এই অংশে জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার সংজ্ঞাগুলো এক মার্কের জ্ঞানমূলক প্রশ্নের আদলে সহজ ভাষায় দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উত্তর সরাসরি পরীক্ষায় লেখার উপযোগী।
প্র-১ জীবাশ্ম বিজ্ঞান কী? [ঢা.বো.'২২; রা.বো.'১৭]
উত্তর
প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ ও জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে জীবাশ্ম বিজ্ঞান (Palaeontology) বলে।
প্র-২ ভৌত জীববিজ্ঞান কী? [য.বো.'২৫; দি.বো.'২২]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তড়িৎ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে।
প্র-৩ মরফোলজিতে কী নিয়ে আলোচনা করা হয়?
উত্তর
মরফোলজিতে জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
প্র-৪ শারীরবিদ্যা কী? [ম.বো.'২২]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি এবং জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ আলোচনা করা হয় তাই শারীরবিদ্যা (Physiology)।
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে হিস্টোলজি (Histology) বলে।
প্র-৬ ভ্রূণবিদ্যা কাকে বলে? [রা.বো.'২৪]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাণির ভ্রূণ ও এর বিকাশ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভ্রূণবিদ্যা (Embryology) বলে।
প্র-৭ সাইটোলজিতে কী বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়?
উত্তর
সাইটোলজিতে জীবদেহের একক কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে যাবতীয় আলোচনা করা হয়।
প্র-৮ বিবর্তনবিদ্যা কী? [ঢা.বো.'২৩; রা.বো.'২৩]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ আলোচনা করা হয় তাকে বিবর্তনবিদ্যা (Evolution) বলে।
প্র-৯ বাস্তুবিদ্যা কী? [সি.বো.'২৪]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় পরিবেশে বিন্যস্ত বিভিন্ন জীব ও তার পারিপার্শ্বিক জড় উপাদান এবং তাদের পারস্পরিক আন্তঃক্রিয়া, নির্ভরশীলতা ও মিথস্ক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বা ইকোলজি (Ecology) বলে।
প্র-১০ এন্ডোক্রাইনোলজি কী? [কু.বো.'২৪; য.বো.'২৩]
উত্তর
এন্ডোক্রাইনোলজি হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা যাতে জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক জ্ঞান আলোচনা করা হয়।
প্র-১১ ফলিত জীববিজ্ঞান কী? [ব.বো.'২৩]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তড়িৎ জ্ঞানের আলোকে জীববিজ্ঞানকে মানব কল্যাণে সঠিক প্রয়োগের বিষয় আলোচনা করা হয় তাকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলা হয়।
উত্তর
পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্তকরণকে শ্রেণিবিন্যাস (Taxonomy) বলে।
প্র-১৪ কিংডম মনেরার জীবগুলোর খাদ্য গ্রহণের পদ্ধতি কী ধরনের?
উত্তর
এরা প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
প্র-১৫ ফানজাই রাজ্যের জীবদের খাদ্য গ্রহণ পদ্ধতি কীরূপ?
উত্তর
ফানজাই রাজ্যের জীবদের দেহে ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত, এরা শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে।
প্র-১৬ ফানজাই রাজ্যের জীবদের বংশ বৃদ্ধি কী রূপ?
উত্তর
ফানজাই রাজ্যের জীবদের বংশবৃদ্ধি ঘটে হ্যাপ্রয়েড স্পোর দিয়ে।
প্র-১৭ ফানজাই এর কোষপ্রাচীর কী দিয়ে তৈরি?
উত্তর
ফানজাই এর কোষপ্রাচীর কাইটিন (Chitin) বস্তু দিয়ে গঠিত।
প্র-১৮ প্রজাতি কী?
উত্তর
প্রজাতি বলতে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সর্বাধিক মিলসম্পন্ন একদল জীবকে বোঝায় যারা নিজেদের মধ্যে মিলনে উর্বর সন্তান উৎপাদন করে।
📌 জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর | Concept 1.5: দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
প্র-১৯ দ্বিপদ নাম / নামকরণ কী? [দি.বো.'২০; রা.বো.'২২; ঢা.বো.'১৭]
উত্তর
সাধারণত একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকরণের পদ্ধতিকে দ্বিপদ নামকরণ (Binomial Nomenclature) বলে।
প্র-২০ দ্বিপদ নামকরণের মূল লক্ষ্য কী?
উত্তর
দ্বিপদ নামকরণের মূল লক্ষ্য হলো বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা।
প্র-২১ বিজ্ঞানী লিনিয়াস কোন গ্রন্থে জীবের দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন?
উত্তর
বিজ্ঞানী লিনিয়াস তার Species plantarum গ্রন্থে জীবের দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি প্রবর্তন করেন।
প্র-২২ ICBN এর পূর্ণরূপ কী? [ব.বো.'১৬]
উত্তর
ICBN এর পূর্ণরূপ হলো International Code of Botanical Nomenclature।
প্র-২৩ ICZN এর পূর্ণরূপ কী? [চ.বো.'২০; সি.বো.'১৯; দি.বো.'১৫]
উত্তর
ICZN এর পূর্ণরূপ হলো International Code of Zoological Nomenclature।
প্র-২৪ কাঁঠালের (জাতীয় ফল) বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর
কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Artocarpus heterophyllus।
প্র-২৫ জাতীয় ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম কী? [কু.বো., ব.বো.'১৬]
উত্তর
জাতীয় ফুল শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম হলো Nymphaea nouchali।
প্র-২৬ মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম কী?
উত্তর
মৌমাছির বৈজ্ঞানিক নাম হলো Apis indica।
প্র-২৭ দোয়েলের বৈজ্ঞানিক নাম কী? [রা.বো.'২৫; কু.বো.'১৭]
উত্তর
দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Copsychus saularis।
💡 অনুধাবনমূলক ও সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
এই অংশে দুই মার্কের অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উত্তরে ধারণাগত ব্যাখ্যা সংযুক্ত।
Concept 1.1: জীববিজ্ঞানের ধারণা
প্র-১ জীববিজ্ঞান কাকে বলে?
উত্তর
প্রকৃতিতে সাধারণ জড় পদার্থ ও জীব এই দু'ধরনের বস্তু পাওয়া যায়। আর জীবের জীবন ও গুণাগুণ নিয়ে যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে জীববিজ্ঞান (Biology) বলে। জীববিজ্ঞান প্রকৃতি বিজ্ঞানের একটি প্রাচীনতম শাখা।
💡 মনে রাখো
Biology = Bios (জীবন) + Logos (আলোচনা/বিজ্ঞান) — অর্থাৎ জীবন সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
Concept 1.2: জীববিজ্ঞানের শাখাগুলো
প্র-২ শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয় কেন? [কু.বো.'২২]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় শুধু তড়িৎ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে। শারীরবিদ্যা (Physiology) শাখায় জীবদেহের নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি, যেমন: শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি আলোচনা করা হয়। এছাড়া জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ এ শাখায় পাওয়া যায়, যা একটি তড়িৎ বিষয়। এ কারণেই শারীরবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
প্র-৩ কোষবিদ্যা জীববিজ্ঞানের কোন শাখার অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো। [রা.বো.'২৫]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় শুধু তড়িৎ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে। কোষবিদ্যা শাখায় জীবদেহের কোষের গঠন, কার্যাবলি ও বিভাজন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, যা একটি তড়িৎ বিষয়। এ কারণেই কোষবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
প্র-৪ জীবপ্রযুক্তিকে ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন? [দি.বো.'২৫]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে বিভাগ তড়িৎ জ্ঞানের আলোকে জীববিজ্ঞানকে মানবকল্যাণে সঠিক প্রয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাদেরকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলে। যেহেতু জীবপ্রযুক্তি মানব এবং পরিবেশের কল্যাণে জীব ব্যবহারের প্রযুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করে তাই এটিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
প্র-৫ চিকিৎসাবিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন? [ম.বো.'২৫]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে বিভাগ তড়িৎ জ্ঞানের আলোকে জীববিজ্ঞানকে মানবকল্যাণে সঠিক প্রয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাদেরকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলে। যেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞান মানবদেহ, রোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে, এটি জীববিজ্ঞানের তড়িৎ জ্ঞানকে মানবকল্যাণে প্রয়োগ করে, তাই এটিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
প্র-৬ কীটতত্ত্বকে ফলিত শাখার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন? [সি.বো.'২৩]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে বিভাগ তড়িৎ জ্ঞানের আলোকে জীববিজ্ঞানকে মানবকল্যাণে সঠিক প্রয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাদেরকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলে। যেহেতু কীটতত্ত্ব কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, দমন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে, এটি মানব কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তাই এটিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
প্র-৭ কৃষিবিজ্ঞানকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। [কু.বো.'২৩]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তড়িৎ জ্ঞানের আলোকে জীববিজ্ঞানকে মানব কল্যাণে সঠিক প্রয়োগের বিষয় আলোচনা করা হয় তাকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলা হয়। যেহেতু কৃষিবিজ্ঞান খাদ্য, শস্য ও বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণের সাথে সম্পর্কিত বিজ্ঞান, তাই এটিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
প্র-৮ অণুজীববিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয় কেন? [কু.বো.'২৪]
উত্তর
জীববিজ্ঞানের যে বিভাগ তড়িৎ জ্ঞানের আলোকে জীববিজ্ঞানকে মানবকল্যাণে সঠিক প্রয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করে তাদেরকে ফলিত জীববিজ্ঞান বলে। যেহেতু অণুজীববিজ্ঞান বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক এবং অন্যান্য অণুজীবের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষমতি, প্রতিকার ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে, তাই এটিকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
📝 গুরুত্বপূর্ণ নোট: ভৌত ও ফলিত শাখার কোনটিতে কি বিষয়ে আলোচনা হয় তা জানা থাকলে সহজেই উত্তর করা যাবে। কারণ ভিন্ন বোর্ডে ভিন্ন নামে অর্থাৎ পরিবর্তিত হয়ে আসে। কিন্তু Concept একই।
Concept 1.3: জীবের শ্রেণিবিন্যাস
প্র-৯ শ্রেণিবিন্যাস বলতে কী বোঝায়? [দি.বো.'১৬; কু.বো.'১৫]
উত্তর
পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্তকরণকে শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়। এর মাধ্যমে এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়।
প্র-১০ কোন কোন বিষয়ের উপর ভিত্তি করে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করা হয়?
উত্তর
নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করা হয়:
কোষের DNA ও RNA এর প্রকারভেদ
কোষের সংখ্যা
জীবদেহে কোষের বৈশিষ্ট্য
খাদ্যাভ্যাস
প্র-১১ জীবের শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন কেন? অথবা, জীবের শ্রেণিবিন্যাসকরণ গুরুত্বপূর্ণ কেন? [রা.বো.'২২; ম.বো.'২৪]
উত্তর
শ্রেণিবিন্যাস হলো জীবজগতকে সহজে জানার একটি পদ্ধতি। জীবের জাতিজনিত বিভিন্ন তথ্য, জীবকুলের বিবর্তনিক ধারা নির্ণয় ও নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণের জন্য শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন। এছাড়া এই বিশাল জীবজগতকে ভালোভাবে জানা, বোঝা ও শেখার সুবিধার্থে এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা প্রভৃতি ক্ষেত্রে জীবের শ্রেণিবিন্যাস অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য জীবের শ্রেণিবিন্যাস করা প্রয়োজন।
প্র-১২ জীবের শ্রেণিবিন্যাসের কারণ ব্যাখ্যা করো। [ব.বো.'২০]
উত্তর
পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্তকরণকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। শ্রেণিবিন্যাসের সাহায্যে:
এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে সহজভাবে, অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা যায়।
প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্পর্কে জ্ঞান আহরণ করা যায়।
জীবজগতের বিভিন্নতার প্রতি আলোকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা যায়।
প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা যায়।
জীবজগত ও মানব কল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবসমূহ শনাক্ত করা যায় এবং তাদের সংরক্ষণ ও প্রজাতিগত সংখ্যাবৃদ্ধির ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
প্র-১৩Nostoc কে আদিকোষী বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। [সি.বো.'২০]
উত্তরNostoc মনেরা রাজ্যের জীব। এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে, কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। তাই Nostoc কে আদিকোষী বলা হয়।
প্র-১৪ প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবগুলোকে ইউক্যারিওট বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো। [য.বো.'২২]
উত্তর
প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবগুলোকে ইউক্যারিওট বলা হয়। কারণ:
এরা প্রকৃতকোষ (নিউক্লিয়াস সুগঠিত) বিশিষ্ট একক বা বহুকোষী জীব।
রাইবোজোমসহ সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে।
ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
প্র-১৫ আমিবা কোন রাজ্যের অন্তর্গত? কেন? [কু.বো.'১৭]
উত্তর
আমিবা প্রোটিস্টা (Protista) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের কারণে আমিবা প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত:
এককোষী এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে।
খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা গ্রহণ পদ্ধতিতে ঘটে।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
কোনো ভ্রণ গঠিত হয় না।
প্র-১৬ 'ফানজাই' এর বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী?
উত্তর
এরা অধিকাংশ ছত্রাক, মৃতজীবী ও পরজীবী। দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
এদের ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশ বৃদ্ধি ঘটে।
মিয়োসিস এর মাধ্যমে কোষ বিভাজন ঘটে।
উদাহরণ: ইস্ট, Penicillium, মাশরুম ইত্যাদি।
প্র-১৭ ইস্ট স্বভোজী নয় কেন? ব্যাখ্যা করো। [চ.বো.'২০]
উত্তর
যেসব উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে তাদেরকে স্বভোজী বলা হয়। স্বভোজী উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট উপস্থিত থাকে। কিন্তু ইস্টে ক্লোরোপ্লাস্ট না থাকায় নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য অন্য জীবদেহের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই ইস্ট স্বভোজী নয় অর্থাৎ পরভোজী।
প্র-১৮ মাশরুমকে মৃতজীবী জীব বলা হয় কেন? [রা.বো.'২৪]
উত্তর
মাশরুম হলো ছত্রাক সমাজদেহী ক্লোরোফিলবিহীন অসবুজ উদ্ভিদ। এদের দেহে ক্লোরোফিল না থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। তাই খাদ্যের জন্য এরা মৃত জীবদেহের উপর নির্ভর করে, তাই মাশরুমকে মৃতজীবী জীব বলা হয়।
প্র-১৯ মানুষকে হেটেরোট্রফিক বলা হয় কেন? [সি.বো.'২৪; রা.বো.'২০]
উত্তর
মানুষ নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী। মানুষের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষরস গহ্বর নেই। প্লাস্টিড না থাকায় মানুষ নিজের খাদ্য নিজে উৎপাদন করতে পারে না। এ কারণে মানুষ হেটেরোট্রফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে। দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। তাই মানুষকে হেটেরোট্রফিক বলা হয়।
Concept 1.4: শ্রেণিবিন্যাসের বিভিন্ন ধাপ
প্র-২০ মানুষকে Primate বর্গের প্রাণী বলার কারণ ব্যাখ্যা করো। অথবা, মানুষ Primate বর্গভুক্ত কেন? [কু.বো.'২০; য.বো.'২৩]
উত্তর
মানুষের আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত এবং ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত হয়। আর এ বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকার কারণেই মানুষকে Primate বর্গের প্রাণী বলা হয়।
প্র-২১ মানুষের প্রজাতি sapiens বলার কারণ ব্যাখ্যা করো। অথবা, মানুষকে sapiens প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কেন? [সি.বো.'২০; সি.বো.'২৩]
উত্তর
মানুষের প্রজাতি sapiens বলার কারণ এদের দেহ চওড়া এবং খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত। তাই মানুষের প্রজাতিকে sapiens বলা হয়।
Concept 1.5: দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
প্র-২২ বৈজ্ঞানিক নামকরণ কী? ব্যাখ্যা করো। [রা.বো.'২৩]
উত্তর
বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি জীবকে আলাদা নামে সঠিকভাবে জানা প্রয়োজন। তাই আন্তর্জাতিকভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে জীবের নাম নির্ধারণ করা হয়, যাকে বৈজ্ঞানিক নামকরণ বলে। একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশটি তার গণের নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম, যেমন গোল আলুর বৈজ্ঞানিক নাম Solanum tuberosum। এখানে, Solanum গণ নাম এবং tuberosum প্রজাতির নাম বুঝায়। এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নামও বলা হয়।
প্র-২৩ দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বুঝ? [সি.বো.'১৬]
উত্তর
জীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী গণ ও প্রজাতি নামের দুটি পদ ব্যবহার করে জীবের যে নামকরণ হয় তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। এভাবে সৃষ্ট নামকে জীবের বৈজ্ঞানিক নামও বলে। দ্বিপদ নামকরণের নিয়মানুযায়ী মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens।
প্র-২৪ লিনিয়াসকে দ্বি-পদ নামকরণের জনক বলা হয় কেন? অথবা, ক্যারোলাস লিনিয়াসকে দ্বিপদ নামকরণের প্রবর্তক বলা হয় কেন? [দি.বো.'২২]
উত্তর
সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াস সর্বপ্রথম জীবের নামকরণের গুরুত্ব উপলব্ধি করেন। তাই তিনি 'Species plantarum' গ্রন্থে জীবের নামকরণের ক্ষেত্রে দ্বিপদ নামকরণ নীতি প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। তিনিই প্রথম ঐ গ্রন্থে শ্রেণি, বর্গ, গণ এবং প্রজাতি ধাপগুলো ব্যবহার করেন। তাই ক্যারোলাস লিনিয়াসকে দ্বি-পদ নামকরণের জনক বলা হয়।
প্র-২৫ ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নামে দ্বিপদ নাম বলা হয় কেন? [য.বো.'২৩]
উত্তর
ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Oryza sativa। একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। ধান গাছের বৈজ্ঞানিক নামের ক্ষেত্রে Oryza গণ নাম এবং sativa প্রজাতির নাম বুঝায়। এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম বলে।
📌 নোট: চিত্র 'A' এর মাশরুমের ছলে পেনিসিলিয়াম, চিত্র 'B' এর Nostoc এর ছলে ব্যাকটেরিয়া, চিত্র 'D' এর ডায়াটমের ছলে আমিবা থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু চিত্রের নাম পরিবর্তন হবে অন্য সবকিছু একই থাকবে।
(i) 'A' কোন রাজ্যের অন্তর্গত? ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'A' হলো মাশরুম যা ফানজাই (Fungi) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে মাশরুমের ফানজাই রাজ্যে অন্তর্গত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
এটি ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ ও অপুষ্পক উদ্ভিদ।
এরা মৃতজীবী এবং ছত্রাক।
এদের নিউক্লিয়াস সুগঠিত।
এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত।
মাশরুম দেহে কোনো ভাস্কুলার বান্ডল থাকে না।
হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো মাশরুমে বিদ্যমান থাকায় মাশরুম ফানজাই রাজ্যের অন্তর্গত।
(ii) 'B' রাজ্যবিশিষ্ট জীবের বৈশিষ্ট্যাবলি ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' হলো Nostoc যা মনেরা (Monera) রাজ্যের সদস্য। নিচে মনেরা রাজ্যের জীবের বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা হলো:
এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল।
কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই।
এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে।
কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
এরা শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে এবং কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো Nostoc-এ বিদ্যমান থাকায় Nostoc মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
(iii) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' এর রাজ্যগত বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' জীবটি হলো দোয়েল যা অ্যানিমেলিয়া (Animalia) রাজ্যের অন্তর্গত। নিচে অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো:
এরা সুকেন্দ্রিক ও বহুকোষী প্রাণী।
এদের কোষে কোনো বড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষ গহ্বর নেই।
প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটেরোট্রফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে ও হজম করে।
দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণির জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়।
ভ্রণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো দোয়েলে বিদ্যমান থাকায় দোয়েল অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্গত।
(iv) 'D' কে কোন রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়? ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'D' জীবটি হলো ডায়াটম যা প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। নিচে ডায়াটমের প্রোটিস্টা রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
এরা এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলোনিয়াল (দলবদ্ধ) বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট।
কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত থাকে। ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA এবং প্রোটিন থাকে।
কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে।
খাদ্যগ্রহণ শোষণ বা ফটোসিন্থেটিক পদ্ধতিতে ঘটে।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে অর্থাৎ জৈবিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
কোনো ভ্রণ গঠিত হয় না।
প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো ডায়াটমে বিদ্যমান থাকায় উদ্দীপকের 'D' জীবটি প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
(v) উদ্দীপকের 'E' জীবের রাজ্যগত অবস্থান ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'E' হলো উদ্ভিদ যা প্লান্টি (Plantae) রাজ্যের অন্তর্গত। নিচে উদ্ভিদকে প্লান্টি রাজ্যে স্থান দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো:
এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত ও সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
এদের উন্নত টিস্যুতন্ত্র রয়েছে।
এদের ভ্রণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়।
এদের যৌন জনন আনাইসোগ্যামাস ধরনের। অর্থাৎ আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্যবিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে যৌন জনন সম্পন্ন হয়।
এরা আর্কিগোনিয়েট ও সপুষ্পক উদ্ভিদ।
ক্লোরোফিল থাকায় এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো প্লান্টি রাজ্যের। উদ্দীপকের 'E' জীবের মধ্যে এসকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকায় প্লান্টি রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়।
(vi) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'E', 'A' থেকে উন্নত-বিশ্লেষণ করো। ৪ মার্ক[রা.বো.'২৩; বব.বো.'২৩; অনুরূপ: রা.বো.'২০; কু.বো.'২২]
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'E' হলো উদ্ভিদ যা প্লান্টি (Plantae) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং 'A' হলো মাশরুম যা ফানজাই (Fungi) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। 'A' ও 'E' এর মধ্যে 'E' বেশি উন্নত। নিচে এর কারণ বিশ্লেষণ করা হলো—
ছত্রাক ক্লোরোফিলবিহীন, অসবুজ, সালোকসংশ্লেষণে অক্ষম। অপরদিকে উদ্ভিদ ক্লোরোফিলযুক্ত, সবুজ ও শাখাশিত এবং সালোকসংশ্লেষণে সক্ষম।
ছত্রাক নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। কিন্তু উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে।
ছত্রাক স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। কিন্তু উদ্ভিদ যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়, যা উন্নত বৈশিষ্ট্য।
ছত্রাকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না। কিন্তু উদ্ভিদকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়।
পরিবহণ কলাতন্ত্র উন্নত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য। এই পরিবহণ কলাতন্ত্র ছত্রাকে অনুপস্থিত, কিন্তু উদ্ভিদে উপস্থিত।
ছত্রাকের দেহ নরম, কিন্তু উদ্ভিদদেহ বেশ শক্ত। শক্ত উদ্ভিদ দেহ উন্নত জীবেরই বৈশিষ্ট্য বহন করে।
অতএব উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটি প্রতিয়মান হয় যে, উদ্ভিদ ও মাশরুমের মধ্যে উদ্ভিদ অধিক উন্নত।
(vii) উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' ও 'D' একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয় কেন? বিশ্লেষণ করো। ৪ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'B' হলো Nostoc যা মনেরা রাজ্যের এবং 'D' হলো ডায়াটম যা প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ এরা ভিন্ন রাজ্যভুক্ত জীব। নিচে 'B' ও 'D' এর একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
Nostoc মনেরা রাজ্যের জীব যা এককোষী এবং যাদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা অনুপস্থিত। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় এদের কোষ বিভাজন সম্পন্ন হয়। এরা শোষণ পদ্ধতিতে মৃত জৈবিক পদার্থ হতে খাদ্য সংগ্রহ করে।
অপরদিকে ডায়াটম প্রোটিস্টা রাজ্যভুক্ত জীব। এরা এককোষী হলেও সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা আবৃত থাকে যাতে DNA, RNA ও প্রোটিন থাকে। কোষে সকল প্রকারের অঙ্গাণু থাকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে।
সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, Nostoc এবং ডায়াটম ভিন্ন গোত্রভুক্ত অর্থাৎ একই রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(viii) উদ্দীপকের 'B' ও 'E' জীবের মধ্যে কোনটি অধিক উন্নত? বিশ্লেষণ করো। ৪ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'B' হলো Nostoc যা মনেরা রাজ্যের এবং 'E' হলো উদ্ভিদ যা প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। Nostoc ও উদ্ভিদের মধ্যে উদ্ভিদ বেশি উন্নত জীব। নিচে এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো—
উদ্ভিদ প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত বহুকোষী জীব। অন্যদিকে Nostoc আদিকোষী (নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয়) আণুবীক্ষণিক জীব।
উদ্ভিদ অযৌন ও যৌন জনন উভয় পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে। এদের যৌন জনন আনাইসোগ্যামাস ধরনের। অপরপক্ষে, Nostoc এর কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়।
উদ্ভিদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা, রাইবোজোম থাকে। অপরপক্ষে Nostoc এর কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই কিন্তু রাইবোজোম থাকে।
উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, B অর্থাৎ মনেরা ও প্লান্টি রাজ্যের মধ্যে বৈশিষ্ট্যগতভাবে প্লান্টি রাজ্য বেশি উন্নত।
(ix) 'A' ও 'C' রাজ্যভুক্ত জীব দুটির মধ্যে কোনটি উন্নত এবং কেন— বিশ্লেষণ করো। ৪ মার্ক[দি.বো.'২৩; কু.বো.'১৯]
উত্তর
উদ্দীপকের 'A' জীবটি হলো মাশরুম যা ফানজাই (Fungi) রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং 'C' জীবটি হলো দোয়েল যা অ্যানিমেলিয়া (Animalia) রাজ্যের অন্তর্গত জীব। এই দুই জীবের মধ্যে দোয়েল অধিক উন্নত জীব। নিচে এর বিশ্লেষণ করা হলো—
ছত্রাক রাজ্যের অধিকাংশই ছত্রাক, মৃতজীবী বা পরজীবী। দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এগুলোর নিউক্লিয়াস সুগঠিত। কোষপ্রাচীরের কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত। খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে। ক্লোরোপ্লাস্ট অনুপস্থিত। হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
অপরদিকে, অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবেরা নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট ও বহুকোষী প্রাণী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষরস গহ্বর নেই। প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটেরোট্রফিক অর্থাৎ পরভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে ও হজম করে। দেহে জটিল টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে।
উপরিউক্ত দুই রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোচনা থেকে বলা যায়, মাশরুম অপেক্ষা দোয়েল অধিক উন্নত জীব।
(x) চিত্র 'D' ও 'E' জীবদ্বয়ের মধ্যে কোনটি বেশি উন্নত? বিশ্লেষণ করো। ৪ মার্ক[অনুরূপ: সি.বো.'২৩]
উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'D' হলো ডায়াটম যা প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত এবং 'E' হলো উদ্ভিদ যা প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। এই জীব দুটির মধ্যে উদ্ভিদ উন্নতর জীব। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো—
উদ্ভিদ প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত, সালোকসংশ্লেষণকারী, বহুকোষী জীব। কিন্তু ডায়াটম এককোষী জীব।
উদ্ভিদের দেহে উন্নত টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান। এদের ভ্রণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। অন্যদিকে, ডায়াটমের কোনো ভ্রণ গঠিত হয় না এবং কোনো টিস্যুতন্ত্র নেই।
উদ্ভিদ অযৌন ও যৌন জনন উভয় পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে। এদের যৌন জনন আনাইসোগ্যামাস ধরনের। অপরপক্ষে, ডায়াটমে সাধারণত মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে।
উদ্ভিদের দৈহিক গঠন ও শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়া অনেক জটিল প্রকৃতির। কিন্তু ডায়াটম হলো সরলতম প্রাণী।
উদ্ভিদের দেহে নির্দিষ্ট আকার-আকৃতি বিদ্যমান। তবে, ডায়াটমের আকার-আকৃতি সর্বদাই পরিবর্তনশীল।
উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বলা যায়, ডায়াটমের তুলনায় উদ্ভিদ অধিক উন্নত।
(xi) চিত্র 'C' ও 'E' এর রাজ্যের তুলনামূলক আলোচনা করো। ৪ মার্ক[ম.বো.'২২]
উত্তর
উদ্দীপকের চিত্র 'C' হলো দোয়েল যা অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের এবং 'E' হলো একটি সবুজ উদ্ভিদ যা প্লান্টি রাজ্যের অন্তর্গত। নিচে রাজ্য দুটির তুলনামূলক আলোচনা করা হলো—
এই দুটি রাজ্যের জীবগুলো গঠনগত ও কার্যগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে একে অন্যের থেকে আলাদা। প্লান্টি রাজ্যের জীবকোষে কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষ গহ্বর থাকে। প্লাস্টিড থাকায় এরা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবকোষে কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড ও কোষ গহ্বর নেই। প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটেরোট্রফিক এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে ও হজম করে।
প্লান্টি রাজ্যের জীবগুলোর যৌন জনন আনাইসোগ্যামাস ধরনের। এদের ভ্রণ সৃষ্টি হয় এবং তা থেকে ডিপ্লয়েড পর্যায় শুরু হয়। অন্যদিকে, অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবের ডিপ্লয়েড পুরুষ ও স্ত্রী প্রাণির জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়। ভ্রণ বিকাশকালীন সময়ে ভ্রণীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
প্লান্টি রাজ্যের জীবেরা হলো আর্কিগোনিয়েট ও সপুষ্পক উদ্ভিদ, অন্যদিকে সকল অমেরুদন্ডী (প্রোটোজোয়া ছাড়া) এবং মেরুদন্ডী প্রাণী অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
(xii) উদ্দীপকের 'A' ও 'D' এর মধ্যে কোন জীবটি অধিক উন্নত? বিশ্লেষণ করো। ৪ মার্ক[ব.বো.'১৯]
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' হলো মাশরুম যা ফানজাই রাজ্যের এবং 'D' হলো ডায়াটম যা প্রোটিস্টা রাজ্যের জীব। ডায়াটম অপেক্ষা মাশরুম অধিক উন্নত। নিচে মাশরুমের উন্নততর হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো:
'D' অপেক্ষা 'A' অন্তর্ভুক্ত জীব অধিক উন্নত কেননা প্রোটিস্টা পর্বের জীবগুলো প্রধানত এককোষী, অল্প সংখ্যক বহুকোষী বা কলোনিয়াল জীব বিদ্যমান। অন্যদিকে ফানজাই পর্বের জীবগুলো অধিকাংশই বহুকোষী এবং শাখান্বিত। আবার, ফানজাই পর্বের জীবদের কাইটিন বিশিষ্ট জটিল কোষ প্রাচীরের বিদ্যমান যা প্রোটিস্টা পর্বের প্রাণিদের নেই। কিছু জীবের কোষপ্রাচীর আছে, আবার কিছু জীবের কোষ প্রাচীর নেই। সর্বশেষে, প্রোটিস্টা পর্বের জীবেরা ভ্রণ গঠন করে না বরং কনজুগেশনের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। পক্ষান্তরে, ফানজাই পর্বের জীবগুলো হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
আলোচনা হতে দেখা যায় যে, প্রোটিস্টা অপেক্ষা ফানজাই রাজ্যের জীবদের গঠন জটিলতর। তাই 'D' অন্তর্ভুক্ত জীব অপেক্ষা 'A' বা ফানজাই রাজ্যের জীব অধিক উন্নত।
✍️ Comprehensive Question — প্রশ্ন নং-২: দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি
(i) 'A' জীবটির বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস লিখ। ৩ মার্ক[রা.বো.'২৩]
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' জীবটি হলো মানুষ (Homo sapiens)। নিচে মানুষের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করা হলো:
ধাপ
নাম
কারণ
রাজ্য (Kingdom)
Animalia
কারণ, সুকেন্দ্রিক কোষবিশিষ্ট, বহুকোষী, পরভোজী এবং জটিল টিস্যুতন্ত্র আছে।
পর্ব (Phylum)
Chordata
কারণ, জীবনের কোনো এক পর্যায়ে নোটোকর্ড থাকে।
শ্রেণি (Class)
Mammalia
কারণ, বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ায় এবং লোম/চুল আছে।
বর্গ (Order)
Primate
কারণ, আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত এবং ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত।
গোত্র (Family)
Hominidae
কারণ, শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতির সাথে সাদৃশ্য আছে।
গণ (Genus)
Homo
কারণ, দেহের অনুপাতে মস্তিষ্ক সবচেয়ে বড় এবং খাড়াভাবে দুই পায়ে হাঁটতে পারে।
প্রজাতি (Species)
Homo sapiens
কারণ, চওড়া এবং খাড়া কপাল, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত।
(ii) উল্লিখিত 'D' এর নামকরণে তুমি কি ভূমিকা পালন করবে? ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'D' হলো নতুন প্রজাতির উদ্ভিদ। এর নামকরণে আমি যে ভূমিকা পালন করবো তা নিচে উল্লেখ করা হলো—
উদ্ভিদটির নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করবো।
বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ থাকবে। প্রথমটি হবে গণের এবং দ্বিতীয়টি হবে প্রজাতির।
উদ্ভিদটির নামকরণে বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষরে এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষরে লিখবো; আর দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখবো।
উদ্ভিদটির নাম সবসময় অবশ্যই ইটালিক অক্ষরে লিখবো।
উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতি নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিবো।
যিনি উদ্ভিদটির নাম সর্বপ্রথম দিয়েছিলেন তার নামের সংক্ষিপ্তরূপ বৈজ্ঞানিক নামের শেষে যোগ করবো। যেমন— লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো L।
(iii) লিনিয়াস প্রদত্ত পদ্ধতি অনুসারে কীভাবে 'C' এর নামকরণ করবে? ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক[য.বো.'২০; য.বো.'১৭; অনুরূপ: ব.বো.'১৯]
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'C' হলো শাপলা (Nymphaea nouchali)। লিনিয়াস প্রদত্ত পদ্ধতি অনুসারে শাপলার বৈজ্ঞানিক নামকরণ নিম্নরূপ—
শাপলার নামকরণ ল্যাটিন ভাষায় কিংবা ল্যাটিন ভাষার মতো করে উপস্থাপন করতে হবে।
শাপলার বৈজ্ঞানিক নামের দুইটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশটি গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নাম। যেমন: Nymphaea nouchali, এটি শাপলা গাছের বৈজ্ঞানিক নাম, এখানে Nymphaea গণ এবং nouchali প্রজাতিক পদ।
শাপলার বৈজ্ঞানিক নামকে অনন্য হতে হবে। কারণ, একই নাম দুটি পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই।
শাপলার বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষর হবে, বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর হবে এবং দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখতে হবে। যেমন— Nymphaea nouchali।
শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে। যেমন: Nymphaea nouchali।
শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন: Nymphaeanouchali।
যদি কেয়েকজন বিজ্ঞানী শাপলার বিভিন্ন নামকরণ করেন, তবে অধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।
যিনি প্রথম শাপলার বিজ্ঞানসম্মত নাম দিবেন, তার নাম ও প্রকাশের সাল উক্ত জীবের বৈজ্ঞানিক নামের শেষে সংক্ষেপে সংযোজন করতে হবে।
(iv) উদ্দীপকের 'B' এর নামকরণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক[ঢা.বো.'২২]
উত্তর
উদ্দীপকের 'B' তে উল্লিখিত জীবটি হলো রুইমাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Labeo rohita। নিচে এর নামকরণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো:
রুই মাছের নামকরণ ল্যাটিন ভাষায় কিংবা ল্যাটিন ভাষার মতো করে উপস্থাপন করতে হবে।
রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নামের দুইটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশটি গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নাম। যেমন: Labeo rohita। এটি রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম, এখানে Labeo গণ এবং rohita প্রজাতিক পদ।
রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নামকে অনন্য হতে হবে। কারণ, একই নাম দুটি পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই।
রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষর হবে, বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর হবে এবং দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখতে হবে। যেমন— Labeo rohita।
রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে। যেমন: Labeo rohita।
রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন: Labeorohita।
যদি কয়েকজন বিজ্ঞানী রুই মাছের বিভিন্ন নামকরণ করেন, তবে অধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।
যিনি প্রথম রুই মাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম দিবেন, তার নাম ও প্রকাশের সাল উক্ত জীবের বৈজ্ঞানিক নামের শেষে সংক্ষেপে সংযোজন করতে হবে। যেমন: Labeo rohita H., 1822।
(v) 'E' এর নামকরণ পদ্ধতি ব্যাখ্যা করো। ৩ মার্ক[কু.বো.'২২]
উত্তর
উদ্দীপকের 'E' হলো পাট। এর বৈজ্ঞানিক নাম Corchorus capsularis। নিচে এর নামকরণের পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হলো—
পাট গাছের নামকরণ ল্যাটিন ভাষায় কিংবা ল্যাটিন ভাষার মতো করে উপস্থাপন করতে হবে।
পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামের দুইটি অংশ থাকবে, প্রথম অংশটি গণ নাম এবং দ্বিতীয় অংশটি প্রজাতি নাম। যেমন: Corchorus capsularis। এটি পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম, এখানে Corchorus গণ এবং capsularis প্রজাতিক পদ।
পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামকে অনন্য হতে হবে। কারণ, একই নাম দুটি পৃথক জীবের জন্য ব্যবহারের অনুমতি নেই।
পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষর বড় অক্ষর হবে, বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষর হবে এবং দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখতে হবে। যেমন— Corchorus capsularis।
পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম মুদ্রণের সময় সর্বদা ইটালিক অক্ষরে লিখতে হবে। যেমন: Corchorus capsularis।
পাট গাছের বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতিক নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিতে হবে। যেমন: Corchoruscapsularis।
যদি কয়েকজন বিজ্ঞানী পাট গাছের বিভিন্ন নামকরণ করেন, তবে অধিকার আইন অনুসারে প্রথম বিজ্ঞানী কর্তৃক প্রদত্ত নামটি গৃহীত হবে।
যিনি প্রথম পাট গাছের বিজ্ঞানসম্মত নাম দিবেন, তার নাম ও প্রকাশের সাল উক্ত জীবের বৈজ্ঞানিক নামের শেষে সংক্ষেপে সংযোজন করতে হবে।
(vi) "উদ্দীপকের A ও F শ্রেণিবিন্যাসগতভাবে ভিন্ন"— বিশ্লেষণ করো। ৪ মার্ক
উত্তর
উদ্দীপকে উল্লিখিত 'A' হলো মানুষ যা অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের এবং 'F' হলো ইস্ট যা ফানজাই রাজ্যের অন্তর্গত। এদের বৈশিষ্ট্যগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় শ্রেণিবিন্যাসে এদের অবস্থান ভিন্ন। নিচে অবস্থানের ভিন্নতার কারণ বিশ্লেষণ করা হলো—
ইস্ট ক্লোরোফিল বিহীন এবং মৃতজীবী অপুষ্পক উদ্ভিদ। এদের কোষপ্রাচীর কাইটিন নির্মিত। এদের দেহে কোনো ভাস্কুলার বান্ডল থাকে না। হ্যাপ্লয়েড স্পোরের মাধ্যমে ইস্টের বংশবৃদ্ধি হয়। ইস্টে এ বৈশিষ্ট্যগুলো ফানজাই রাজ্যে দেখা যায়। এ কারণে শ্রেণিবিন্যাসে ইস্টের অবস্থান ফানজাই রাজ্যে।
মানুষ হলো সুকেন্দ্রিক বহুকোষী প্রাণী। এদের কোষে কোনো জড় কোষপ্রাচীর নেই। এরা পরভোজী। প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে এরা বংশবৃদ্ধি করে। মানুষের এ সকল বৈশিষ্ট্য অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের অন্তর্গত। অর্থাৎ শ্রেণিবিন্যাসে মানুষ এর অবস্থান অ্যানিমেলিয়া রাজ্যে।
সুতরাং জীব দুটির বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারণেই শ্রেণিবিন্যাসে তাদের অবস্থানও ভিন্ন।
📚 শব্দকোষ — Vocabulary Grid
জীবাশ্ম বিজ্ঞান
Palaeontology
প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ ও জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
হিস্টোলজি
Histology
টিস্যুর গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলি সম্পর্কিত শাখা।
শারীরবিদ্যা
Physiology
জীবদেহের জৈব রাসায়নিক কার্যাদি ও শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ সম্পর্কিত শাখা।
বাস্তুবিদ্যা
Ecology
জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কিত শাখা।
বিবর্তনবিদ্যা
Evolution
পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ ও ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ আলোচনার শাখা।
শ্রেণিবিন্যাস
Taxonomy
সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্তকরণ।
দ্বিপদ নামকরণ
Binomial Nomenclature
গণ ও প্রজাতির দুটি পদ ব্যবহার করে জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ পদ্ধতি।
ICBN
International Code of Botanical Nomenclature
উদ্ভিদের নামকরণের আন্তর্জাতিক বিধিমালা।
ICZN
International Code of Zoological Nomenclature
প্রাণীর নামকরণের আন্তর্জাতিক বিধিমালা।
প্রজাতি
Species
পরস্পরের মধ্যে মিলনে উর্বর সন্তান উৎপাদনে সক্ষম একদল জীব।
হেটেরোট্রফিক
Heterotrophic
যেসব জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না, অন্যের উপর নির্ভরশীল।
আদিকোষী
Prokaryote
যে জীবের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস নেই।
ইউক্যারিওট
Eukaryote
যে জীবের কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস আছে।
কাইটিন
Chitin
ফানজাই রাজ্যের কোষপ্রাচীর গঠনকারী রাসায়নিক পদার্থ।
🎯 Quick Revision — পরীক্ষার আগে দেখো!
জীবাশ্ম বিজ্ঞান = প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ + জীবাশ্ম।
শারীরবিদ্যা = ভৌত শাখা কারণ এটি তড়িৎ বিষয় নিয়ে আলোচনা করে।