণ নম্বরের উত্তর দেওয়া হয়েছে।
🔵 প্রশ্ন নং-১
উদ্দীপক
2n মাতৃকোষ X n n Y n n n n অপত্য কোষ (n)
যেখানে 'X' এবং 'Y' কোষ বিভাজনের দুটি প্রক্রিয়া।
প্রয়োগ (iii) 'X' বিভাজনের ৩য় ধাপ/ 'X' বিভাজনের যে ধাপে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয় সে ধাপটি ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস কোষ বিভাজন। মাইটোসিস কোষ বিভাজনে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা ও খাটো হয় ৩য় ধাপে অর্থাৎ মেটাফেজ ধাপে। নিচে মেটাফেজ ধাপটি ব্যাখ্যা করা হলো—

মেটাফেজ ধাপের বৈশিষ্ট্য:
  1. প্রথমেই সব ক্রোমোজোমা স্পিন্ডল যন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে (দুই মেরুর মধ্যখানে) অবস্থান করে।
  2. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার বিষুবীয় অঞ্চলে এবং বাহু দুটি মেরুমুখী হয়ে অবস্থান করে।
  3. এ পর্যায়ে ক্রোমোজোমগুলো সর্বাধিক মোটা এবং খাটো হয়।
  4. প্রতিটি ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিড দুটির আকর্ষণ কমে যায় এবং বিকর্ষণ শুরু হয়।
  5. এ পর্যায়ের শেষ দিকে সেন্ট্রোমিয়ারের বিভাজন শুরু হয়।
  6. নিউক্লিয়ার মেমব্রেন এবং নিউক্লিওলাসের সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটে।
উদ্ভিদকোষ স্পিন্ডল তন্তু ক্রোমোজোমাল তন্তু বিষুবীয় অঞ্চল মেরু মেরু ক্রোমোজোম প্রাণিকোষ স্পিন্ডল তন্তু ক্রোমাটিডদ্বয় সেন্ট্রোমিয়ার আস্টার-রে মেরু মেরু |
চিত্র: মেটাফেজ (উদ্ভিদকোষ ও প্রাণিকোষ)
প্রয়োগ (ii) 'X' বিভাজনের ৪র্থ ধাপ/ 'X' বিভাজনের যে ধাপে ক্রোমোজোমগুলো মেরুমুখী হয়, সেটি সচিত্র বর্ণনা করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস। মাইটোসিসের ৪র্থ ধাপ হলো অ্যানাফেজ। নিচে অ্যানাফেজ পর্যায়ের বর্ণনা করা হলো—

  1. প্রতিটি ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ার দুভাগে বিভক্ত হয়ে যায়, ফলে ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে পড়ে।
  2. এ অবস্থায় প্রতিটি ক্রোমাটিডকে অপত্য ক্রোমোজোম বলে এবং এতে একটি করে সেন্ট্রোমিয়ার থাকে।
  3. অপত্য ক্রোমোজোমগুলো বিষুবীয় অঞ্চল থেকে পরস্পর বিপরীত মেরুর দিকে সরে যেতে থাকে। অর্থাৎ ক্রোমোজোমগুলোর এক মেরু দিক এবং বাকি অর্ধেক অন্য মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
  4. অপত্য ক্রোমোজোমের মেরু অভিমুখী চলনে সেন্ট্রোমিয়ার অগ্রগামী থাকে এবং বাহুসমূহ অনুগামী হয়।
  5. সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুযায়ী ক্রোমোজোমগুলো V, L, J বা I-এর মতো আকার ধারণ করে। এদেরকে যথাক্রমে মেটাসেন্ট্রিক, সাবমেটাসেন্ট্রিক, অ্যাকোসেন্ট্রিক বা টেলোসেন্ট্রিক বলে।
  6. অ্যানাফেজ পর্যায়ের শেষের দিকে অপত্য ক্রোমোজোমগুলো স্পিন্ডলযন্ত্রের মেরুপ্রান্তে অবস্থান নেয় এবং ক্রোমোজোমের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেতে থাকে।
↑ মেরুমুখী ↓ মেরুমুখী মেরু মেরু উদ্ভিদকোষ সেন্ট্রিওল সেন্ট্রিওল প্রাণিকোষ
চিত্র: অ্যানাফেজ
প্রয়োগ (iii) উদ্দীপকের চিত্রে 'X' বিভাজন প্রক্রিয়ার এর সর্বশেষ ধাপটি বর্ণনা করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস। মাইটোসিসের সর্বশেষ ধাপ হলো টেলোফেজ। নিচে টেলোফেজ পর্যায়ের বর্ণনা করা হলো—

  1. ক্রোমোজোমগুলোতে পানি যোজন ঘটতে থাকে এবং সরু ও লম্বা আকার ধারণ করে। অবশেষে এরা জড়িয়ে গিয়ে নিউক্লিয়ার রেটিকুলাম গঠন করে।
  2. নিউক্লিওলাসের পুনরাবির্ভাব ঘটে।
  3. নিউক্লিয়ারের রেটিকুলামকে ঘিরে পুনরায় নিউক্লিয়ার মেমব্রেনের সৃষ্টি হয়, ফলে দুই মেরুতে দুটি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠিত হয়।
  4. স্পিন্ডলযন্ত্রের কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং তন্তুগুলো ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়।
  5. টেলোফেজ পর্যায়ের শেষে বিষুবীয় তলে এন্ডোপ্লাজমিক জালিকার ক্ষুদ্র অংশগুলো জমা হয় এবং পরে এরা মিলিত হয়ে কোষপ্লেট গঠন করে।
  6. সাইটোপ্লাজমিক অঙ্গাণুসমূহের সমবণ্টন ঘটে। ফলে দুটি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়।
  7. প্রাণির ক্ষেত্রে স্পিন্ডলযন্ত্রের বিষুবীয় অঞ্চলে কোষঝিল্লি গর্তের মতো ভিতরের দিকে ঢুকে যায়।
  8. এ গর্ত সবদিক থেকে ক্রমাগত গভীরতর হয়ে একসময় মিলিত হয়, ফলে কোষটি দুভাগে ভাগ হয়ে পড়ে।
← কোষপাত → নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়াস নিউক্লিওলাস উদ্ভিদকোষ বিদারণ খাঁজ নিউক্লিয় মেমব্রেন নিউক্লিওলাস প্রাণিকোষ
চিত্র: টেলোফেজ
প্রয়োগ (iv) চিত্রের 'X' ও 'Y' বিভাজন প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো।
চিত্রের 'X' বিভাজন প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস এবং 'Y' বিভাজন প্রক্রিয়াটি মিয়োসিস। নিচে এদের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করা হলো—
পার্থক্যকারী বৈশিষ্ট্য মাইটোসিস (X) মিয়োসিস (Y)
১. যে ধরনের কোষে হয় হ্যাপ্লয়েড কোষে হয়ে থাকে। কখনো হ্যাপ্লয়েড কোষে হয় না।
২. অপত্য কোষের সংখ্যা মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে দুটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে। মাতৃকোষের নিউক্লিয়াসটি বিভাজিত হয়ে চারটি অপত্য কোষের সৃষ্টি করে।
৩. নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোমের বিভাজন নিউক্লিয়াস ও ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়। নিউক্লিয়াস দুইবার এবং ক্রোমোজোম একবার বিভক্ত হয়।
৪. ক্রোমোজোমের সংখ্যা অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের সমান থাকে। অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের অর্ধেক থাকে।
৫. ক্রসিংওভার ঘটে না। ঘটে।
৬. বিবর্তন বিবর্তনে মাইটোসিসের কোনো ভূমিকা নেই। ক্রসিংওভারের মাধ্যমে বিবর্তনের পথ সুগম করে।
৭. গুণাগুণ অপত্য কোষের গুণাগুণ মাতৃকোষের ক্রোমোজোমের সমগুণ সম্পন্ন হয়। অপত্য কোষের ক্রোমোজোমে মাতৃকোষের ক্রোমোজোম থেকে ভিন্ন গুণ সম্পন্ন হয়।
প্রয়োগ (v) উদ্দীপকের চিত্রে 'X' বিভাজন প্রক্রিয়ায় ক্যারিওকাইনেসিস ধাপের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি মাইটোসিস। মাইটোসিসে ক্যারিওকাইনেসিস হলো নিউক্লিয়াসের বিভাজন পর্যায়। নিচে মাইটোসিসের প্রোফেজ থেকে টেলোফেজ পর্যন্ত ক্যারিওকাইনেসিসের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো—
প্রোফেজ মেটাফেজ অ্যানাফেজ টেলোফেজ চিত্র: মাইটোসিসের ক্যারিওকাইনেসিস পর্যায়সমূহ
উচ্চতর দক্ষতা (vi) 'Y' বিভাজন প্রক্রিয়াটি প্রজাতির বৈচিত্র্যতা সৃষ্টি করে— বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস কোষ বিভাজন। মিয়োসিস কোষ বিভাজন জীবজগতে প্রজাতির বৈচিত্র্যতা রক্ষা করে।

মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি ডিপ্লয়েড (2n) মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষ সৃষ্টি হয়। এভাবে সৃষ্ট দুটি হ্যাপ্লয়েড পুং জনন কোষ ও স্ত্রী জনন কোষ মিলিত হয়ে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট গঠিত হয়। ফলে প্রজাতির ধারা অক্ষুণ্ণ থাকে।

জীবজগতে প্রজাতিগত বৈচিত্র্যের মূল কারণ হলো ক্রোমোজোমের ভিন্নতা। জীবজগতে প্রজাতিগত বৈচিত্র্য বজায় রাখা মিয়োসিসের গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। কোনো প্রজাতির টিকে থাকা বা না থাকা মূলত নির্ভর করে তার সদস্য জীবদের মধ্যে কতটা বৈচিত্র্য আছে, তার উপর। পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। সেইসব প্রজাতি টিকে থাকে, যাদের অন্তত কিছু সদস্যের মধ্যে সেই পরিবর্তিত পরিবেশের সাথে খাপ-খাইয়ে নেওয়ার মতো বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

মিয়োসিসের ক্রসিংওভারের মাধ্যমে ক্রোমোজোমে নতুন জিনের সমন্বয় ঘটে, যা জীবদেহে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি করে। এভাবে মিয়োসিস প্রজাতির বৈচিত্র্য সৃষ্টিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
উচ্চতর দক্ষতা (vii) জীবের ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মিয়োসিস। জীবের ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় মিয়োসিস অর্থাৎ 'Y' অংশের ভূমিকাই মুখ্য।

উচ্চশ্রেণির উদ্ভিদে মিয়োসিসের ফলে একটি জনন মাতৃকোষ হতে চারটি জনন কোষের সৃষ্টি হয়, ফলে সৃষ্ট চারটি কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার অর্ধেক হয়। দুটি জননকোষ, তথা পুংজননকোষ ও স্ত্রী জননকোষ একত্রে মিলিত হয়ে একট জাইগোট সৃষ্টি করে। পরে জাইগোটটি মাইটোটিক বিভাজনের মাধ্যমে একটি জীব সৃষ্টি করে, এরপটি বারবার বিভাজনের মাধ্যমে একটি বহুকোষী জীবের সৃষ্টি করে। কাজেই মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে উচ্চশ্রেণির জননকোষগুলোতে ক্রোমোজোম সংখ্যা কমে জনন মাতৃকোষের অর্ধেক না হলে, জননকোষ দুটির মিলনে সৃষ্ট জীবে ক্রোমোজোম সংখ্যা দিগুণ হবে।

যেহেতু ক্রোমোজোমই জীবের লক্ষণ নির্ধারণকারী জিন বহন করে, সেহেতু ক্রোমোজোম সংখ্যা দিগুণ হলে পরবর্তী বংশধর তথা সন্তানের বৈশিষ্ট্য পিতা-মাতা থেকে ভিন্ন হবে, যা জীবের রক্ষণ করে। ডিপ্লয়েড জীবে গ্যামিট সৃষ্টিকালে জনন মাতৃকোষে এবং হ্যাপ্লয়েড জীবের ডিপ্লয়েড জাইগোটে (2n) সৃষ্টি হয় যা ডিপ্লয়েডিকে ধরে রাখে। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে জীবদেহের ক্রোমোসোম সংখ্যা ধ্রুব রেখে জীব প্রজাতির স্বাতন্ত্র্যতা বজায় রাখে।

সুতরাং উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় ক্রোমোজোমের সমতা রক্ষায় মিয়োসিস কোষ বিভাজন মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
উচ্চতর দক্ষতা (viii) 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি অনিয়ন্ত্রিত হলে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে? বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়াটি হলো মাইটোসিস। মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া সঠিকভাবে না ঘটলে জীবদেহে যে ধরনের সমস্যা হতে পারে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো—

মাইটোসিস কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ায় একটি থেকে দুটি, দুটি থেকে চারটি এভাবে কোষ সংখ্যা বাড়তে থাকে। এভাবে কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রিতভাবে চলতে থাকে। কিন্তু কোনো কারণে এ বিভাজন প্রক্রিয়া নষ্ট হয়ে গেলে অস্বাভাবিকভাবে কোষ বিভাজন চলতে থাকে। এরূপ বিভাজনের ফলে ক্যান্সার বা টিউমার কোষের সৃষ্টি হয়। আর ক্যান্সার হলো জীবনের শেষ পরিণতি, যা মানুষকে নিশ্চিত মৃত্যুমুখে ঠেলে দেয়। বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু, রাসায়নিক পদার্থ কিংবা তেজস্ক্রিয়তা কোষ সৃষ্টিতে কোষের সহায়তা করে। আবার, হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের কারণেও ক্যান্সারের সৃষ্টি হয়। আবার, ই৬ ও ই৭ নামের দুটি জিন এমন কিছু প্রোটিন সৃষ্টি করে যা কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ প্রোটিনসমূহের স্থানচ্যুত করে। এর ফলে কোষ বিভাজনের নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় টিউমার। অনেক সময় এ দুটি জিন পোষক কোষের জিনের সাথে একীভূত হয়ে যায় এবং কোষের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণকারী প্রোটিনগুলোর কাজ বন্ধ করে দেয়। ফলে সৃষ্টি হয় ক্যান্সার কোষ কিংবা ক্যান্সার।

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, যদি উদ্দীপকে উল্লেখিত কোষ বিভাজন প্রক্রিয়া অর্থাৎ মাইটোসিস প্রক্রিয়াটি অনিয়ন্ত্রিত হয় তাহলে মানবজাতির জন্য তা অত্যাধিক বিপজ্জনক হবে।
উচ্চতর দক্ষতা (ix) জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় 'X' ও 'Y' কোষ বিভাজন প্রক্রিয়ার মধ্যে কোনটি অধিক ভূমিকা রাখে— বিশ্লেষণ করো।
উদ্দীপকে 'X' কোষ বিভাজন হলো মাইটোসিস এবং 'Y' কোষ বিভাজন হলো মিয়োসিস। জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় 'X' তথা মাইটোসিস বিভাজন অধিক ভূমিকা রাখে।

বিশ্লেষণ:

জীবদেহে মাইটোসিস কোষ বিভাজনের প্রক্রিয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। মাইটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বিভাজনের কারণে প্রতিটি কোষের নিউক্লিয়াস এবং সাইটোপ্লাজমের মধ্যকার আয়তন ও পরিমাণগত ভারসাম্য রক্ষিত হয়। এর ফলে বহুকোষী জীবের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। বহুকোষী জীব জাইগোট নামক একটি কোষ থেকে জীবন শুরু করে। এই একটি কোষটি বারবার মাইটোসিস বিভাজনের ফলে অসংখ্য কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে পূর্ণ জীবে পরিণত হয়।

মাইটোসিসে তৈরি অপত্য কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা ও গুণাগুণ একই রকম থাকায় জীবের দেহের বৃদ্ধি সুশৃঙ্খলভাবে হতে পারে। মাইটোসিসের ফলে অঙ্গজ প্রজনন সাধিত হয় এবং জননকোষের সংখ্যাবৃদ্ধিতে মাইটোসিস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ক্ষতস্থানে নতুন কোষ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবদেহের ক্ষতস্থান পূরণ করতে মাইটোসিস অপরিহার্য। কিছু কিছু জীবকোষ আছে যাদের আয়ুষ্কাল নির্দিষ্ট। এসব কোষ বিনষ্ট হলে মাইটোসিসের মাধ্যমে এদের পূরণ ঘটে। মাইটোসিসের ফলে একই ধরনের কোষের উৎপত্তি হওয়ায় জীবজগতের গুণগত বৈশিষ্ট্যের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

অন্যদিকে, মিয়োসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভিদ ও প্রাণির ডিপ্লয়েড (2n) জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) জননকোষ সৃষ্টি করে। জননকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যা কম জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয়। আবার যখন দুটি হ্যাপ্লয়েড জননকোষের মিলন ঘটে তখন জাইগোট (2n) সৃষ্টি হয় যা ডিপ্লয়েডিটি ধরে রাখে। এভাবে মিয়োসিস কোষ বিভাজন প্রত্যক্ষভাবে জীবদেহের ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রেখে জীব প্রজাতির স্বাতন্ত্র্যতা বজায় রাখে।

উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, জীবের গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিয়োসিস ও মাইটোসিসের মধ্যে মাইটোসিস অধিক ভূমিকা রাখে।
📖 শব্দকোষ (Vocabulary)
কোষ বিভাজন
Cell Division
যে প্রক্রিয়ায় জীবের বৃদ্ধি ও জননের উদ্দেশ্যে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে।
মাইটোসিস
Mitosis
১ মাতৃকোষ → ২ অপত্য কোষ (ক্রোমোজোম সংখ্যা সমান)। সমীকরণিক বিভাজন।
মিয়োসিস
Meiosis
১ মাতৃকোষ → ৪ অপত্য কোষ (ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক)। হ্রাসমূলক বিভাজন।
ক্যারিওকাইনেসিস
Karyokinesis
কোষ বিভাজনের সময় নিউক্লিয়াসের বিভাজন প্রক্রিয়া।
সাইটোকাইনেসিস
Cytokinesis
কোষ বিভাজনের সময় সাইটোপ্লাজমের বিভাজন প্রক্রিয়া।
ইন্টারফেজ
Interphase
কোষ বিভাজনের আগের প্রস্তুতিকালীন পর্যায়। DNA অনুলিপন হয় এ সময়।
স্পিন্ডল যন্ত্র
Spindle Apparatus
প্রো-মেটাফেজে তৈরি মাকু-আকৃতির তন্তুর সমষ্টি যা ক্রোমোজোমকে মেরুতে টানে।
আকর্ষণ তন্তু
Traction Fibre
স্পিন্ডল যন্ত্রের যেসব তন্তু ক্রোমোজোমের সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে যুক্ত থাকে।
ক্যান্সার
Cancer
অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিসের ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী টিউমার।
জাইগোট
Zygote
মাতৃ ও পিতৃ জনন কোষ মিলিত হয়ে যে কোষ তৈরি হয়। ক্রোমোজোম = 2n।
ক্রসিংওভার
Crossing Over
মিয়োসিসে হোমোলোগাস ক্রোমোজোমের মধ্যে জিন বিনিময়। বৈচিত্র্যের কারণ।
সেন্ট্রোমিয়ার
Centromere
ক্রোমোজোমের সংকোচিত অংশ যেখানে দুটি ক্রোমাটিড যুক্ত থাকে এবং স্পিন্ডল যুক্ত হয়।
⚡ Quick Revision — সব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একনজরে
  • কোষ বিভাজন = কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া (বৃদ্ধি ও জননের জন্য)
  • মাইটোসিস: 2n → 2টি কোষ (2n) | সমীকরণিক | দেহকোষে হয়
  • মিয়োসিস: 2n → 4টি কোষ (n) | হ্রাসমূলক | জননকোষে হয়
  • ক্যারিওকাইনেসিস = নিউক্লিয়াসের বিভাজন
  • সাইটোকাইনেসিস = সাইটোপ্লাজমের বিভাজন
  • ইন্টারফেজ = বিভাজনের আগে প্রস্তুতি পর্যায়
  • মাইটোসিসের ধাপ: প্রোফেজ → প্রো-মেটাফেজ → মেটাফেজ → অ্যানাফেজ → টেলোফেজ
  • মেটাফেজে ক্রোমোজোম সবচেয়ে মোটা ও খাটো হয়
  • অ্যানাফেজে ক্রোমোজোম মেরুমুখী হয়
  • স্পিন্ডল যন্ত্র = প্রো-মেটাফেজে তৈরি, ক্রোমোজোম টেনে নিয়ে যায়
  • আকর্ষণ তন্তু = সেন্ট্রোমিয়ারের সাথে যুক্ত স্পিন্ডল তন্তু
  • অনিয়ন্ত্রিত মাইটোসিস → টিউমার → প্রাণঘাতী = ক্যান্সার
  • মিয়োসিসের গুরুত্ব: ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখে, বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে (ক্রসিংওভার)
  • জাইগোট = ডিম্বাণু (n) + শুক্রাণু (n) = 2n
  • গুণগত স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাইটোসিস > মিয়োসিস
  • ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুব রাখতে মিয়োসিস মুখ্য ভূমিকা পালন করে