✍ Lecture by Leon Vai
Fictus Academy
🎓 Fictus Academy — SSC Biology
অধ্যায় ০৪ | Chapter 04
জীবনীশক্তি
Bioenergetics
শ্রেণি: নবম-দশম | বিষয়: জীববিজ্ঞান | সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর শিট
📋 সম্পূর্ণ প্রশ্নোত্তর শিট ✅ জ্ঞান + অনুধাবন + প্রয়োগ + উচ্চতর 🏆 পরীক্ষায় সরাসরি লেখার উপযোগী
📚 বিষয়সূচি (Table of Contents)
  1. Concept 4.1 — জীবনীশক্তি ও ATP এর ভূমিকা (জ্ঞানমূলক)
  2. Concept 4.2 — সালোকসংশ্লেষণ (জ্ঞানমূলক)
  3. Concept 4.3 — শ্বসন (জ্ঞানমূলক)
  4. Concept 4.1 — জীবনীশক্তি ও ATP (অনুধাবনমূলক)
  5. Concept 4.2 — সালোকসংশ্লেষণ (অনুধাবনমূলক)
  6. Concept 4.3 — শ্বসন (অনুধাবনমূলক)
  7. Comprehensive Question 1 — সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন সম্পর্কিত
  8. Comprehensive Question 2 — সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন সম্পর্কিত
  9. Quick Revision
📖 জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর (Short Answer — ১ নম্বর)
🔷 Concept 4.1 : জীবনীশক্তি ও ATP এর ভূমিকা
জীবনীশক্তি কী? [হ.বো.'২৪; সি.বো.'১৯]
উত্তর: সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে প্রথমে ATP ও NADPH নামক জৈব যৌগে আবদ্ধ করে। এই আবদ্ধ শক্তিকেই জীবনীশক্তি বলে।
📌 সংজ্ঞা
সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে সৌরশক্তি যখন ATP ও NADPH-এর মধ্যে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে সঞ্চিত হয়, তখন সেই শক্তিকে জীবনীশক্তি (Bioenergy) বলে।
অ্যাডিনোসিন কী? [য.বো.'২৪]
উত্তর: নাইট্রোজেন বেস অ্যাডেনিনের সাথে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ সুগার অণু যুক্ত হয়ে তৈরি করে অ্যাডিনোসিন
AMP এর পূর্ণরূপ কী? [কু.বো.'১৯]
উত্তর: AMP এর পূর্ণরূপ হলো — Adenosine Mono Phosphate
ATP কী? অথবা, ATP কাকে বলে? [চ., য.বো.'২১; র.বো.'১৬]
উত্তর: ATP হলো — Adenosine Triphosphate। এটি প্রয়োজন হলে শক্তি নির্গত করে এবং অন্য সময় শক্তি সঞ্চিত করে রাখে।
📌 ATP এর গঠন
অ্যাডিনোসিন + ৩টি ফসফেট গ্রুপ = ATP (Adenosine Triphosphate)
জৈব মুদ্রা কী? [চ.বো.'২৮,'২৮; কু.বো.'২৩; ম.বো.'২৩; ব.বো.'২৩,'১৯,'১৭; রা.বো.'২১; দি.বো.'১৯; সম্মিলিত বো.'১৮; দি.বো.'১৭]
উত্তর: ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে। এজন্য ATP-কে শক্তিমুদ্রা বা জৈবমুদ্রা বলা হয়।
✅ মনে রাখো
ATP = জীবের শক্তির "টাকা" বা মুদ্রা। যখন দরকার ভাঙো, যখন দরকার নেই জমিয়ে রাখো — ঠিক ব্যাংকের মতো!
🔷 Concept 4.2 : সালোকসংশ্লেষণ
পাতার কোন অংশে সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি? [সি.বো.'১৭]
উত্তর: পাতার মেসোফিল টিস্যুতে সালোকসংশ্লেষণের হার সবচেয়ে বেশি।
সবাত শ্বসন কাকে বলে? [দি.বো.'১৭; কু.বো.'১৬]
উত্তর: যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে হয়, তাই হলো সবাত শ্বসন
সালোকসংশ্লেষণ কী? [দি.বো.'২৩; ঢা.বো.'২১]
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় সবুজ উদ্ভিদ সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও পানি থেকে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে তাকে সালোকসংশ্লেষণ বলে।
6CO₂ + 12H₂O —আলো/ক্লোরোফিল→ C₆H₁₂O₆ + 6H₂O + 6O₂
ফটোলাইসিস কাকে বলে? অথবা, পানির ফটোলাইসিস কী? [ব.বো.'২৫; সি.বো.'২৪,'২১,'২০; কু.বো.'২২; চ.বো., য.বো.'১৭]
উত্তর: সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিভাজিত হয়ে অক্সিজেন (O₂), ইলেকট্রন (e⁻) এবং হাইড্রোজেন (H⁺) উৎপন্ন করে। আলোর উপস্থিতিতে পানির এই বিভাজনকে বলা হয় ফটোলাইসিস
১০ ফটোফসফোরাইলেশন কী? [দি.বো.'২৪; য.বো.'২৩; ঢা.বো.'১৯; কু.বো.'১৭]
উত্তর: সালোকসংশ্লেষণের সময় ADP অজৈব ফসফেট-এর সাথে মিলিত হয়ে সূর্যালোকের সাহায্যে ATP তে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়াকে ফটোফসফোরাইলেশন বলে।
ADP + Pi —আলো/ক্লোরোফিল→ ATP
১১ গার্ড সেল কী? [য.বো.'২১]
উত্তর: গার্ড সেল হলো পত্ররন্ধ্রের দুই পাশে অবস্থিত দুটি অর্ধচন্দ্রাকৃতির কোষ যারা পত্ররন্ধ্রকে বেষ্টন (গার্ড) করে রাখে।
১২ আত্তীকরণ শক্তি কী? [ঢা.বো.'১৯]
উত্তর: ফটোফসফোরাইলেশন প্রক্রিয়ায় ATP উৎপন্ন হয় এবং ইলেকট্রন NADP-কে বিজারিত করে NADPH + H⁺ উৎপন্ন করে। এই ATP এবং NADPH + H⁺-কে আত্তীকরণ শক্তি বলা হয়।
১৩ NAPD এর পূর্ণ রূপ লিখ।
উত্তর: NAPD এর পূর্ণ রূপ হলো: Nicotinamide Adenine Dinucleotide Phosphate
১৪ পানির সালোক বিভাজন কী?
উত্তর: যে প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিয়োজিত হয়ে অক্সিজেন, হাইড্রোজেন ও ইলেকট্রন উৎপন্ন করে তাকে পানির সালোক বিভাজন বলে।
১৫ C₃ উদ্ভিদ কী? [য.বো., চ.বো.'২২; য.বো.'২১]
উত্তর: যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র সংঘটিত হয় তাকে C₃ উদ্ভিদ বলা হয়। C₃ চক্রে প্রথম স্থায়ী পদার্থ তিন কার্বন বিশিষ্ট ফসফোগ্লিসারিক এসিড। সাধারণত দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ C₃ উদ্ভিদ নামে পরিচিত।
১৬ C₄ গতিপথ কাকে বলে? [সি.বো.'২৩]
উত্তর: CO₂ বিজারণের যে গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এ্যাসিটিক এসিড, তাকে C₄ গতিপথ বলে।
১৭ C₄ উদ্ভিদ কী?
উত্তর: যেসব উদ্ভিদে C₄ চক্র সংঘটিত হয় তাদেরকে বলা হয় C₄ উদ্ভিদ
🔷 Concept 4.3 : শ্বসন
১৮ পাইরুভিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত লিখ। [সি.বো.'২২]
উত্তর: পাইরুভিক এসিডের রাসায়নিক সংকেত হলো: C₃H₄O₃
১৯ শ্বসনিক বস্তু কী? [ঢা.বো.'২৩,'২১; সি.বো.'২২; কু.বো.'২১]
উত্তর: শ্বসন প্রক্রিয়ায় যে সব বস্তু জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে তাদেরকে শ্বসনিক বস্তু বলে। যেমন — শর্করা, প্রোটিন, লিপিড এবং জৈব এসিড ইত্যাদি।
২০ শ্বসন কী? অথবা, শ্বসন কাকে বলে? [ম.বো.'২২; ব.বো.'২১; য., চ.বো.'১৯]
উত্তর: যে জৈবিক প্রক্রিয়া প্রাণীদেহের খাদ্যবস্তুকে বায়ুর অক্সিজেনের সাথে জারিত করে মজুদ শক্তিকে ব্যবহার যোগ্য শক্তিতে রূপান্তর করে এবং কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃশ্বাস করে, তাকে শ্বসন বলে।
২১ গ্লাইকোলাইসিস কী? [য.বো.'২২; সি.বো.'১৫]
উত্তর: সবাত শ্বসনের যে ধাপে এক অণু গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিড (C₃H₄O₃) উৎপন্ন করে তাকে গ্লাইকোলাইসিস বলে।
২২ অবাত শ্বসন কাকে বলে? অথবা, অবাত শ্বসন কী? [য.বো.'২০; সি.বো.'১৫]
উত্তর: যে শ্বসন প্রক্রিয়া অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে হয় তাকে অবাত শ্বসন বলে।
২৩ গ্লাইকোলাইসিস কোথায় ঘটে? [য.বো.'১৫]
উত্তর: গ্লাইকোলাইসিস সাইটোপ্লাজমে সম্পন্ন হয়।
২৪ FADH₂ এর পূর্ণরূপ লেখ।
উত্তর: FADH₂ এর পূর্ণরূপ হলো — Reduced Flavin Adenine Dinucleotide
🧠 অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর — খ-অংশ (২ নম্বর)
🔷 Concept 4.1 : জীবনীশক্তি ও ATP এর ভূমিকা
অনু-১ জীব কোষে শক্তি সঞ্চয় ও শক্তি নির্মোচন চক্রাকারে চলে — ব্যাখ্যা করো। [ব. বো.'২২]
উত্তর: সকল জীবকোষে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। এসব ক্রিয়া-বিক্রিয়ার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। এই শক্তির উৎস হিসেবে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, লিপিড ইত্যাদি জটিল খাদ্যদ্রব্য ভেঙে সরল দ্রব্যে পরিণত হয় এবং শক্তি নির্গত হয়।
💡 চক্রাকার প্রবাহ
এই নির্গত শক্তি ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে ATP তৈরি করে সঞ্চিত হয়। পরবর্তীতে শক্তির প্রয়োজন হলে ATP ভেঙে আবার খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে জোড়া লাগে। এটি একটি রিচার্জেবল ব্যাটারির মতো। এভাবে চক্রাকারে জীব কোষে শক্তি সঞ্চয় ও শক্তি নির্মোচন চলে।
তাই বলা যায়, জীব কোষে শক্তি সঞ্চয় ও শক্তি নির্মোচন চক্রাকারে চলে।
অনু-২ ডিফসফোরাইলেশন কী? ব্যাখ্যা করো। অথবা, কীভাবে ADP সৃষ্টি হয়? ব্যাখ্যা করো। [রা.বো.'২৫; রা.বো.'২৩]
উত্তর: DNA এবং RNA এর গাঠনিক উপাদানগুলোর একটি হলো অ্যাডেনিন। এটি একটি নাইট্রোজেন বেস। এর সাথে পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট রাইবোজ সুগার অণু যুক্ত হয়ে তৈরি হয় অ্যাডিনোসিন। অ্যাডিনোসিন অণুর সাথে পর্যায়ক্রমে দুটি ফসফেট/ফসফোরিক এসিড গ্রুপ যুক্ত হয়ে অ্যাডিনোসিন ডাইফসফেট (ADP) গঠন করে।
💡 ডিফসফোরাইলেশন
ATP-এর সাথে যুক্ত তৃতীয় ফসফেট গ্রুপটি বিচ্ছিন্ন হলে বাইরে থেকে শক্তি বেরিয়ে আসে এবং ADP তৈরি হয়। এই বিক্রিয়ার নাম ফসফোরাইলেশন (Phosphorylation)। আবার, ফসফেট গ্রুপ বিচ্ছিন্ন হলে শক্তি বের হয়ে আসে — এ প্রক্রিয়াকে ডিফসফোরাইলেশন বলে।
অনু-৩ ATP একটি জৈবশক্তি— কেন? অথবা, ATP-কে জৈবমুদ্রা বলা হয় কেন? অথবা, ATP কে রিচার্জেবল ব্যাটারি বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। অথবা, ATP রিচার্জেবল ব্যাটারির সাথে তুলনীয় কেন? ব্যাখ্যা করো। [য.বো.'২৪; য.বো.'২২; চ.বো.'২৩; কু.বো.'২২; সি.বো.'২০]
উত্তর: জীবন পরিচালনার জন্য জীবীদেহে প্রতিনিয়ত হাজারো রকমের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে। আমরা যে খাবার খাই তা থেকে যে সেই জারণ থেকে নির্গত শক্তি দ্বারা ফসফোরাইলেশনের মাধ্যমে ATP তৈরি হয়।
💡 কেন রিচার্জেবল ব্যাটারি?
  • শক্তির প্রয়োজন হলে ATP ভাঙে, শক্তি মুক্ত হয় (discharge)
  • পরে আবার খাদ্য থেকে শক্তি নিয়ে ATP পুনরায় তৈরি হয় (recharge)
  • ATP শক্তি জমা করে রাখে এবং প্রয়োজন অনুসারে অন্য বিক্রিয়ায় শক্তি সরবরাহ করে
এজন্য ATP-কে "জৈবমুদ্রা" (Biological coin) বা "শক্তিমুদ্রা" বলা হয়।
🔷 Concept 4.2 : সালোকসংশ্লেষণ
অনু-৪ শৈবাল কীভাবে খাদ্য উৎপাদন করে? [রা.বো.'২০]
উত্তর: শৈবাল একটি সবুজ উদ্ভিদ। সবুজ উদ্ভিদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো যে এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) এবং পানি (H₂O) থেকে ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে কার্বোহাইড্রেট বা শর্করাজাতীয় খাদ্য উৎপাদন করে।
6CO₂ + 12H₂O —আলো/ক্লোরোফিল→ C₆H₁₂O₆ + 6H₂O + 6O₂
তাই বলা যায়, শৈবাল সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য উৎপাদন করে।
অনু-৫ সালোকসংশ্লেষণকে কেন জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়া বলা হয়? ব্যাখ্যা করো। [কু.বো.'১৯]
উত্তর: সালোকসংশ্লেষণ একটি জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের উপস্থিতিতে CO₂ এবং H₂O পাতার ক্লোরোফিল এর উপস্থিতিতে বিক্রিয়া করে শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে।
💡 জারণ-বিজারণ কেন?
এ প্রক্রিয়ায় H₂O জারিত হয় এবং CO₂ বিজারিত হয়। এজন্য একে জারণ-বিজারণ প্রক্রিয়াও বলা হয়।
  • H₂O → জারণ (Oxidation) → O₂ মুক্ত হয়
  • CO₂ → বিজারণ (Reduction) → শর্করা তৈরি হয়
অনু-৬ স্থলজ উদ্ভিদের তুলনায় জলজ উদ্ভিদের সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি কেন? [রা.বো.'২২]
উত্তর: জলজ উদ্ভিদ পানিতে দ্রবীভূত CO₂ গ্রহণ করে। বায়ুমণ্ডলে 0.03% এবং পানিতে 0.3% CO₂ আছে। কাজেই জলজ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার স্থলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি।
✅ মূল কারণ
  • জলজ উদ্ভিদ থেকে বেশি শর্করা তৈরি করে
  • জলজ উদ্ভিদের কাও ও পাতার তুকে ক্লোরোফিল থাকায় পানির নিচে কম তাপমাত্রায় (10° C) ও কম CO₂ যুক্ত পরিবেশেও সালোকসংশ্লেষণ করতে পারে
  • অন্যদিকে বিকেলের দিকে পাতায় বেশি শর্করা জমা হলে সালোকসংশ্লেষণের গতি মন্থর হয়ে যায়
অনু-৭ আলোক পর্যায়ে পানি ভাজনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করো। [রা.বো.'২১]
উত্তর: সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিভাজিত হয়ে অক্সিজেন (O₂), হাইড্রোজেন আয়ন বা প্রোটন (H⁺) এবং ইলেকট্রন (e⁻) উৎপন্ন হয়।
💡 তাৎপর্য
  • উৎপন্ন ইলেকট্রন সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়
  • প্রোটন (H⁺) NADP-কে বিজারিত করে NADPH₂ (NADPH+H⁺) তে পরিণত করে
  • উৎপন্ন O₂ বায়ুমণ্ডলে মুক্ত হয় — যা সকল প্রাণীর শ্বাসের উৎস
অনু-৮ ফটোলাইসিস প্রক্রিয়া কী? ব্যাখ্যা করো। [ঢা.বো.'১৯]
উত্তর: সালোকসংশ্লেষণের আলোক পর্যায়ে সূর্যালোক ও ক্লোরোফিলের সহায়তায় পানি বিভাজিত হয়ে অক্সিজেন (O₂), হাইড্রোজেন (H₂) এবং ইলেকট্রন (e⁻) উৎপন্ন হয়। পানির এরূপ ভাজনকে ফটোলাইসিস বলে।
2H₂O —আলো→ 4H⁺ + 4e⁻ + O₂
উৎপন্ন ইলেকট্রন এবং হাইড্রোজেন NADP-কে বিজারিত করে NADPH₂ সৃষ্টি করে এবং অক্সিজেন অণু বায়ুতে চলে যায়। কাজেই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় যে O₂ নির্গত হয় তা ফটোলাইসিস প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন হয়।
অনু-৯ আলোকনির্ভর পর্যায় ও আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়ের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করো।
উত্তর: নিচে আলোকনির্ভর পর্যায় ও আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়ের পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
আলোক নির্ভর পর্যায় আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়
i. ক্লোরোপ্লাস্টের গ্রানার থাইলাকয়েড পদর্দায় ঘটে। i. ক্লোরোপ্লাস্টের স্ট্রোমার মধ্যে ঘটে।
ii. আলোক শক্তির প্রয়োজন হয়। ii. আলোক শক্তির প্রয়োজন হয় না।
iii. আলোক শক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়ে ATP ও NADPH₂ উৎপন্ন হয়। iii. CO₂ থেকে শর্করা উৎপন্ন হওয়ার জন্য ATP ও NADPH₂ থেকে শক্তি সরবরাহ হয়।
iv. এ অধ্যায়ে NADP বিজারিত হয়। iv. এ অধ্যায়ে বিজারিত NADP জারিত হয়।
অনু-১০ ক্যালভিন চক্রে C₃ গতিপথ কলা হয় কেন? [সি.বো.'২৩,'২২]
উত্তর: বিজ্ঞানী ক্যালভিন ও তার সহযোগীরা CO₂ আত্তীকরণের যে চক্রাকার গতিপথ আবিষ্কার করেন তা ক্যালভিন চক্র নামে পরিচিতি। অধিকাংশ উদ্ভিদ এই প্রক্রিয়ায় শর্করা তৈরি করে।
💡 C₃ কেন?
এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোগ্লিসারিক এসিড। প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বনবিশিষ্ট বলে এ চক্রকে C₃ চক্র বা গতিপথ বলা হয়।
অনু-১১ C₄ উদ্ভিদ বলতে কী বুঝায়? [কু.বো.'২৫; য., সি., দি.বো.'১৯; কু.বো.'১৬.য.বো.'১৫]
উত্তর: যে সমস্ত উদ্ভিদে C₄ চক্র ঘটে এবং প্রথম স্থায়ী উপাদান হিসেবে চার কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো আ্যাসিটিক এ্যাসিড উৎপন্ন হয়, তাদেরকে C₄ উদ্ভিদ বলে।
✅ C₄ উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য
  • C₄ উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়
  • C₃ উদ্ভিদের তুলনায় C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি
  • উদাহরণ: ভুট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, মুখা ঘাস, নেটে গাছ (Amaranthus)
অনু-১২ C₃ ও C₄ উদ্ভিদের মধ্যে দুটি পার্থক্য লিখ। [চ.বো.'২১]
উত্তর:
C₃ উদ্ভিদC₄ উদ্ভিদ
যে সকল উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র ঘটে এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ হিসেবে ৩-কার্বনবিশিষ্ট ফসফোগ্লিসারিক এসিড থাকে তাদেরকে C₃ উদ্ভিদ বলে। যে সমস্ত উদ্ভিদে C₄ চক্র ঘটে এবং প্রথম স্থায়ী উপাদান হিসেবে চার কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো এ্যাসিটিক এ্যাসিড উৎপন্ন হয়, তাদেরকে C₄ উদ্ভিদ বলে।
C₃ উদ্ভিদের তুলনায় C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি। C₄ উদ্ভিদের তুলনায় C₃ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার কম এবং উৎপাদন ক্ষমতাও কম।
অনু-১৩ C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। [য.বো.'২১]
উত্তর: যে সমস্ত উদ্ভিদে C₄ চক্র ঘটে এবং প্রথম স্থায়ী উপাদান হিসেবে চার কার্বন বিশিষ্ট অক্সালো এ্যাসিটিক এ্যাসিড উৎপন্ন হয়, তাদেরকে C₄ উদ্ভিদ বলে। C₄ উদ্ভিদে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হতে দেখা যায়।
💡 সালোকসংশ্লেষণ বেশি কেন?
এ কারণে C₃ উদ্ভিদের তুলনায় C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি। সাধারণত ভুট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, মুখা ঘাস, নেটে গাছ (Amaranthus) ইত্যাদি উদ্ভিদে C₄ পরিচালিত হয়।
অনু-১৪ মুখা গাসকে C₄ উদ্ভিদ বলা হয় কেন? [য.বো.'২৫; কু.বো.'১৯]
উত্তর: অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানী M.D. Hatch ও C.R. Slack, CO₂ বিজারণের একটি গতিপথ আবিষ্কার করেন। এই গতিপথের প্রথম স্থায়ী পদার্থ হলো ৪-কার্বনবিশিষ্ট অক্সালো এ্যাসিটিক এ্যাসিড তাই, একে C₄ গতিপথ বলে। মুখা ঘাসে একই সাথে হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্যালভিন চক্র পরিচালিত হয়। তাই মুখা ঘাসকে C₄ উদ্ভিদ বলা হয়।
অনু-১৫ আখ ও আম গাছের মধ্যে কার সালোকসংশ্লেষণ হার বেশি? ব্যাখ্যা করো। [য.বো.'২০]
উত্তর: C₃ উদ্ভিদের তুলনায় C₄ উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ হার বেশি এবং উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি। সাধারণত ভুট্টা, আখ, অন্যান্য ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ, মুখা ঘাস, নেটে গাছ (Amaranthus) ইত্যাদি উদ্ভিদে C₄ পরিচালিত হয়। যেহেতু আম গাছ C₃ উদ্ভিদ, সেহেতু আখ C₄ উদ্ভিদ হওয়ায় এর সালোকসংশ্লেষণ হার বেশি।
অনু-১৬ সালোকসংশ্লেষণের হার কীভাবে ক্লোরোপ্লাস্ট সৃষ্টির সাথে সম্পর্কিত? ব্যাখ্যা করো। [ম.বো.'২১]
উত্তর: পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণের সাথে সালোকসংশ্লেষণের হারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে, কারণ একমাত্র ক্লোরোফিলই আলোকশক্তি গ্রহণ করতে পারে।
💡 সম্পর্কের ব্যাখ্যা
  • পুরাতন ক্লোরোপ্লাস্ট নষ্ট হয়ে গেলে নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট সংশ্লিষ্ট হয়
  • নতুন ক্লোরোপ্লাস্ট এবং ক্লোরোপ্লাস্টের উৎপাদন সৃষ্টির হারের উপর সালোকসংশ্লেষণের হার নির্ভরশীল
  • সালোকসংশ্লেষণ ক্ষমতার জন্য ক্লোরা প্রদান করা বক্তা খুব বেশি পরিমাণ ক্লোরোফিল থাকলে এনজাইমের অভাব দেখা দেয় এবং সালোকসংশ্লেষণ কমে যায়
অনু-১৭ সব আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সমান হয় না — ব্যাখ্যা করো। [ম.বো.'২৪]
উত্তর: সব আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সমান হয় না। আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। সাধারণত 400nm থেকে 680nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।
অনু-১৮ সকালবেলা সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয় কেন? [চ.বো.'১৯]
উত্তর: একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
💡 সকালে বেশি কেন?
সকালের দিকে আলোর পরিমাণ দুপুরের তুলনায় কম থাকায় এবং এ সময় উদ্ভিদের পাতায় শর্কারার পরিমাণ কম থাকায় সকালবেলা সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।
অনু-১৯ দিনের বেলা বড় গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়া আরামদায়ক কেন? [য.বো.'২৩]
উত্তর: দিনের বেলা বড় গাছের নিচে বিশ্রাম নেওয়া আরামদায়ক, কারণ দিনের বেলায় উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চলতে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ শর্করাজাতীয় খাদ্য তৈরি করে এবং উপজাত দ্রব্য হিসেবে মুক্ত হয় O₂। ফলে পরিবেশ ঠান্ডা থাকে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া আরামদায়ক হয়।
অনু-২০ বিকেল বেলা উদ্ভিদে সালোকসংশ্লেষণের হার কমে যায় কেন? অথবা, বিকেলে সালোকসংশ্লেষণের হার মন্থর হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো। [দি.বো.'২২; ম.বো.'২৩]
উত্তর: সালোকসংশ্লেষণের অন্যতম প্রভাবক হলো সূর্যালোক ও তাপমাত্রা। সূর্যালোক ও তাপমাত্রার পরিমাণ কমে গেলে, সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। বিকেল বেলা পৃথিবীতে আলোর ঘনত্ব ও তাপমাত্রা উভয়ই কমে যায়। এছাড়াও পাতায় বেশি শর্করা জমা হয় বলে বিকেল বেলা সালোকসংশ্লেষণের হার মন্থর হয়।
🔗 একই ধরনের প্রশ্ন
অনু-২১ তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক — ব্যাখ্যা করো। [য.বো., দি.বো.'২১]
উত্তর: সাধারণত অতি নিম্ন তাপমাত্রায় (0° সে. এর কাছাকাছি) এবং অতি উচ্চ তাপমাত্রায় (45° সে.) সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া চলতে পারে না। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হলো 22° সে. থেকে 35° সে. পর্যন্ত। তাপমাত্রা 22° সে.-এর কম বা 35° সে. এর বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণ হার কমে যায়। তাই তাপমাত্রা সালোকসংশ্লেষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক।
অনু-২২ বাতাসে মিথেনের প্রভাবে গ্লুকোজ উৎপন্নে ব্যাঘাত ঘটে কেন? ব্যাখ্যা করো। [কু.বো.'২৩]
উত্তর: বাতাসে মিথেনসহ বেশ কিছু দূষণ পদার্থ থাকলে সালোকসংশ্লেষণে ব্যাঘাত ঘটে বা একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। কারণ এরা উদ্ভিদের আলোক নির্ভর ও অন্ধকার পর্যায়ের বিভিন্ন বিক্রিয়া বাধা সৃষ্টি করে। আর এজন্যই বাতাসে মিথেনের প্রভাবে গ্লুকোজ উৎপন্নে ব্যাঘাত ঘটে।
অনু-২৩ উদ্ভিদের পাতার বয়সের প্রভাব ব্যাখ্যা করো। অথবা, মধ্যবয়সী পাতায় সালোকসংশ্লেষণ বেশি ঘটে কেন? [কু.বো.'২০; দি.বো.'২৩]
উত্তর: কচি পাতা এবং বয়স্ক পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ কম থাকে বলে সালোকসংশ্লেষণ কম হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ক্লোরোপ্লাস্টের সংখ্যাও বেশি হয়। মধ্যবয়সী পাতায় সবচেয়ে বেশি সালোকসংশ্লেষণ ঘটে। পাতার সংখ্যা বেশি হলে সালোকসংশ্লেষণ বেশি হয়।
অনু-২৪ নতুন সূচ পাতাতে সালোকসংশ্লেষণের হার কীর্ণ, ব্যাখ্যা দাও। [সম্মিলিত বো.'১৮]
উত্তর: নতুন সূচ পাতাতে সালোকসংশ্লেষণের হার কম হয়। কারণ কচি পাতায় ক্লোরোফিলের পরিমাণ কম থাকে তাই সালোকসংশ্লেষণও কম হয়। গ্লাস্টিডে অবস্থিত ক্লোরোফিলের গ্রানা অংশ সূর্যালোককে আবদ্ধ করে আলোক শক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এই আবদ্ধ সৌরশক্তি স্ট্রোমায় অবস্থিত উৎসেচক সমিতি বায়ু থেকে CO₂ ও কোষষ্য পানি থেকে সরল শর্করা তৈরি করে। তাই গ্লাস্টিডে ক্লোরোফিলের পরিমাণ কম হলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়।
🔷 Concept 4.3 : শ্বসন (অনুধাবনমূলক)
অনু-২৫ মূলে শ্বসনক্রিয়ার হার বেশি কেন? [হু.বো.'২৪]
উত্তর: উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলে (ফুল ও পাতার কুঁড়ি, অঙ্কুরিত বীজ, ফল ও কাণ্ডের অগ্রভাগ) শ্বসন ক্রিয়ার হার অনেক বেশি। উদ্ভিদের বর্ধিষ্ণু অঞ্চলগুলোতে বৃদ্ধি বেশি হয় এবং নতুন কোষ তৈরি হয়। নতুন কোষ তৈরি হওয়ার ফলে এখানে বিপাকীয় ক্রিয়া বেশি হয়। ফলে Metabolism rate ও বেড়ে যায়। এখানে বেশি শক্তির প্রয়োজন পড়ে বলে শ্বসন হারও বেশি হয়। এ কারণেই মূলে শ্বসন ক্রিয়ার হার বেশি।
অনু-২৬ সবাত শ্বসনে O₂ এর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য কেন? [চ.বো.'২৪]
উত্তর: যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু (শর্করা, প্রোটিন, লিপিড, বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড) সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO₂, H₂O এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে সবাত শ্বসন বলে।
💡 O₂ কেন অপরিহার্য?
সবাত শ্বসনে O₂ এর প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য কারণ এই প্রক্রিয়ায় জৈব যৌগের জারনের ফলে উৎপন্ন ইলেকট্রন অক্সিজেন পরমাণু গ্রহণ করে অক্সিজেন গ্যাস উৎপন্ন করে। অর্থাৎ, সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন অপরিহার্য।
অনু-২৭ অণুজীবে অবাত শ্বসন ঘটে কেন? [ঢা.বো.'২৩]
উত্তর: যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় কোনো শ্বসনিক বস্তু অক্সিজেনের সাহায্য ছাড়াই কোষের ভিতরকার এনজাইম দিয়ে আংশিকরূপে জারিত হয়ে বিভিন্ন প্রকার জৈব যৌগ, CO₂ এবং সামান্য পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে তাকে অবাত শ্বসন বলে।
💡 অণুজীবে কেন?
কেবল মাত্র কিছু অণুজীবে যেমন ব্যাকটেরিয়া, ইস্ট ইত্যাদিতে অবাত শ্বসন হয়ে থাকে। কেননা, কিছু কিছু অণুজীব অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। তাই এদের শক্তি উৎপাদনের একমাত্র উপায় হলো অবাত শ্বসন।
অনু-২৮ গ্লাইকোলাইসিস বলতে কী বুঝায়? [কু.বো.'২১; ঢা.বো., রা.বো., চ.বো.'১৫]
উত্তর: এই প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিড (C₃H₄O₃) উৎপন্ন করে। এই ধাপে চার অণু ATP (দুই অণু খরচ হয়ে যায়) এবং দুই অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়।
✅ গ্লাইকোলাইসিস মনে রাখো
  • এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে না
  • তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনের প্রথম পর্যায়
  • গ্লাইকোলাইসিসের বিক্রিয়াগুলো কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে
অনু-২৯ গ্লাইকোলাইসিস উভয় প্রকার শ্বসনের প্রথম পর্যায় কেন? অথবা, সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনের প্রথম পর্যায়— ব্যাখ্যা করো। [রা.বো.'২০; ম.বো.'২০]
উত্তর: গ্লাইকোলাইসিস প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিড (C₃H₄O₃) উৎপন্ন করে। এই ধাপে চার অণু ATP (এর মাঝে দুই অণু খরচ হয়ে যায়) এবং দুই অণু NADH+H⁺ উৎপন্ন হয়।
💡 উভয় প্রকারের প্রথম পর্যায় কেন?
এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় না, তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনেরই প্রথম পর্যায়।
অনু-৩০ অবাত শ্বসন অপেক্ষা সবাত শ্বসনে বেশি শক্তি তৈরি হয় কেন? [য.বো., দি.বো.'১৯]
উত্তর: অবাত শ্বসনের ক্ষেত্রে গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ ঘটে, যার ফলে গ্লাইকোলাইসিসে নিট ২ অণু ATP পাওয়া যায়। অপরদিকে সবাত শ্বসনের ক্ষেত্রে গ্লুকোজের সম্পূর্ণ জারণ ঘটে। যার ফলে গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-এ সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র ও ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রে নিট ৩৮ অণু ATP পাওয়া যায়। এ কারণে অবাত শ্বসন অপেক্ষা সবাত শ্বসনে বেশি শক্তি তৈরি হয়।
অনু-৩১ ব্যাকটেরিয়াতে সবাত শ্বসন হয় না কেন? [ঢা.বো.'২১]
উত্তর: যে শ্বসন প্রক্রিয়ায় অক্সিজেনের প্রয়োজন হয় এবং শ্বসনিক বস্তু (শর্করা, প্রোটিন, লিপিড, বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড) সম্পূর্ণভাবে জারিত হয়ে CO₂, H₂O এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করে, তাকে সবাত শ্বসন বলে। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। এদের শক্তি উৎপাদনের একমাত্র উপায় হলো অবাত শ্বসন। তাই ব্যাকটেরিয়াতে সবাত শ্বসন হয় না, অবাত শ্বসন হয়।
অনু-৩২ পাউরুটি ফাঁপা হয় কেন? [ম.বো.'২২]
উত্তর: পাউরুটি তৈরিতে ইস্টের ফার্মেন্টেশন তথা অবাত শ্বসনকে কাজে লাগানো হয়। ময়দা ও চিনির সাথে ইস্ট যোগ করে পাউরুটি তৈরি করা হয়। মিশ্রিত ইস্টের অবাত শ্বসনের ফলে আলকোহল ও CO₂ গ্যাস তৈরি হয়। CO₂ গ্যাস এর চাপে পাউরুটি ফুলে ফাঁপা হয় এবং আলকোহল তাপে বাষ্প হয়ে উড়ে যায়।
🏆 Comprehensive Questions (সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর)
এখন আমরা বোর্ড পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে আসছি — Comprehensive Questions। এগুলো বিগত SSC পরীক্ষার ৭২টি সৃজনশীল প্রশ্নকে সমন্বয় করে মাত্র ২টি Comprehensive Question এ পরিণত করা হয়েছে।
প্রশ্ন নং-১ | সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন সম্পর্কিত
📋 উদ্দীপক
P: C₆H₁₂O₆ + M —এনজাইম→ 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি
Q: 6CO₂ + 12H₂O' ——→ X + 6H₂O + 6O₂
[উপরের বিক্রিয়ায় A = আলো নির্ভর ধাপের মাধ্যমে; B = ক্লোরোফিল]
(i) উদ্দীপকের 'P' এ সংঘটিত প্রক্রিয়াটির সাইটোপ্লাজমিক ধাপ ব্যাখ্যা করো। (অনুধাবনমূলক) [য.বো.'২৫; দি.বো.'২২; সম্মিলিত বো.'১৮; অনুরূপ সি.বো.'২৪,'২১]
(ii) উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়ায় M এর অনুপস্থিতিতে প্রক্রিয়াটি কীভাবে সংঘটিত হয়? ব্যাখ্যা করো। (অনুধাবনমূলক) [দি.বো.'২৪; অনুরূপ চ.বো.'২৩,'২২,'২১; সি.বো.'২৩,'১৯; কু.বো.'২১; য.বো.'২১,'২০]
(iii) উদ্দীপকের 'Q' প্রক্রিয়ার A নির্ভর ধাপ বর্ণনা করো। (অনুধাবনমূলক) [য.বো.'২৪; অনুরূপ য.বো.'২২,'২১,'১৯; ম.বো.'২৩,'২২,'২১; ঢা.বো.'২১; দি.বো.'২১; কু.বো.'২১,'২০; চ.বো.'২০]
(iv) 'P' প্রক্রিয়ায় ATP উৎপন্ন হওয়ার প্রবাহচিত্র আঁকো। (অনুধাবনমূলক) [রা.বো.'২৩; অনুরূপ য.বো.'২৩; ঢা.বো.'২২]
(v) উদ্দীপকের 'P' ও 'Q' প্রক্রিয়া দুটির পার্থক্য উল্লেখ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক) [ম.বো.'২৪]
(vi) উদ্দীপিত 'P' প্রক্রিয়াটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক) [য.বো.'২৪; দি.বো.'২৪; অনুরূপ কু.বো.'২৪,'২১,'২০; য.বো.'২৩; ব.বো.'২২,'২১; ঢা.বো.'২১; দি.বো.'২১; ম.বো.'২১,'২০; সি.বো.'১৯]
📝 উত্তর
① উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়ার সাইটোপ্লাজমিক ধাপ (গ্লাইকোলাইসিস)
উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন। সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া চারটি ধাপে সম্পন্ন হয়। ধাপগুলো হলো: গ্লাইকোলাইসিস, অ্যাসিটাইল কো-A সৃষ্টি, ক্রেবস চক্র, ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র। এর মধ্যে ১ম ধাপটি অর্থাৎ গ্লাইকোলাইসিস কোষের সাইটোপ্লাজমে ঘটে থাকে। তাই এই ধাপে সাইটোপ্লাজমিক ধাপও বলে।
📌 গ্লাইকোলাইসিস (সাইটোপ্লাজমিক ধাপ)
সবাত শ্বসনের প্রথম ধাপ বা সাইটোপ্লাজমিক ধাপ হলো গ্লাইকোলাইসিস। এই প্রক্রিয়ায় এক অণু গ্লুকোজ (C₆H₁₂O₆) বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় জারিত হয়ে দুই অণু পাইরুভিক এসিড (C₃H₄O₃) উৎপন্ন করে। এই ধাপে চার অণু ATP (এর মাঝে দুই অণু খরচ হয়ে যায়) এবং দুই অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো অক্সিজেনের প্রয়োজন পড়ে না, তাই গ্লাইকোলাইসিস সবাত ও অবাত উভয় প্রকার শ্বসনেরই প্রথম পর্যায়।
⚠️ সবাত শ্বসনের সামগ্রিক সমীকরণ
C₆H₁₂O₆ + 6O₂ —এনজাইম→ 6CO₂ + 6H₂O + শক্তি
② 'P' প্রক্রিয়ায় M এর অনুপস্থিতিতে বিক্রিয়া (অবাত শ্বসন)
উদ্দীপকের 'P' বিক্রিয়াটি শ্বসনকে নির্দেশ করে। এখানে 'M' অর্থাৎ অক্সিজেন এর অনুপস্থিতিতে যে বিক্রিয়াটি সম্পন্ন হয় তাকে বলে অবাত শ্বসন। অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে বিক্রিয়াটি নিচেভাবে ঘটে—
C₆H₁₂O₆ —বিভিন্ন এনজাইম→ 2C₂H₅OH + 2CO₂ + শক্তি
এটি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়—
✅ ধাপ-১: গ্লুকোজের অসম্পূর্ণ জারণ
এই ধাপে এক অণু গ্লুকোজ বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় দুই অণু পাইরুভিক এ্যাসিড; চার অণু ATP (এর মধ্যে দুই অণু খরচ হয়ে যায়) ও দুই অণু NADH+H⁺ উৎপন্ন করে। এই ধাপে কোনো অক্সিজেন প্রয়োজন হয় না।
✅ ধাপ-২: পাইরুভিক এ্যাসিডের বিজারণ
সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত এনজাইমের কার্যকারিতায় পাইরুভিক এ্যাসিড বিজারিত হয়ে CO₂ এবং ইথাইল আলকোহল (উদ্ভিদে) অথবা ল্যাকটিক এ্যাসিড (প্রাণীতে) উৎপন্ন হয়। এ ধাপটি অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়।
③ উদ্দীপকের 'Q' প্রক্রিয়ার A নির্ভর ধাপ (আলোক নির্ভর পর্যায়)
উদ্দীপকের 'Q' প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া, যেখানে A অর্থাৎ আলো নির্ভর ধাপ হলো আলোকনির্ভর পর্যায়। নিচে আলোক নির্ভর পর্যায় অর্থাৎ আলো বা সৌরশক্তি নির্ভর প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হলো:
💡 আলোক নির্ভর পর্যায়
আলোক নির্ভর পর্যায়ের জন্য আলো অপরিহার্য। এই পর্যায়ে সৌরশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় ATP, NADPH এবং H⁺ এর সাহায্যে আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়ে CO₂ বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটে পরিণত হয়। সবুজ উদ্ভিদে CO₂ বিজারণের তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো হচ্ছে ক্যালভিন চক্র, হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্রেসুলেশিয়ান এসিড বিপাক। তবে অধিকাংশ উদ্ভিদই C₃ চক্রের মাধ্যমে শর্করা তথা গ্লুকোজ তৈরি করে।
ADP + Pi —আলো/ক্লোরোফিল→ ATP (ফটোফসফোরাইলেশন)

সূর্যালোক এবং ক্লোরোফিলের সাহায্যে পানি বিভাজিত হয়ে অক্সিজেন (O₂), হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ও ইলেকট্রন (e⁻) উৎপন্ন হয়। এই হাইড্রোজেন আয়ন (H⁺) ও ইলেকট্রনের সাহায্যে NADP বিজারিত হয়ে NADPH + H⁺ উৎপন্ন করে।

④ 'P' প্রক্রিয়ায় ATP উৎপন্ন হওয়ার প্রবাহচিত্র (সবাত শ্বসন)
উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়াটি হলো সবাত শ্বসন প্রক্রিয়ার। নিচে সবাত শ্বসনে ATP উৎপাদনের প্রবাহচিত্রটি ব্যাখ্যা করা হলো:
চিত্র: সবাত শ্বসনে ATP উৎপাদনের প্রবাহচিত্র
গ্লুকোজ গ্লাইকোলাইসিস ২ATP পাইরুভিক এসিড 4ATP, 2NADH পাইরুভিক এসিড 4ATP, 2NADH CO₂ ↑ অ্যাসিটাইল কো-এ NADH CO₂ ↑ অ্যাসিটাইল কো-এ NADH ক্রেবস চক্র 3NADH, FADH₂ GTP 2CO₂ ক্রেবস চক্র 3NADH, FADH₂ GTP 2CO₂ CO₂ + পানি + ৩৮ ATP + তাপশক্তি চিত্র: সবাত শ্বসন প্রক্রিয়া
⑤ 'P' ও 'Q' প্রক্রিয়ার পার্থক্য (শ্বসন vs সালোকসংশ্লেষণ)
সালোকসংশ্লেষণ (Q)শ্বসন (P)
১. সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় আলোকশক্তি রাসায়নিক স্থিতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। ১. শ্বসনে রাসায়নিক স্থিতি শক্তি গতি শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
২. সালোকসংশ্লেষণ সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে ঘটে। ২. শ্বসন দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই চলে।
৩. কেবলমাত্র ক্লোরোপ্লাস্টযুক্ত কোষেই ঘটে। ৩. সকল সজীব কোষে ঘটে।
৪. প্রধান কাঁচামাল পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড। ৪. প্রধান কাঁচামাল শর্করা।
৫. উৎপন্ন বস্তু শর্করা ও অক্সিজেন। ৫. শক্তি, পানি ও কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপন্ন হয়।
৬. ক্লোরোফিলযুক্ত উদ্ভিদে ঘটে। ৬. সকল উদ্ভিদ ও প্রাণীতে ঘটে।
৭. এ প্রক্রিয়ায় শক্তি সঞ্চিত থাকে। ৭. এ প্রক্রিয়ায় শক্তি নির্গত হয়।
⑥ 'P' প্রক্রিয়া (শ্বসন)-এর তাৎপর্য বিশ্লেষণ
উদ্দীপকের 'P' প্রক্রিয়াটি হলো শ্বসন যা উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয় জীবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিচে শ্বসনের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করা হলো—
💡 শ্বসনের তাৎপর্য
শ্বসন প্রক্রিয়ায় উৎপন্ন শক্তি দিয়ে জীবের সব ধরনের ক্রিয়া-বিক্রিয়া এবং কাজকর্ম পরিচালিত হয়। শ্বসনে নির্গত CO₂ জীবের প্রধান খাদ্য শর্করা উৎপাদনের জন্য সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত হয়। এ প্রক্রিয়া উদ্ভিদে খনিজ লবণ পরিশোষণে সাহায্য করে, যা পরোক্ষভাবে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং অন্যান্য জৈবিক প্রক্রিয়া চালু রাখে।

কোষ বিভাজনের প্রয়োজনীয় শক্তি ও কিছু আনুষঙ্গিক পদার্থ শ্বসন প্রক্রিয়া থেকে আসে। তাই বলা যেতে পারে এ প্রক্রিয়া জীবের দৈহিক বৃদ্ধির নিয়ন্ত্রণ করে। তাই শ্বসন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে উদ্ভিদে বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। উদ্ভিদদেহে খাদ্য তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন ডাইঅক্সাইড (CO₂) এর সরবরাহ কমে যাবে। উদ্ভিদের শারীরিক ব্যায়ায় কাজ ব্যাহত হওয়ায় একসময় উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও বিকাশ বাহত হবে। উদ্ভিদের কোষ বিভাজন তথা জননকোষ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ ঘটবে না। সকল শারীরবৃত্তীয় কাজ ব্যাহত হওয়ায় একসময় উদ্ভিদের মৃত্যু ঘটবে। তাছাড়া কিছু কিছু ব্যাকটেরিয়া অক্সিজেনের উপস্থিতিতে বাঁচতে পারে না। এদের শক্তি উৎপাদনের একমাত্র উপায় হলো অবাত শ্বসন।

✅ উপসংহার
অতএব উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায় যে, শ্বসন প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে সংঘটিত না হলে জীবকুল ধ্বংসের সম্মুখীন হতো।
প্রশ্ন নং-২ | সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন সম্পর্কিত
📋 উদ্দীপক

প্রক্রিয়া A: সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে শর্করা জাতীয় খাদ্যবস্তুর মধ্যে স্থিতি শক্তিরূপে সঞ্চয় করে রাখে।

প্রক্রিয়া B: খাদ্যস্থ স্থিতি শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসেবে তাপ রূপে মুক্ত হয় এবং জীবের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি-যোগান দেয়।

(i) 'B' প্রক্রিয়ার যে ধাপগুলো মাইটোক্রিয়াতে সংঘটিত হয় তা ব্যাখ্যা করো। (অনুধাবনমূলক) [য.বো.'২৫; সি.বো.'২২; ঢা.বো.'২১; অনুরূপ: রা.বো.'২৫; চ.বো.'২৫; য.বো.'২০; সি.বো.'২০; ঢা.বো.'১৯]
(ii) উদ্দীপকের 'B' প্রক্রিয়ায় ১ অণু গ্লুকোজ ভেঙে কত অণু ATP উৎপন্ন হয়? হিসাবসহ দেখাও। (অনুধাবনমূলক) [ম.বো.'২৪; অনুরূপ: য.বো.'২৩,'২২; দি.বো.'২৩; রা.বো.'২২; কু.বো.'২২; য.বো.'২২]
(iii) 'A' প্রক্রিয়ার সূর্যালোকের অনুপস্থিতিতে শর্করা (গ্লুকোজ) এর উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করো। (অনুধাবনমূলক) [ঢা.বো.'২৩; অনুরূপ: ঢা.বো.'২১; ঢা.বো.'১৯]
(iv) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' প্রক্রিয়াটিতে আলোর ভূমিকা বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক) [সি.বো.'২৪; দি.বো.'২৩; অনুরূপ: য.বো.'২১; ঢা.বো.'১৯]
(v) জীবজগতে 'A' প্রক্রিয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক) [রা.বো.'২৩; অনুরূপ: য.বো.'২৫,'১৯; রা.বো.'২২,'২১; মা.বো.'২২,'২১; য.বো.'২১,'১৯; সি.বো.'২১,'২০; কু.বো.'১৯]
(vi) জীবজগতের বেঁচে থাকার জন্য উভয় প্রক্রিয়ার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বিশ্লেষণ করো। (উচ্চতর দক্ষতামূলক) [রা.বো.'২৫; চ.বো.'২৫; অনুরূপ: য.বো.'২৫; কু.বো.'২৩,'২২; ঢা.বো.'২২; সি.বো.'২১; চ.বো.'২০; রা.বো.'১৯]
📝 উত্তর
① 'B' প্রক্রিয়ার মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত ধাপগুলো
উদ্দীপকের 'B' প্রক্রিয়া হলো সবাত শ্বসন। সবাত শ্বসনের শেষের তিনটি ধাপ মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। নিচে ধাপ তিনটি ব্যাখ্যা করা হলো—
✅ ধাপ-১: অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি
এই ধাপে পাইরুভিক এসিড থেকে অ্যাসিটাইল Co-A সৃষ্টি হয়। গ্লাইকোলাইসিস পর্যায়ে সৃষ্ট প্রতি অণু পাইরুভিক এসিড পর্যায়ক্রমিক বিক্রিয়ায় এক অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম-এ, এক অণু CO₂ এবং এক অণু NADH + H⁺ (অথবা NADH₂) উৎপন্ন করে (অর্থাৎ দুই অণু পাইরুভিক এসিড থেকে দুই অণু অ্যাসিটাইল কো এনজাইম-এ, দুই অণু CO₂ এবং দুই অণু NADH + H⁺ উৎপন্ন হয়।)
✅ ধাপ-২: ক্রেবস চক্র
ইংরেজ প্রাণরসায়নবিদ Sir Hans Krebs এই চক্রটি আবিষ্কার করেন বলে একে ক্রেবস চক্র বলা হয়। এ পর্যায়ে অ্যাসিটাইল Co-A মাইটোকন্ড্রিয়াতে প্রবেশ করে এবং ক্রেবস চক্রের অংশগ্রহণ করে। এ চক্রের সকল বিক্রিয়াই মাইটোকন্ড্রিয়াতে সংঘটিত হয়। এই চক্রে এক অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে দুই অণু কার্বন ডাইঅক্সাইড, তিন অণু NADH+H⁺, এক অণু FADH₂ এবং এক অণু GTP (গুয়ানোসিন ট্রাইফসফেট) (অর্থাৎ দুই অণু অ্যাসিটাইল Co-A থেকে চার অণু CO₂, 6 অণু NADH + H⁺, দুই অণু FADH₂ এবং দুই অণু GTP উৎপন্ন হয়।)
✅ ধাপ-৩: ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্র
এই প্রক্রিয়ার পূর্বের ধাপগুলোতে উৎপন্ন NADH + H⁺, FADH₂ জারিত হয়ে ATP, পানি, ইলেকট্রন ও প্রোটন উৎপন্ন করে। উচ্চ শক্তিসম্পন্ন ইলেকট্রনসমূহ ইলেকট্রন প্রবাহতন্ত্রের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় যে শক্তি প্রদান করে তা ATP তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
② 'B' প্রক্রিয়ায় ১ অণু গ্লুকোজ থেকে ATP উৎপাদনের হিসাব
উদ্দীপকের 'B' প্রক্রিয়াটি সবাত শ্বসনের। এই প্রক্রিয়ায় ১ অণু গ্লুকোজ ভেঙে ৩৮ অণু ATP উৎপন্ন হয়। বিক্রিয়াটি নিম্নরূপ—
C₆H₁₂O₆ + 6O₂ —এনজাইম→ 6CO₂ + 6H₂O + 38 ATP
নিচে এই শক্তির হিসাব ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো—
শ্বসনের পর্যায় উৎপাদিত বস্তু ব্যয়িত বস্তু নিট উৎপাদন
গ্লাইকোলাইসিস ২ অণু পাইরুভিক এসিড ২ অণু ATP ৬ অণু ATP
২ অণু ATP
২ অণু NADH + H⁺
৪ অণু ATP
অ্যাসিটাইল কো-এ ২ অণু অ্যাসিটাইল কো-এ ২ অণু পাইরুভিক এসিড ২ অণু CO₂
২ অণু CO₂ ৬ অণু ATP
২ অণু NADH+H⁺
ক্রেবস চক্র ৪ অণু CO₂ ২ অণু অ্যাসিটাইল কো-এ ৪ অণু CO₂
৬ অণু NADH+H⁺ ১৮ অণু ATP
২ অণু FADH₂ ৪ অণু ATP
২ অণু GTP ২ অণু ATP
মোট ৩৮ অণু ATP + ৬ অণু CO₂
💡 হিসাবের সূত্র
  • ১ অণু NADH+H⁺ বা NADH₂ = ৩ অণু ATP
  • ১ অণু FADH₂ = ২ অণু ATP
  • ১ অণু GTP = ১ অণু ATP
③ 'A' প্রক্রিয়ায় সূর্যালোকের অনুপস্থিতিতে শর্করা উৎপাদন (আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়)
উদ্দীপকের 'A' প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। সালোকসংশ্লেষণকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যথা: আলোক নির্ভর পর্যায় এবং আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়। আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না, তবে আলোর উপস্থিতিতেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো:
💡 আলোক নিরেপক্ষ পর্যায় (ক্যালভিন চক্র)
আলোক নিরেপক্ষ পর্যায়ে আলোর প্রত্যক্ষ প্রয়োজন পড়ে না, কিন্তু আলোর উপস্থিতিতেও এই প্রক্রিয়া চলতে পারে। বায়ুমণ্ডলের CO₂, পত্ররন্ধ্রের উন্মুক্ত হওয়ার কারণে পাতায় প্রবেশ করে পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং এরপর খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না।

এই পর্যায়ে আলোক নির্ভর পর্যায়ে প্রস্তুত ATP ও NADPH-এর সাহায্যে CO₂ বিজারিত হয়ে কার্বোহাইড্রেটে পরিণত হয়। সবুজ উদ্ভিদে CO₂ বিজারণের তিনটি গতিপথ শনাক্ত করা হয়েছে যেগুলো হচ্ছে ক্যালভিন চক্র, হ্যাচ ও স্ল্যাক চক্র এবং ক্রেসুলেশিয়ান এসিড বিপাক। তবে অধিকাংশ উদ্ভিদই C₃ চক্রের মাধ্যমে শর্করা তথা গ্লুকোজ তৈরি করে।

④ 'A' প্রক্রিয়ায় (সালোকসংশ্লেষণ) আলোর ভূমিকা বিশ্লেষণ
উদ্দীপকের 'A' প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া যেখানে আলোর ভূমিকা অপরিসীম।
💡 সালোকসংশ্লেষণে আলোর ভূমিকা
সালোকসংশ্লেষণের আলোর তাৎপর্য অপরিসীম। পানি এবং CO₂ থেকে শর্করা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস আলো। সূর্যালোক ক্লোরোফিলকৃষ্টিকে অংশগ্রহণ করে। সূর্যালোকের প্রভাবেই পত্ররন্ধ্র উন্মুক্ত হয়, CO₂ পাতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে এবং এরপর খাদ্য প্রস্তুতকরণে অংশগ্রহণ করে।

কিন্তু পাতায় যেটুকু আলো পড়ে, তার অতি সামান্য অংশই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হয়। আবার আলোকবর্ণালির লাল, নীল, কমলা এবং বেগুনি অংশটুকুতেই সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয়। সবুজ কিংবা হলুদ আলোতে সালোকসংশ্লেষণ ভালো হয় না। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত আলোর পরিমাণ বাড়লে সালোকসংশ্লেষণের হারও বেড়ে যায়। কিন্তু আলোর পরিমাণ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে পাতার ভিতরকার এনজাইম নষ্ট হয়ে যায়, ক্লোরোফিল উৎপাদন কম হয়। ফলে সালোকসংশ্লেষণের হারও কমে যায়। সাধারণত 400nm থেকে 480nm এবং 680nm (ন্যানোমিটার) তরঙ্গদৈর্ঘ্য বিশিষ্ট আলোতে সালোকসংশ্লেষণ সবচেয়ে ভালো হয়।

⑤ জীবজগতে 'A' প্রক্রিয়ার (সালোকসংশ্লেষণ) প্রভাব বিশ্লেষণ
উদ্দীপকের 'A' প্রক্রিয়াটি হলো সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার উপর জীবজগতের অস্তিত্ব নির্ভরশীল। নিচে তা ব্যাখ্যা করা হলো:
💡 জীবজগতে প্রভাব
সালোকসংশ্লেষণ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া। এ বিক্রিয়ার মাধ্যমেই সূর্যালোক এবং জীবনের মধ্যে সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। সমস্ত শক্তির উৎস হলো সূর্য। একমাত্র সবুজ উদ্ভিদই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় সৌরশক্তিকে রাসায়নিক শক্তিতে পরিণত করে খাদ্যের মধ্যে আবদ্ধ করতে পারে।

কোনো প্রাণিই তার নিজের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। আমরা যা খাবার খাই যেমন ভাত, রুটি, ফলমূল, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ইত্যাদি যা-ই গ্রহণ করি না কেন, তার সবই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সবুজ উদ্ভিদ থেকে পেয়ে থাকি। কাজেই খাদ্যের জন্য সমগ্র প্রাণিকুল সবুজ উদ্ভিদের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। আর সবুজ উদ্ভিদ এ খাদ্য প্রস্তুত করে সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়, বিশেষ করে O₂ ও CO₂ এর সঠিক অনুপাত রক্ষায় সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

✅ গুরুত্ব একনজরে
  • পৃথিবীতে উদ্ভিদ ও প্রাণির খাদ্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাপনের অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখে
  • শিল্পসামগ্রী (যেমন— নাইলন, রেয়ান, কাগজ, সেলুলোজ, কাঠ, রাবার), ওষুধ (যেমন— কুইনাইন, মরফিন), জ্বালানি, কয়লা, পেট্রোল, গ্যাস প্রভৃতি উদ্ভিদ থেকে পাওয়া যায়
  • তাই সালোকসংশ্লেষণ না ঘটলে মানবসভ্যতা ধ্বংস হবে, বিলুপ্ত হবে জীবজগৎ
  • সুতরাং, সালোকসংশ্লেষণ জীবজগতের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়া
⑥ জীবজগতের বেঁচে থাকার জন্য উভয় প্রক্রিয়ার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা
উদ্দীপকের 'A' ও 'B' প্রক্রিয়া দুটি হলো যথাক্রমে সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন। নিচে সালোকসংশ্লেষণ এবং শ্বসন প্রক্রিয়ার পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বিশ্লেষণ করা হলো:
💡 পারস্পরিক নির্ভরশীলতার বিশ্লেষণ
সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সবুজ উদ্ভিদে ঘটে থাকে। এ প্রক্রিয়ায় সূর্যালোক, CO₂, পানি এবং ক্লোরোফিল আবশ্যক। সূর্যালোকের উপস্থিতিতে পানি ও CO₂ এর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে সবুজ উদ্ভিদের পাতায় শর্করা জাতীয় খাদ্য (C₆H₁₂O₆) তৈরি হয়।

এ ধরনের খাদ্য তৈরির প্রক্রিয়াই হলো সালোকসংশ্লেষণ। CO₂ এর অনুপস্থিতিতে সবুজ উদ্ভিদ এ শর্করা জাতীয় খাদ্য তৈরি করতে পারে না। সালোকসংশ্লেষণের সময় শর্করা তৈরির পাশাপাশি O₂ উৎপন্ন হয়ে থাকে। সালোকসংশ্লেষণে ব্যবহৃত CO₂ শ্বসনের ফলেই তৈরি হয়ে থাকে। সকল জীবকোষেই শ্বসন ক্রিয়া দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলতে থাকে। শ্বসন ক্রিয়ায় জীব O₂ গ্রহণ করে এবং CO₂ ত্যাগ করে। কেবল শ্বসন প্রক্রিয়া চলতে থাকলে বায়ুমণ্ডলে O₂ গ্যাসের স্বল্পতা এবং CO₂ গ্যাসের আধিক্য দেখা যেত। কিন্তু সবুজ উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় বায়ুমণ্ডল থেকে CO₂ গ্রহণ করে এবং O₂ ত্যাগ করে বলে এখনও বায়ুমণ্ডলে O₂ ও CO₂ গ্যাসের সঠিক অনুপাত রক্ষিত হচ্ছে।

✅ উপসংহার
শ্বসনে ব্যবহৃত শর্করা (গ্লুকোজ) ও O₂ সালোকসংশ্লেষণেই তৈরি হয়ে থাকে। তাই দেখা যায় যে, শ্বসন ক্রিয়া না হলে CO₂ তৈরি না হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণও ঘটত না। সুতরাং, জীবজগতের বেঁচে থাকার জন্য উদ্দীপকের প্রক্রিয়া দু'টি অর্থাৎ সালোকসংশ্লেষণ ও শ্বসন একে অপরের উপর নির্ভরশীল ও পরিপূরক।
📚 শব্দকোষ (Vocabulary)
জীবনীশক্তি
Bioenergy
সৌরশক্তি থেকে রূপান্তরিত যে রাসায়নিক শক্তি ATP ও NADPH-এ সঞ্চিত থাকে।
ATP (জৈবমুদ্রা)
Adenosine Triphosphate
জীবকোষের শক্তির প্রধান বাহক। শক্তি সঞ্চয় ও মুক্তির কাজ করে।
সালোকসংশ্লেষণ
Photosynthesis
সবুজ উদ্ভিদ কর্তৃক সৌরশক্তি ব্যবহার করে CO₂ ও H₂O থেকে শর্করা প্রস্তুতের প্রক্রিয়া।
ফটোলাইসিস
Photolysis
আলোর সাহায্যে পানি ভেঙে O₂, H⁺ ও ইলেকট্রন উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া।
গ্লাইকোলাইসিস
Glycolysis
সাইটোপ্লাজমে সংঘটিত শ্বসনের প্রথম ধাপ, যেখানে গ্লুকোজ ভেঙে পাইরুভেট তৈরি হয়।
ক্রেবস চক্র
Krebs Cycle
মাইটোকন্ড্রিয়ায় সংঘটিত চক্রাকার বিক্রিয়া যেখানে CO₂, NADH, FADH₂ ও GTP উৎপন্ন হয়।
শ্বসন
Respiration
জীবকোষে অক্সিজেনের সাহায্যে জৈব পদার্থ জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া।
C₃ উদ্ভিদ
C₃ Plant
যে উদ্ভিদে ক্যালভিন চক্র ঘটে এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৩-কার্বন বিশিষ্ট।
C₄ উদ্ভিদ
C₄ Plant
যে উদ্ভিদে হ্যাচ-স্ল্যাক চক্র ঘটে এবং প্রথম স্থায়ী পদার্থ ৪-কার্বন বিশিষ্ট OAA।
ফটোফসফোরাইলেশন
Photophosphorylation
আলোর সাহায্যে ADP + Pi → ATP তৈরির প্রক্রিয়া।
আত্তীকরণ শক্তি
Assimilatory Power
আলোক পর্যায়ে উৎপন্ন ATP ও NADPH + H⁺ একসাথে আত্তীকরণ শক্তি নামে পরিচিত।
শ্বসনিক বস্তু
Respiratory Substrate
শ্বসনে যে বস্তু জারিত হয়ে শক্তি উৎপন্ন করে, যেমন গ্লুকোজ, লিপিড, প্রোটিন।
⚡ Quick Revision — MCQ এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য